Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ০২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ০৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

ক্ষমতা অপব্যবহারে বেপরোয়া শ্রমিক নেতা

ফেঞ্চুগঞ্জ সার কারখানা

সিলেট ব্যুরো : | প্রকাশের সময় : ১৮ জুলাই, ২০১৮, ১২:০১ এএম

মাত্র ৪ বছরে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন সিলেটের এক শ্রমিক নেতা। তার দাপুটে ভূমিকায় অসহায় হয়ে পড়েছেন সংগঠনের শত শত শ্রমিক। তার বিরুদ্ধে লাগামহীন দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। সরকার দলীয় ওই শ্রমিক নেতার ক্ষমতার অপব্যবহারের ঘটনায় তোলপাড় চলছে। সিলেটে ফেঞ্চুগঞ্জ শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানী লি. শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি ওই শ্রমিক নেতার নাম সালেহ আহমদ। কমিটির মেয়াদ উর্ত্তীন হলেও পদ ছেড়ে নির্বাচন দিতে গড়মসি করে সময় পার করছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে শ্রম আইন ভঙ্গের মাধ্যমে ক্ষমতা আকঁড়ে ধরার অভিযোগ তুলে প্রতিকার চাওয়া হয়েছে। বিভাগীয় শ্রম পরিচালকের নিকট গত ৬ জুন শ্রমিক নির্যাতিত কর্মচারীর পক্ষে এ আবেদন করেন মাষ্টার অপারেটর মো: শহিদুল্লাহ।তারপরও বেপরোয়া তিনি। যেকারনে তীব্র অসন্তোষ ও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছেন শ্রমিক কর্মচারীর মধ্যে। এদিকে সাধারন শ্রমিক কর্মচারী তার বিরুদ্ধে প্রতিকার চাইছে, অপরদিকে উর্ধ্বতন মহলকে আর্থিক ফায়দা দিয়ে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার দৌড়ঝাপে ব্যস্ত তিনি।
জানা গেছে, ২০১৬ ইং সনের ১৩ই জুন ফেঞ্চুগঞ্জ শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি শ্রমিক-কর্মচারি ইউনিয়ন (রেজি: নং চট্ট -২৭৮৭) পরিচালনায় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন সালেহ আহমদ। ২ বছর মেয়াদী এ কমিটি বিধি অনুযায়ী কার্যকরী পরিষদের মেয়াদ ২ বছরের অধিক বলবৎ থাকতে পারবে না।
গত জুন মাসের ১২ তারিখ মেয়াদ শেষ হয়েছে কার্যকরী পরিষদের। কিন্তু মাস পেরিয়ে গেলেও নির্বাচন আয়োজনের কোনো লক্ষন নেই শাহজালাল সার কারখানায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শ্রমিক কর্মচারি জানান, সালেহ আহমদ পরিষদ ক্ষতাসীন হওয়ার পর থেকেই শ্রমিক কর্মচারির সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো না দেখে নিজেদের আখের গুছানোতেই ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তারা অভিযোগ করে বলেন, শ্রমিক-কর্মচারিরা এ ব্যাপারে কোনো কথা বললেই বিসিআইসি‘র কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের যোগসাজশে সালেহ আহমদ তাদেরকে বদলীর হুমকি প্রদান করেন। শ্রমিক নেতা সালেহ আহমদেও রোষানলে পড়ে ইতিমধ্যে অনেকই চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন বলেও জানান তারা।
কারখানার ইউরিয়া সেকশনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক মাষ্টার অপারেটর জানান, বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প এই শাহজালাল সার কারখানা ২০১৬ সাল থেকে পুরোদমে উৎপাদনে গেলে সালেহ আহমদ এখানকার প্রতিটি সেকশনের মালামাল ক্রয়-বিক্রয় থেকে শুরু করে কারখানার বড় প্রকল্পে টেন্ডারবাজিতেও অংশ গ্রহনের মাধ্যমে কোটি টাকা আয়ের পথ সুগম করে।
অপর এক শ্রমিক সদস্য জানান, সালেহ আহমদ সভাপতি হওয়ার পর গত ২ বছরে ফেঞ্চুগঞ্জ সারকারখানার বিশাল প্রাঙ্গনজুড়ে রোপিত প্রায় অর্ধশত বছরের পুরাতন মুল্যবান সেগুন, মেহেগনী এবং কাঁঠাল প্রজাতির দুই শতাধিক প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যে গাছ তার নেতৃত্বে প্রকাশ্যে কেটে নেয়া হয়। এ ছাড়াও বর্তমানে শাহজালাল সারকারখানায় এ্যামোনিয়ার গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয়, লেবার সাপ্লাই, যানবাহন শাখার নিয়মিত চাঁদা আদায়, বাসা দেয়ার নামে উৎকোচ আদায়সহ দৈনিক ভিত্তিতে প্রায় ৪‘শ শ্রমিক থেকে কমিশন বানিজ্যে সরাসরি জড়িত রয়েছেন সালেহ আহমদ।
শুধুমাত্র শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতি হওয়ার সুবাধে এক মূর্তিমান আতংক হয়ে উঠছেন। এদিকে.সালেহ আহমদের একচ্ছত্র আধিপত্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী পরিবারেও। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার মাইজগাঁও ইউনিয়নের এক আওয়ামী লীগ নেতা জানান, নব-প্রতিষ্ঠিত এই সার কারখানায় শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতির পদে থেকে সালেহ আহমদ যেভাবে লুটপাট ও অনিয়ম করছে তাতে দলের ভার্বমুতি ক্ষুন্ন হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সালেহ আহমদ শ্রমিক নেতা হওয়ার পর গত ৩/৪ বছরে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন।
এ ব্যাপারে সালেহ আহমদ ইনকিলাবকে বলেন, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকা স্বাভাবিক। মূলত অপরাধ প্রমান হলে আমি অপরাধী। ’সংশ্লিষ্টরা যদি মনে করে আমার কার্যক্রমে অনিয়ম দুর্নীতি হচ্ছে তাহলে তারা বিহীত ব্যবস্থা নিবে। নতুবা আমি যা করছি সবই ঠিক আছে। তিনি কমিটি মেয়াদ উত্তীর্ণ ব্যাপারে কিছু বলতে অপরাগতা প্রকাশ করে বলেন, দেখার লোক আছে তারা দেখবে। সম্পদের হিসেবও প্রয়োজন হলে নিবে তারা ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ