Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫, ৮ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

সোজা পথে হাঁটুন সরকারকে মির্জা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৬ জুলাই, ২০১৮, ১২:০০ এএম

সরকারকে সোজা পথে হাটার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অনৈতিক পথে হাঁটবেন না। সোজা পথে হাঁটুন। কারণ, আপনারা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দিয়েছেন। আপনারা নোংরা কৌশল থেকে বের হয়ে এসে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। গণতন্ত্রের পথে আসুন। গতকাল (রোববার) সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দলীয় নেতৃত্ব ও নির্বাচন থেকে সরাতে সরকার দলীয় গঠনতন্ত্রের ৭ ধারা নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। মূলত, বিএনপিকে সবদিক থেকে বেকায়দায় ফেলতে এ অপতৎপরতা শুরু করেছে সরকার। তিনি আরও বলেন, বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭ ধারার মতো নির্বাচন কমিশন অনুরূপ একটি ধারা চালু করছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে বিএনপি জানতে পেরেছে। এর উদ্দেশ্য বিএনপির নেতৃত্ব থেকে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে সরানোর পদক্ষেপ নেওয়া। বিএনপি ও খালেদা জিয়াকে বাইরে রেখে নির্বাচন করে ক্ষমতা দখল করার জন্য এই অপতৎপরতা শুরু করা হয়েছে।
নির্বাচন নিয়ে সরকার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, বিএনপিকে বিপর্যস্ত করতে ষড়যন্ত্রের পথে হাঁটছেন শেখ হাসিনা। মঈন-ফখরুদ্দীন যে কায়দায় বিএনপি’র বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করেছিল সেই একই কায়দায় এখন পুনরায় বিছানো হচ্ছে ষড়যন্ত্রের জাল। বিএনপির বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করা হবে। এরই অংশ হিসেবে সরকারের সংস্থাগুলো নানামূখী তৎপরতায় যুক্ত হয়ে পড়েছে। এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে, সরকার তার বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে বিএনপির দলীয় গঠনতন্ত্র এবং নির্বাচন কমিশনের আরপিও সংক্রান্ত কিছু উদ্দেশ্যপূর্ণ রিপোর্ট গণমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশ করার জন্য মাঠে নেমেছে। তিনি আরও বলেন, ১৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়েও আওয়ামী লীগের মন্ত্রী মোফাজ্জাল হোসেন চৌধুরী মায়া ও সাবেক মন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর দলীয় ও সংসদীয় পদে বহাল আছেন। কিন্তু এটাতে কোনো দোষ নেই। শুধু দোষ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার। তাঁকে একটি সাজানো মামলায় দীর্ঘদিন আটকে রাখা হয়েছে।
ফখরুল ইসলাম বলেন, বিএনপি গঠনতন্ত্রের ৭ ধারা সংশোধন করেছে বলে ১১ জুলাই সংসদে দেওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য অলীক, অবাস্তব। সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য একটি গভীর চক্রান্তের অংশ। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ দেউলিয়া হয়ে গেছে। এটা এখন আর কোনো রাজনৈতিক দল নেই। এ দলের মাঝে আর রাজনীতি বলে কোনো শব্দ অবশিষ্ট নেই। আওয়ামী লীগ মনে করেছে, খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেওয়ার পর বিএনপি ধ্বংস হয়ে যাবে। কিন্তু তাদের সে স্বপ্ন পূরণ না হওয়ায় তারা এখন নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।
খালেদা জিয়ার সাথে সরকার বর্বরোচিত আচরণ করছে অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা বুঝি না কোন ধরণের রাজনীতি, কোন ধরনের প্রতিহিংসা হলে এতো বড় প্রতিহিংসা। একজন অসুস্থ মানুষ, ৭৩ বছর বয়স তাকে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। পৃথিবীর কোনো সভ্য দেশে এই ধরনের ব্যবস্থা চলতে পারে না। এরা বর্বরোচিত আচরণ করছে। এদের আচরণ বর্বরের সাথে তুলনা করা যায় অন্য কারো সাথে নয়। দেশনেত্রীকে একটা নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছে- এটা কখনো গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এটা মানবাধিকার লঙ্ঘন।
তিনি বলেন, গত কয়েকদিন ধরে দেশনেত্রী জ্বরে আক্রান্ত ও তার হাটুর ব্যথা বেড়ে গেছে বলে স্বজনরা শনিবার তার সাথে দেখা করতে পারেননি। আজকে প্রায় ১৩ দিন তার স্বজনদের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ হচ্ছে না। আমরা আবারো সরকারকে বলছি, অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন ও তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করুন।
মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার চায় খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিতে। এ জন্য তাঁর শারীরিক অবস্থা কঠিনতর দিকে নিয়ে যাচ্ছে। বারবার অনুরোধ করা হলেও তাঁকে পছন্দমতো হাসপাতালে চিকিৎসা দিচ্ছে না। খালেদা জিয়ার কিছু হলে এর দায় শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকারকে নিতে হবে। এসময় সংবাদ সম্মেলনে দেশনেত্রীর চিকিৎসা না দেয়া, কারামুক্তি না দেয়া এবং তার সঙ্গে অবর্ণনীয় ও অমানবিক আচরণ করার প্রতিবাদে আগামী শুক্রবার ২০ জুলাই ঢাকাসহ সারাদেশে জেলা ও উপজেলা সদরে বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, ২০ জুলাই বিকাল তিনটায় আমাদের নয়া পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ আহবান করছি।
প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রচারণার প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী একতরফাভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। উনি (প্রধানমন্ত্রী) ইচ্ছামতো ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং জনসভা করছেন। জনসভার মধ্যে তার যে প্রচারণা, সেই প্রচারনা চালাচ্ছেন। অন্যদিকে বিরোধী দলকে তারা কোনো স্পেস দিতে চান না, দিচ্ছেন না। শনিবার জিয়া পরিষদের ছোট একটা প্রোগ্রাম, সেটাও করতে দেয়নি। কোথাও কোনো জনসভা, কোথাও কোনো মিছিল তারা করতে দিচ্ছে না। এটা অসহনীয় পরিবেশ, এর থেকে আমাদের মুক্ত হতে হবে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে জনগণকে সংগঠিত করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ।###



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ