Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৮, ৩০ আশ্বিন ১৪২৫, ০৪ সফর ১৪৪০ হিজরী

কি আছে পাকিস্তানের ভাগ্যে আল্লাহই ভালো জানেন

মোবায়েদুর রহমান | প্রকাশের সময় : ১৭ জুলাই, ২০১৮, ১২:০১ এএম

এর মধ্যেই আপনারা খবরের কাগজে পড়েছেন এবং টেলিভিশনে দেখেছেন যে, গত ১৩ জুলাই রাতে লন্ডন থেকে লাহোর বিমান বন্দরে নামলে বিমানের মধ্যেই পাকিস্তানের তিন বারের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ এবং তার কন্যা তারই আসনে আগামী ২৫ জুলাই নির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্বতাকারী মরিয়ম নওয়াজকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার করে তাদের এখন আদিয়াল সাব জেলে রাখা হয়েছে। তবে এই গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে নওয়াজ শরীফ যা করলেন সেটি পাকিস্তানের গণতন্ত্রের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং রাজপথে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতা ও কর্মীদের জন্য শিক্ষণীয় নজির হয়ে থাকবে। গত ১৩ জুন নওয়াজ শরীফ তার কন্যা সহ লন্ডন যান, সেখানে ক্যান্সারে আক্রান্ত এবং সেখানেই চিকিৎসারত তার স্ত্রী কুলসুম নওয়াজকে দেখতে। সেখানেই গত ৬ জুলাই তার কন্যা মরিয়ম এবং তার সাবেক অর্থমন্ত্রীসহ তাদের কারাদন্ডের খবর শোনেন। উল্লেখ করা যেতে পারে যে, গত ৬ জুলাই পাকিস্তানের ন্যাশনাল এ্যাকাউন্টিবিলিটি ব্যুরো বা জবাবদিহিতা ব্যুরোর অভিযোগ মোতাবেক নওয়াজকে ১০ বছরের এবং তার কন্যাকে ৭ বছরের কারাদন্ডে দন্ডিত করা হয়। মরিয়মের স্বামী সেনাবাহিনীর প্রাক্তন ক্যাপটেনকে এক বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয়। সেই অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপটেন এখন জেলে আছেন। নওয়াজ শরীফ এবং মরিয়ম নওয়াজ লন্ডনে ৪টি ফ্ল্যাট কিনেছেন। বলা হয়েছে যে, এসব ফ্ল্যাট কিনতে যত টাকা খরচ হয়েছে তত টাকা নওয়াজ ও মরিয়মের আয়ের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তাই দুর্নীতির অভিযোগে তাদের এই কারাদন্ড হয়েছে।
এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, আগামী ২৫ জুলাই পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে পাকিস্তানের পার্লামেন্ট গঠনে যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে সেই দলই পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার গঠন করবে। নওয়াজ শরীফ গত নির্বাচনে দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় জয় লাভ করেছিলেন। এরপর গত বছরে পানামা পেপার্সে প্রকাশিত দুর্নীতির অভিযোগে পাকিস্তানের সুপ্রীম কোর্ট নওয়াজকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় দেয়। ফলে নওয়াজ শরীফকে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়তে হয়। কিন্তু পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় নওয়াজের দল থেকেই সাহিদ খাকান আব্বাসী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন। প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তেফা দিলেও নওয়াজ শরীফই মুসলিম লীগের প্রেসিডেন্ট এবং দলটির একচ্ছত্র নেতা হিসাবে নেপথ্যে থেকে সরকার ও দল পরিচালনা করেন। এরপর পাকিস্তানের ফেডারেল কোর্ট আবার রায় দেয় যে, নওয়াজ শরীফ মুসলিম লীগের প্রেসিডেন্টও থাকতে পারবেন না। সুতরাং তাকে মুসলিম লীগের প্রেসিডেন্ট পদও ছাড়তে হয়।
এত কিছুর পরেও নওয়াজ শরীফ এবং সেই সুবাদে মুসলিম লীগের জনপ্রিয়তা অটুট ছিল। ২০১৭ সালে তাকে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়তে হওয়ায় তার আসনে উপনির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করেন তার স্ত্রী কুলসুম নওয়াজ এবং তিনি নির্বাচনে জয় লাভ করেন। আসলে কুলসুমেরই নওয়াজ শরীফের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার কথা ছিল এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম লীগের প্রেসিডেন্ট হওয়ারও কথা ছিল তারই। কিন্তু নির্বাচনের পর পরই তার গলায় ক্যান্সার ধরা পড়ে এবং চিকিৎসার জন্য তাকে লন্ডন পাঠানো হয়। চিকিৎসকরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, কুলসুমের এই ক্যান্সারটি নিরাময়যোগ্য এবং তিনি সম্ভবত ভালো হয়ে যাবেন। তবে দুই চারদিন আগে তিনি কোমায় ছিলেন। নওয়াজ এবং তার স্ত্রী উভয়েরই অনুপস্থিতির কারণে তার ৪৪ বছর বয়সী কন্যা মরিয়ম নওয়াজ পিতার ঐ আসনে আগামী ২৫ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে লড়ছেন।
দুই
এর মধ্যে লন্ডনে বসে তারা খবর পান যে, তাদের দুজনের কারাদন্ড হয়েছে এবং তারা যদি পাকিস্তানে আসেন তাহলে তাদের গ্রেফতার করা হবে এবং জেল খাটতে হবে। মরিয়মের স্বামী রায় ঘোষণার সময় পাকিস্তানে ছিলেন। তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং কারাগারে পাঠানো হয়েছে। লন্ডনে বসে নওয়াজ এসব খবর শোনেন এবং এও শোনেন যে, দেশের মাটিতে অবতরণ করলে তাকে এবং তার মেয়েকেও গ্রেফতার করা হবে। এই ধরনের খবর শুনে দেশ-বিদেশের অনেক পলিটিশিয়ানকে দেখা যায় যে, তারা গোপনে দেশত্যাগ করেছেন। আর যদি ঐ সময় তারা বিদেশে অবস্থান করেন তাহলে বিদেশেই থেকে যান, স্বদেশে আর ফিরে আসেন না। এভাবেই তারা জেল-জুলুম এড়িয়ে চলেন। কিন্তু এক্ষেত্রে নওয়াজ শরীফ দুঃসাহসের পরিচয় দিয়েছেন। তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে, তিনি গ্রেফতার হওয়া এবং জেল খাটার জন্য প্রস্তুত। তিনি এবং তার কন্যা যদি গ্রেফতার হন এবং কারাগারে নিক্ষিপ্ত হন তাহলে দলের নেতাকর্মীরা বরং উজ্জীবিত এবং চাঙ্গা হবেন। নির্বাচনের ১০/১১ দিন পূর্বে তিনি যদি পাকিস্তান যান ্এবং গ্রেফতার হয়ে কারাগারে নিক্ষিপ্ত হন তাহলে সেটি তার দলের বিজয়কে আরো সুনিশ্চিত করবে। এজন্য দলের স্বার্থে তিনি এবং তার কন্যা মরিয়ম ব্যক্তিগত বিপদ আপদ এবং নিরাপত্তাকে তুচ্ছ জ্ঞান করেন এবং অসীম সাহসের পরিচয় দিয়ে গত ১৩ জুলাই রাত ১০টা সাড়ে ১০টার দিকে লাহোর বিমান বন্দরে অবতরণ করেন।
গ্রেফতারকে আলিঙ্গন করার জন্য নওয়াজ দেশে ফিরছেন, এই খবর শুনে হাজার হাজার মুসলিম লীগ কর্মী পুলিশী জুলুমকে তুচ্ছ জ্ঞান করে তাদের প্রিয় নেতা নওয়াজকে বরণ করার জন্য বিরাট বিরাট মিছিল নিয়ে লাহোর অভিমুখে রওয়ানা হন। ঐ দিকে লাহোর বিমানবন্দরে এবং গোটা লাহোর শহরে পাকিস্তানের শক্তিশালী নিরাপত্তা বাহিনীসমূহ সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করে। দলের পরিকল্পনা ছিল এই যে, নওয়াজ শরীফ নিরাপত্তাবেষ্টনি লঙ্ঘন করে তার নেতাকর্মীদের মাঝে যাবেন এবং কোনো এক জায়গায় গিয়ে গণ সমাবেশ করবেন। এরপর তিনি একটি সংবাদ সন্মেলন করে সাংবাদিকদের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে তার অবস্থান পরিস্কার করবেন। কিন্তু সেই সুযোগ তিনি পাননি। বিমানটি যখন লাহোর বিমান বন্দরে অবতরণ করে তখন নিরাপত্তা বাহিনীর ১৩ জন সদস্য সর্বাগ্রে বিমানের মধ্যে প্রবেশ করে। তারা প্রথমে অন্যান্য সমস্ত যাত্রীকে নামিয়ে দেয়। তারপর নওয়াজ এবং তার কন্যাকে নিয়ে অদূরে অপেক্ষামান একটি হেলিকপ্টারে উঠিয়ে ইসলামাবাদ চলে যান। সেখান থেকে তাদের আদিয়াল সাব জেল বা কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
এভাবে নওয়াজ শরীফকে গ্রেফতার করা হলেও জনগণের বিক্ষোভ থেমে থাকে না। যে হাজার হাজার ব্যক্তি লাহোর অভিমুখে মিছিল নিয়ে রওয়ানা হয়েছিলেন তাদের পথের মাঝে বাধা দেওয়া হয়। শুরু হয় জনতা ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ। জনতা ইটপাটকেল ছোড়ে, পক্ষান্তরে নিরাপত্তা বাহিনী মুহুর্মুহু টিয়ার গ্যাস ছোড়ে। এই সংঘর্ষে অসংখ্য ব্যক্তি আহত হয় এবং কম করে হলেও ৪০০ মুসলিম লীগ কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়।
তিন
পাকিস্তানের কপালে কি লেখা আছে সেটা আল্লাহই ভাল জানেন। যখন পাকিস্তান অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বাংলাদেশের কেয়ারটেকার সরকার মডেল গ্রহণ করে এবং ২০১৩ সালে কেয়ার টেকার সরকারের অধীনে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠান করে তখন পাকিস্তানের সেই নির্বাচন কালীন সরকার মডেল এবং নির্বাচন সবচেয়ে অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়েছিল বলে পৃথিবীব্যাপী প্রশংসিত হয়েছিল। এই নির্বাচনে নওয়াজ শরীফের মুসলিম লীগ দল দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় জয় লাভ করে এবং নওয়াজ শরীফ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। কিন্তু পাকিস্তানের দুর্ভাগ্যই বলতে হবে যে, দেশটিতে কোনো সময়ই গণতন্ত্রকে শক্ত ভিতের ওপর খাড়া হতে দেওয়া হয়নি এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। দেশটি সব সময় পর্দার অন্তরাল থেকে শাসন করেছে সামরিক ও বেসামরিক আমলারা। স্বাধীনতার ৯ বছর পর ১৯৫৬ সালে দেশটির প্রথম সংবিধান চালু হয়। ততদিন পর্যন্ত অর্থাৎ এই ৯ বছর গোলাম মোহাম্মদ, মেজর জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা প্রমুখ সামরিক ও বেসমারিক আমলা দেশটি পরিচালনা করেন। যদিও খাজা নাজিমুদ্দিন, বগুড়ার মোহাম্মাদ আলী, শহীদ সোহরাওয়ার্দী প্রমুখ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন কিন্তু প্রকৃত ক্ষমতা ছিল আমলাদের হাতে। ১৯৫৬ সালে দেশটিতে সংবিধান গৃহীত হলেও ১৯৫৮ সালে জেনারেল মোহাম্মদ আইয়ূব খান ক্ষমতা গ্রহণ করেন এবং সংবিধান বাতিল করেন। তিনি ১০ বছর ক্ষমতায় থাকেন। তারপর জেনারেল ইয়াহিয়া খানের সামরিক শাসন।
ইয়াহিয়া খানের আমলেই ১৯৭০ সালের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। শেখ মুজিব নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেন। কিন্তু তাকে প্রধানমন্ত্রী হতে দেওয়া হয়নি। তারপর মুক্তি যুদ্ধ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা। খন্ডিত পাকিস্তানে জুলফিকার আলী ভুট্টো প্রথমে দুই বছরের জন্য প্রেসিডেন্ট হন । তারপর ১৯৭৩ সাল থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু তিনিও বেশিদিন ক্ষমতায় থাকতে পারেন নি। ১৯৭৮ সালে সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল জিয়াউল হক ভূট্টোকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করেন এবং মার্শাল ল’ জারি করেন। তিনি ১০ বছর ক্ষমতায় থাকেন এবং ১৯৮৮ সালে এক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হন। ঐ বিমানে পাকিস্তানে কর্মরত মার্কিন রাষ্ট্রদূতও নিহত হন। গুজব রয়েছে যে, আমেরিকা জেনারেল জিয়াউল হককে হত্যা করার জন্য ঐ বিমান দূর্ঘটনা ঘটিয়েছিল।
২০০১ সালে সেনাপ্রধান জেনারেল পারভেজ মোশারফ আবার মার্শাল ল’ জারি করেন এবং ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন নওয়াজ শরীফ। বিদেশ সফর থেকে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ দেশে ফিরছিলেন। তার বিমান যখন মধ্য আকাশে তখন সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে। প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের বিমান ডাইভার্ট করা হয় এবং অনত্র নামিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে নওয়াজ শরীফকে সৌদি আরবে নির্বাসন দেওয়া হয়।
পাকিস্তানের রাজনৈতিক কাহিনী বলতে গেলে তিন চারটি কলামের প্রয়োজন হবে। তবে সংক্ষেপে বলা যায় যে, ১৯৫৪/১৯৫৫ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে বগুড়ার মোহাম্মদ আলী এবং তিনটি মেয়াদে প্রধান মন্ত্রী হিসাবে ক্ষমতায় থাকা কালে নওয়াজ শরীফ পাকিস্তানে আমলাতন্ত্র এবং সেনাবাহিনীর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নিয়ন্ত্রণের সর্বাত্মক চেষ্টা করেন। এজন্য মোহাম্মদ আলী ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের উদ্যোগ নেন। কিন্তু তিনি সফল হতে পারেন নি। তার আগেই নাটকীয়ভাবে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন। নওয়াজ শরীফ ১৯৭৩ সালের পাকিস্তানের সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধন করেন। দেশের রাজনৈতিক প্রশাসনে আমলাতন্ত্র ও সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা খর্ব হওয়ায় নওয়াজ শরীফের সাথে তাদের সম্পর্ক কোনো সময় ভালো ছিলনা। অতীতে দেখা গেছে যে, বিচার বিভাগও এমন কতগুলো রায় দিয়েছে যে গুলো ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। নওয়াজ শরীফ পাকিস্তানের বিচার বিভাগেও প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার চেষ্টা করেন যে জন্য তারাও তার প্রতি প্রসন্ন ছিল না।
চার
সেনা বাহিনী এবং বিচার বিভাগ নওয়াজ শরীফকে কোনো দিন সহ্য করতে পারেনি, যদিও জেনারেল জিয়াউল হকের হাত ধরে নওয়াজ শরীফের রাজনীতিতে প্রবেশ ঘটেছিল। কিন্তু সামরিক বাহিনীর অত্যধিক খবরদারি সহ্য না করায় তার সাথে সামরিক বাহিনীর বিরোধ বাধে। বিপুল জনসমর্থন এবং বিপুল পার্লামেন্টারি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তারাও নওয়াজ শরীফকে সহ্য করতে বাধ্য হয়। কিন্তু পানামা পেপার্সকে অযুহাত করে সেনাবাহিনী বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে এবং নওয়াজ শরীফকে প্রথমে প্রধানমন্ত্রিত্ব থেকে হটিয়ে দেয় এবং পরে রাজনীতি থেকেই হটিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করে। পাকিস্তানে এই মুহুর্তে সেনা বাহিনীর বøু আইড বয় হলো ক্রিকেট প্লেয়ার থেকে রাজনীতিবিদে রূপান্তরিত অল রাউন্ডার ইমরান খান। গত নির্বাচনে তার দল তেহরিকে ইনসাফে পাকিস্তান সীমান্ত প্রদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করেছিল। এখন সীমান্ত প্রদেশের নাম বদলে হয়েছে খাইবার পাখতুন খোয়া। এখন সেনাবাহিনী চেষ্টা করছে, পর্দার অন্তরালে কাজ করে ইমরান খানকে সারা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বানানোর। বেনজির ভূট্টোর পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) এখন আর সেই ফর্মে নাই। বেনজিরের স্বামী আসিফ আলী জারদারির অযোগ্যতা এবং দুর্নীতির কারণে পিপিপি এখন অনেকের মতে পাকিস্তানের তৃতীয় শক্তি। বেনজিরের ৩০ বছরের তরুণ পুত্র বিলাতের অক্সফোর্ড থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি ধারী বিলওয়াল ভুট্টো দলটির হাল ধরেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুধু মাত্র সিন্ধুর একটি অংশের জন সমর্থনপুষ্ট পিপিপি এবার ক্ষমতায় আসতে পারবে না। এখনও যদি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠ নির্বাচন হয় তাহলে এবারেও নওয়াজ শরীফের মুসলিম লীগ পার্লামেন্টের সংখ্যা গরিষ্ঠতা নিয়ে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার গঠন করবে। সেক্ষেত্রে প্রধান মন্ত্রী হওয়ার কথা ছিল প্রথমে নওয়াজ পতœী কুলসুম নওয়াজের। তার ক্যান্সার হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কথা ছিল ৪৪ বছর বয়সী নওয়াজ কন্যা মরিয়মের। কিন্তু নওয়াজের সাথে সাথেই মরিয়মকেও কারাদন্ড দেওয়ায় সেই সম্ভাবনাও আর নাই। এই সুযোগটিই গ্রহণ করতে চাচ্ছে পাকিস্তানের কায়েমী স্বার্থবাদী মহল। তারা ইমরানের দলকে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী করে আনতে চাচ্ছে। এই চক্রান্ত বুঝতে পেরে নওয়াজ শরীফ তার কন্যাসহ দেশে ফিরেছেন এবং স্বেচ্ছায় কারা বরণ করেছেন।
আজ থেকে আর ৭ দিন পর অষ্টম দিনে অর্থাৎ ২৫ জুলাই পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, এত কিছুর পরেও নওয়াজ শরীফের মুসলিম লীগই একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা পাবে। তবে এই ৭ দিনে পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে কোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে কিনা সেটি দেখার জন্য এই উপমহাদেশীয় রাজনৈতিক পর্যব্ক্ষেক মহল ব্যাকুল আগ্রহ নিয়ে প্রতীক্ষা করছে।
journalist15@gmail.com



 

Show all comments
  • কামরুজ্জামান ১৭ জুলাই, ২০১৮, ২:৫০ এএম says : 1
    পাকিস্তান নিয়ে পরে ভাবেন আগে দেশ নিয়ে ভাবেন। কি আছে দেশের ভাগ্যে আল্লাহই ভালো জানেন
    Total Reply(0) Reply
  • নাহিদ ১৭ জুলাই, ২০১৮, ২:৫১ এএম says : 0
    আমাদের সাথে পাকিস্তানের অবস্থা কিছুটা মিলে যাচ্ছে
    Total Reply(0) Reply
  • জামান ১৭ জুলাই, ২০১৮, ২:৫২ এএম says : 0
    দেশের যে অস্থা অন্য দেশ নিয়ে ভাববার সময় কই ?
    Total Reply(0) Reply
  • সাইফ ১৭ জুলাই, ২০১৮, ২:৫২ এএম says : 1
    আল্লাহ তায়ালাই জানেন কী হবে
    Total Reply(0) Reply
  • msa ১৭ জুলাই, ২০১৮, ১২:০৩ পিএম says : 1
    Tarek Rahman er onek kisu sekhar ase akhan theke. chorer moto palia theke luv nai. face korte parlei success paoa jai
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর