Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৫ আশ্বিন ১৪২৫, ৯ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

কাজানের স্টেডিয়ামে ইরানি তরুণীরা

ড. আব্দুর রহমান সিদ্দিকী | প্রকাশের সময় : ১৫ জুলাই, ২০১৮, ১২:০২ এএম

চার বছর পর আবার ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে পৃথিবীর দেশে দেশে মানুষ মেতে উঠেছে আনন্দ-উল্লাসে। এই বিশ্বপাক এখন প্রথাগত খেলাধুলা আন্তর্জাতিক থেকে উৎসবের পর্যায়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়গণ এতে যেমন এক দিকে তাদের সেরা পদ-চাতুর্য ও ক্ষিপ্রতার যাদু দেখানোর চেষ্টা করেন তেমনি বিশ্বের নানা দেশ থেকে খেলা উপভোগ করতে আসা লাখো ফুটবলপ্রেমী বিচিত্র রং-ঢংয়ের পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধান করে, আজব মুখোশ এঁটে কিংবা মাথায় অদ্ভুত রং-বেরংয়ের ক্যাপ/পরচুলা পরে মজা করেন। এমন কি কেউ কেউ গা-গতর আধা উদোম করে স্টেডিয়ামে দলে দলে হাজির হন। নিজের দেশ বা প্রিয় দলের পক্ষে নেচে গেয়ে মাতোয়ারা হয়ে উঠেন। গোলপোস্টের কাছাকাছি বল চলে গেলে কিংবা বল জালের মধ্যে ঢুকে পড়লে নারী-পুরুষ সমর্থকরা উদ্দাম-উল্লাসে-উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন। খুশিতে জড়াজড়ি-গড়াগড়ি করে, নিজদেশের পতাকা প্রদর্শন করে বা প্রিয় দলের জার্সি হাতে নিয়ে হৈ-হুল্লোড়ে নরক গুলজার করে ফেলেন। কে যে নারী, কে পুরুষ, কে কোন দেশি, কোন জাতির এসব তখন প্রায় ভুলে দিয়ে তারা বেদিশা-বেসামাল হয়ে ওঠেন। নিজ চোখে না দেখলে (অন্তত টিভির পর্দায়), এহেন উন্মাদনার বয়ান দেয়া কঠিন।
এবার খেলা হচ্ছে রাশিয়ার মাটিতে। সেখানে জড়ো হয়েছে বিশ্বের নানান দেশের ফুটবলপ্রেমী নারী-পুরুষেরা। তবে অবাক হওয়ার মতো কান্ড হলো বিশ্বের একমাত্র ‘ইসলামী বিপ্লবের’ দেশ ইরানী তরুণীরা সেখানে শ’য়ে শ’য়ে হাজির হয়েছেন। স্টেডিয়ামে চেনা-অচেনা হাজারো পুরুষের সাথে গ্যালারিতে হাজির হয়ে এরাও বিশ্বকাপের জ্বরে কাঁপছেন থরো থরো। আরো অবাক হওয়ার মতো বিষয় হলো, তারা স্টেডিয়ামে হাজির হয়েছেন চুল ছেটে বয়কাট করে, জিন্স প্যান্ট পরে, টি-শার্ট গায়ে চাপিয়ে। আবার অনেকেই গালে ইরানী জাতীয় পতাকার রংয়ের সাথে মিলিয়ে রং মেখেছেন। তদুপরি গায়ের ওপর কায়দা করে ইরানী জাতীয় পাতাকা এমনভাবে জড়ানো যে, সহজে বোঝার উপায় নাই দর্শকটি যুবক না যুবতী। পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে, স্টেডিয়ামের গেটে বেরসিক পুলিশ পুরুষের পোশাকধারী বা ছদ্মবেশি পাঁচমিশালী ঢংয়ের ইরানী মেয়েদের চেহারা সনাক্ত করে প্রবেশে বাঁধা দেয়। কিন্তু ইরান থেকে সুদূর কাজানে আসা এই চেহারা পাল্টানো মেয়েদের ঠেকায় এমন পুলিশ দুনিয়ার কোথায় আছে? ঝগড়াঝাটি, ধাক্কা-ধাক্কী করে ইরানী রূপসী তরুণীরা নিজেদের অধিকার আদায় করে ছেড়েছে। আসন নিয়েছে গ্যালারিতে। তার পর যা হয়- অন্য সহস্র দর্শকের মতই সব বেশবাসের আড়াল ছুঁড়ে ফেলে তারাও চিৎকার, হৈ-হুল্লোড়, লম্ফ-ঝম্ফতে অংশ নিয়েছে।
ইরানের এইসব ফুটবল পিয়াসী নারীরা দেশ থেকে নাকি কায়দা-কৌশল করে রাশিয়ার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েছে। ইরানী কর্তৃপক্ষ মোটেই টের পায় নাই। ইরানী এই যুবতীরা (সঙ্গে নিশ্চয় যুবকরাও ছিল) খেলা দেখতে গেছেন কাজানের স্টেডিয়ামে। কাজান রুশ ফেডারেশনের একটি অঞ্চল। অন্তত ৫০/৫৫ বছর আগে রুশ সাহিত্য পড়তে গিয়ে কাজান, আসতারাখান, বাসকিরিয়া, দাগেস্তান, চেচনিয়া প্রভৃতি দেশের নাম জেনেছিলাম। এই অঞ্চল/দেশগুলো বরাবরই মুসলিম অধ্যুষিত, অত্যাচারী সম্রাট জার এই অঞ্চল/দেশগুলো গায়ের জোরে দখল করে নেন। ফলে এই অঞ্চলে মুসলিম প্রতিরোধ বাহিনী গড়ে উঠেছিল ১৮ শতকেই। বিদ্রোহীরা জারের জুলুম-অত্যাচারের শিকার হয়েছে বরাবর। মুসলিম অঞ্চল হিসেবে কাজানেরও পরিচিতি ছিল। এই অঞ্চলটি ইরানী ভূ-খন্ড থেকে অপেক্ষাকৃত কাছাকাছি। নাস্তিক সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত রাশিয়া কাজানের মানুষদের প্রতিবিপ্লবী বলে জ্ঞান করেছে।
আফসোস! ইরান সরকার, সরকারের নানান বাহিনী, সংস্থাগুলোর কেউ টেরটিও পেল না যে, এতোগুলো মেয়ে কেন হঠাৎ করে রাশিয়া/কাজানে চলে যাচ্ছে। জানি না এটা কী সরকারের ইচ্ছাকৃত শৈথিল্য, নাকি অসতর্কতা, না অন্যকিছু। যদি অসতর্কতা হয় তবে বলতেই হয় ইরানের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব আজ কতটা সুরক্ষিত। আর যদি শৈথিল্য হয় তবে প্রশ্ন জাগে, তা হলে ইমাম খোমেনীর ইসলামী বিপ্লবের কী হলো?
ইমাম খোমেনীর নেতৃত্বে এবং বহু বিদগ্ধ আলেম, উস্তাদ ও বিপ্লবী মানুষের জানবাজী রাখার মধ্য দিয়ে ইসলামী বিপ্লব সম্পন্ন হয়। এতে প্রাণ দিয়েছেন হাজারো ইসলাম প্রিয় পুরুষ ও হিজাবধারী ইরানী বিপ্লবী নারী। ইরানের আড়াই হাজার বছরের শাহী দুঃশাসনের ধ্বংসস্তূপের উপর ইমাম খোমেনী উড্ডিন করেন ইসলামী বিপ্লবের পতাকা। বিশ শতকে কোন ইসলামী বিপ্লব যে ঘটানো সম্ভব তা ছিল অনেকটাই কল্পনাতীত। পশ্চিম পন্ডিত ও রাষ্ট্রনায়কেরা বিশ্বাসই করতে চান নাই যে, এমনটা ঘটতে পারে। এই বিপ্লব ছিল এমন ধারণাতীত বিষয় যে সমস্ত পাশ্চাত্য কেঁপে উঠেছিল। এই বিপ্লবকে নস্যাৎ করার জন্য হাজার একটা কায়দা-কৌশল তারা খাটিয়েছে। চালিয়েছে নানা প্রপাগান্ডা। যুদ্ধ পর্যন্ত চাপিয়ে দিয়েছে ইরানের উপর। কিন্তু ইমাম খোমেনীর দৃঢ়তা, উলেমাবৃন্দের সমর্থন, বাসিজ, বিপ্লবী গার্ডবাহিনী, শহিদী জজবায় উদ্বুদ্ধ-লাখো গণমানুষের ত্যাগের বিনিময়ে এই ইসলামী বিপ্লব টিকে যায়। অন্তত প্রেসিডেন্ট আহমেদী নেজাদের সময় কাল পর্যন্ত ইসলামী বিপ্লবের সুবাতাস অনুভ‚ত হতো বহুদূর থেকেও। ‘ইনকিলাব জিন্দবাদ’ আওয়াজ আজাদী স্কোয়ার থেকে বহু হাজার মাইল দূর থেকেও শোনা যেত। বিপ্লবের পতাকা সমুন্নত রাখার আপ্রাণ কোসেশ পরিলিক্ষিত হয়েছে গণ মানুষের কার্যক্রমে।
এখন সেই ইমাম খোমেনীর দেশের তরুণী-যুবতী মেয়েরা লম্বাচুল ছেঁটে ফেলে জিন্স পরে গোলাবী গালে শিল্পীর হাত দিয়ে তিন রঙা জাতীয় পতাকার ছবি এঁকে নিয়ে আল্লাহর নাম লেখা জাতীয় পতাকা গায়ে জড়িয়ে নিজেকে আড়াল করে কাজানের স্টেডিয়ামে হাজির। এরা কোন ইরানের মেয়ে? আর সেই ইরানকে বিধ্বস্ত করার জন্য পশ্চিমী যুদ্ধবাজ রাষ্ট্রনায়ক বা বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিকের যে কোন প্রয়োজন নেই তা সহজে অনুমেয়। আর যে দেশের মেয়েরা এমন করে হিজাব ছুঁড়ে ফেলে ভিনদেশে তামাশা দেখতে যায় সেই ইরান কারা শাসন করে, কোন শ্রেণীর আলেম/শাসক তারা। বিশাল পাগড়ী ও শুভ্র শশ্রুধারী জোব্বাজাব্বা পরিহিত যে বিশিষ্টজন প্রেসিডেন্টের আসনে অধিষ্ঠিত তিনি কি এই যুবতী নারীদের রাশিয়ার স্টেডিয়ামে যাওয়া অনুমোদন করেন? প্রেসিডেন্টের নিয়ন্ত্রণাধীন রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বাহিনীর ক্ষমতাধর সদস্য/অধিনায়কগণ কি সমর্থন করেন যে ইসলামী বিপ্লবের মুখে চুনকালী মেখে দিয়ে যে সব উদ্ভিন্ন যৌবনা বেশরম আওরত মহান আল্লাহর নাম খচিত পতাকা গায়ে জড়িয়ে হাজারো বেগানা মর্দের সাথে ঠাসাঠাসি করে বসে খেলা দেখুক, থেকে থেকে গোল, গোল বলে চিৎকার করে উঠুক, উল্লাসে হাততালি দিক আর গা থেকে খসে পড়–ক ঐ পতাকা? এসব কি ইসলামী বিপ্লবের মূল স্পিরিটের সাথে যায়? ইমাম খোমেনীর জীবন-সাধনা, চিন্তা-দর্শন কি কাজানের স্টেডিয়ামে হাজির ইরানী ললনাদের আচরণের সাথে মেলে? দার্শনিক মর্তুজা মুতাহারী বা সমাজবিজ্ঞানী আলী শরিয়াতীর মত মহান ইসলামী চিন্তাবিদগণের লেখালেখি, আদর্শবোধ ও আত্মত্যাগের সাথে কাজানের স্টেডিয়ামে ফুটবল খেলা নিয়ে ইরানী মেয়েদের বেপর্দা-বেপরোয়া উম্মাদনার সাজুয্য আছে কি? যে দেশের সরকার মহা আড়ম্বরে আদর্শতম নারী নবী দুলালী হযরত ফাতেমা (রা.) এর ওফাত দিবস পালন করে সেই দেশের সরকারের চোখের সামনে ফুটবল খেলা দেখার নামে পশ্চিমা অর্ধ-নগ্ন নারীদের সাথে তাল মিলিয়ে ইরানী মেয়েরা গোল, গোল বলে কি চিৎকার করতে পারে? আটলান্টিকের ওপার থেকে আসা মেয়েদের ‘সাম্বার’ নামে বেলেল্লা, দেহ প্রদর্শনীর প্রতিযোগিতায় সমাগত নারীদের সারিতে ইসলামী ইরানের মেয়েরা কীভাবে বসতে পারে! এই সব জিজ্ঞাসার জবাব কি ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের আছে? এটা খেলা দেখা নয়, এক শ্রেণীর ইরানী নারীর যৌবনের খেলা দেখানো। রাষ্ট্র এদের সংযত করতে ব্যর্থ হয়েছে।
ইসলামী বিপ্লবের পর একাধিক বার ইরানের নানা অঞ্চল বক্ষমান নিবদ্ধকারের ঘুরে দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। সে সময় দেখা গেছে প্লেন তেহরানের মাটি স্পর্শ করার আগেই ঘোষণা ভেসে আসতো যে, ইরান শরীয়তের আলোকে নারীদের দেহকে আবৃত দেখতে পছন্দ করে। তাই নারী যাত্রীগণ যেন সেই রাষ্ট্রীয় নীতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন। তখন দেখা যেত যে কেবিন ক্রুরা হিজাববিহীন নারী যাত্রীদের নির্বিশেষে একটা করে হিজাব হাতে ধরিয়ে দিচ্ছেন। এরকমও দেখা গেছে, যে ইরানের রাস্তাঘাটে, অফিসে, ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে, মার্কেটে, হোটেলে নারীরা কাজ করছেন। নারীরা মহাসড়কে দ্রুত গাড়ী ড্রাইভ করে চলে যাচ্ছেন- এদের শুধু দুটো চোখ অনাবৃত রয়েছে। তাজরিশের আনারকলি মার্কেটে (কেবল নারীদের শপিং সেন্টার) পুরুষদের প্রবেশাধিকার নাই, ক্রেতাবিক্রেতা শুধুই নারী। সেই দেশের নারীরা সামান্য ফুটবল খেলা দেখার জন্য আপত্তিকর ভঙ্গিতে দেহ দুলানোর জন্য, কদর্য চিৎকার দিয়ে হাজারো পুরুষের সামনে আনন্দ-উচ্ছ্বাস প্রকাশ করার জন্য শতশত মাইল পথ পাড়ি দিয়ে কাজানে পৌঁছে গেছেন। আরো যে কোথায় কোথায় তারা পৌঁছে গেছেন তা আল্লাহ আলিমুল গায়েবই উত্তম জানেন। ইসলামী ইরানের দক্ষ প্রশাসকগণ কি ঘুমিয়ে ছিলেন? নাকি ধরেই নেব, মাত্র চার দশকেই ইরান ইমাম খোমেনীর মহাবিপ্লব থেকে সরে এসেছে, বিপ্লবের গিঁট কি ঢিলে হয়ে গেছে? ইমাম খোমেনী তো ঘোষণা দিয়েছিলেন যে মুসলিম দেশে দেশে ইসলামী বিপ্লব রপ্তানী করা হবে (অবশ্য এই ঘোষণা আক্ষরিক ছিল না)। এই কাজানে যাওয়া মেয়েরা কি সেই রপ্তানী প্রক্রিয়ার একট উদাহরণ! তবে কি মনে করা যায় যে, দুর্মর শাহের আমলের মত উৎকট ভোগবাদী জামানায় ফিরে যাওয়ার খায়েশ ইরানীদের মধ্যে আবার জেগে উঠছে। কাজান অভিযাত্রা কি তারই আগাম নমুনা? ইসলাম নারীর অধিকার সবার আগে এবং সবথেকে বেশি করে স্বীকার করেছে। নারীরা নিজের আমোদ-প্রমোদ, চিত্তবিনোদন করার এমনকি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতেও বাধা দেয় না। তবে তার সীমারেখা নির্ধারণ করে দিয়েছে। ইসলাম নারীকে যেভাবে উপস্থাপন করেছে তার মধ্যেই থাকা তাদের জন্য সম্মানজনক ও যথার্থ। অন্যথায় তারা পথভ্রষ্ট হবেন, অসম্মানিত হবেন, ফাসেকদের দলভুক্ত হতে পারেন। এখন যাদের জন্য ইসলামী বিপ্লবের দেশ ইরানের নারীরা পথভ্রষ্ট হবেন তাঁরা জবাবদিহিতার উর্ধ্বে থাকতে পারেন? যে পতাকায় মহান আল্লাহর নাম খচিত রয়েছে সে পতাকাকে বেপর্দা বেআব্রæ হওয়ার উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ যাঁরা দিলেন এবং সেই সুযোগ যারা নিয়েছেন তারা কি শেষ বিবেচনায় রেহাই পেতে পারেন?
মনে হয়, ইরানের নতুন প্রজন্ম পশ্চিমাদের মতো অবাধ ভোগবাদীতা, নগ্নতা, যযেচ্ছাচারীতার সুযোগ পেতে চায়। এরা কেউ বিপ্লবপূর্ব ইরানকে দেখে নাই, সেই দুঃসময়ের অবস্থা সম্ভবত অবগত নয়। তারা শাহের দুঃশাসন, সাভাকের নিষ্ঠুর নিপীড়ন সম্পর্কে সম্যক অবগত নয়। একদা ইরানের অনিন্দ্য সুন্দর তরুণীরা পাশ্চাত্যের সুখ-শিকারীদের প্রিয় টার্গেট ছিল। তখন ইরানের বড় বড় শহরের রাস্তার মোড়ে মোড়ে আলো ঝলমল গন্ডা গন্ডা বার, ক্যাসিনো ছিল, যেখানে সন্ধ্যার পর মদ ও নারীদেহের পসরা জমে উঠত- এসবের মূল খরিদ্দার ছিল পশ্চিমের ইহুদি-নাসারা নাস্তিকেরা। এসব যারা জানেন না তারাই ইরানী তরুণীদের রাশিয়ায় খেলা দেখতে যাওয়ার মধ্যে কোন দোষ খুঁজে পাবেন না। যে নতুন প্রজন্ম শাহের আমলের অপমান, লাঞ্চনা, পীড়ন, অবদমন, বৈষম্য ও নগ্নতা চর্চার ইতিবৃত্ত অবগত নন তারাই নারীদের বিশ্বকাপ দেখতে যাওয়ার উচ্ছৃঙ্খল প্রদর্শনের মধ্যে মন্দ কিছু দেখতে পাবেন না।
পাশ্চাত্যের বিখ্যাত গণযোগাযোগ মাধ্যম বিশেষজ্ঞ প্রফেসর মেলভিন দ্য ফ্লুর তত্ত¡ দিয়েছেন যে, একটি সমাজকে ধর্ম নিরপেক্ষতার দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য তরুণদের মধ্যে প্রচুর খেলাধুলার আয়োজন-উৎসব খুবই কার্যকর একটি কৌশল। তার এই বক্তব্য থেকে এরকম ধারণা করা যায় যে, উন্মাতাল খেলাধুলা মানুষের মধ্যে বিদ্যমান চিরাচরিত ধর্মীয় মূল্যবোধসমূহকে অবক্ষয়ের দিকে নিয়ে যায়, ধর্মবোধহীনতা, স্বাতন্ত্র্যবোধহীনতার দিকে মানুষকে ঠেলে দেয়। ব্যক্তি মানুষ নিজের অজান্তে আপন ধর্মানুভ‚তি, আবেগ ও বিধি-বিধানকে উপেক্ষা করতে থাকে। এক সময় তা পুরোপুরি হারিয়ে যায়।
যথার্থ চিত্তবিনোদন ও শরীর গঠনের জন্য খেলাধুলা ও আনন্দ-উল্লাসের প্রয়োজন অনস্বীকার্য। কিন্তু সেই খেলাধুলা যখন বিশ্ব বাণিজ্যের অংশ হয়ে উঠে, কিংবা যখন অশ্লীলতা ও নগ্নতার উপলক্ষ হয়- নারীদের সীমা অতিক্রমে আনুকুল্য করে তখন তাতে অংশগ্রহণের বিষয়ে মুসলমানদের দ্বিতীয়বার চিন্তা করা, রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের আবশ্যকতা রয়েছে। তদুপরি, খেলাধুলা নিয়ে অধিক উন্মাদনা মানুষকে আধ্যাত্মিক দিক থেকে অন্তঃসারশূন্য করে ফেলে। নিঃশেষ করে দেয় মননশীলতাকে। মানুষকে সাময়িক উত্তেজনা ও ভোগের ভাগাড়ে নিক্ষেপ করে। মানবিক বিষয়সমূহ বস্তুবাদিতার আবর্জনার নিচে চাপা পরে যায়, জাতি হতে পারে লক্ষ্যভ্রষ্ট।
ফিফাসহ এধরনের বিশ্ব খেলুড়ে সংস্থাগুলো মুসলিম দেশগুলোর মেয়েদের ইদানীং খোলামেলা খেলার মাঠে নামতে অনুপ্রাণিত, এমনকি বাধ্য করছে। এজন্য দেদার টাকা-পয়সা ঢালছে। স্পষ্টতঃ এদের মতলব অত্যন্ত খারাপ। মুসলমানদের আদর্শচ্যুত করাই ঐ সংস্থাগুলোর আসল লক্ষ্য। এদের ফাঁদে কোন মুসলিম অধ্যুষিত দেশের পা না দেওয়াই উচিত।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ