Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ৩ কার্তিক ১৪২৫, ০৭ সফর ১৪৪০ হিজরী

ইসলামী কর্মতৎপরতা

জার্মানিতে মুসলমানদের জন্য নির্মান করা হলো আলাদা কবরস্থান

| প্রকাশের সময় : ২০ জুলাই, ২০১৮, ১২:০৩ এএম

জার্মানের যারল্যান্ড প্রদেশে স্থানীয় কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মুসলমানদের জন্য একটি কবরস্থান উদ্বোধন হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মোরেসিজের মেয়র মার্কুস হফেল্ড এবং তুর্কি ইসলামিক এসোসিয়েশনের প্রধান আরকান কাহভা চি সহ বে কয়েকজন স্থানীয় কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। এই কবরস্থানটি যারল্যান্ড প্রদেশের মোরেসিজ সিটির খ্রিষ্টানদের কবরস্থানের পাশে অবস্থিত। বর্তমানে কবরস্থানে ২০টি করবের স্থান রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এর ধারণক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করা হবে। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে কবরস্থানটি উদ্বোধন করা হয়। এই কবরস্থানটি নির্মাণের জন্য জার্মানের কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করেন তুর্কান শাহিন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কুরআন তিলাওয়াতের পর তিনি শুভেচ্ছাবানী পেশ করেন। পরবর্তীতে মেয়র মার্কুস হফেল্ড বলেন পৌরসভায় যারা আবেদন করবেন, তাদের আবেদনকে গুরুত্বের সাথে দেখা হয়। মুসলিম অধিবাসীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য এই কবরস্থানটির উদ্বোধন করা হবে।
গির্জা থেকে দামেষ্কের গ্রেট মসজিদ
সিরিয়ার প্রথম ও পৃথিবীর প্রাচীনতম মসজিদগুলোর মধ্যে একটি হলো এই উমাইয়া মসজিদ। ৬৩৪ সালে জন দ্য ব্যাপ্টিস্ট খ্রিষ্টানদের ক্যাথেড্রাল এই গির্জাটি উৎসর্গ করে দেয়। পরে ৭১৫ খ্রিষ্টাব্দে এখানে উমাইয়া মসজিদ নির্মাণ করা হয়। ইতিহাসবিদদের ভাষায়, ৬৩৪ সালে মুসলিম আরব শাসক খালিদ-ইবন-ওয়ালিদ দামেস্ককে নতুনভাবে নির্মাণ ও অন্য উচ্চতায় নিয়ে যান। এই দশকের পরে, ইসলামী খিলাফত শাসন উমাইয়া রাজবংশের অধীনে আসে। তখন দামেস্ককে মুসলিম বিশ্বের প্রশাসনিক রাজধানী হিসেবে নির্বাচন করা হয়। ষষ্ঠ উমাইয়া খলিফা আল-ওয়ালিদ (৭০৫-৭১৫) ৭০৬ সালে বায়জানাইথ ক্যাথেড্রাল এর পাশে একটি মসজিদ নির্মাণের জন্য একটি কমিশন গঠন করেন। এর পূর্বে, ক্যাথেড্রাল গির্জাটি স্থানীয় খ্রিস্টানরা ব্যবহার করত, যা এখনো ব্যবহৃত হয়, কিন্তু এই গির্জাটির দক্ষিণ-পূর্ব দিকে মুসলমানদের জন্য প্রধান প্রার্থনা কক্ষ (মুসাল্লা) ছিল। আল-ওয়ালিদ মুসাল্লা সহ ক্যাথেড্রাল গির্জাটির বেশিরভাগ অংশ ভেঙে সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে মসজিদ নির্মাণ করেন, যার নির্মাণকাজ তিনি ব্যক্তিগত ভাবে পরিদর্শন করেন। এই নতুন মসজিদটি প্রধান মসজিদ হিসেবে ভূমিকা রাখে যা, দামেস্ক শহরের নাগরিকদের প্রার্থনার জন্য ব্যবহৃত হত। খ্রিস্টানদের আন্দোলনের মুখে আল-ওয়ালিদ দামেস্ক শহরের সব গির্জা খ্রিস্টানদের ফিরিয়ে দেয়া হয়। মসজিদের নির্মাণকাজ শেষ হয় ৭১৫ খ্রিস্টাব্দে, তার উত্তরাধিকার, সুলায়মান ইবন আব্দ-আল-মালিক (৭১৫-৭১৭) এর শাসনামলে। দশম শতাব্দীর পারস্য ইতিহাসবিদ ইবন-আল-ফাকিহ্ এর মতে, এই নির্মাণকাজে তৎকালীন ৬,০০,০০০ থেকে ১০,০০,০০০ দিনার ব্যয় হয়। পারস্য, ভারতীয়, গ্রীক এবং মরক্কোর শ্রমিকদের সমন্বয়ে প্রায় ১২,০০০ শ্রমিক এই নির্মাণকাজে নিয়োজিত হয়। এই মসজিদে মোট তিনটি মিনার রয়েছে। আর এর সবচেয়ে বড় গম্বুজটির নাম হলো ‘ডোম অব ঈগল’। ইসলামিক ইতিহাসে এটি মুসলিম স্থাপত্যশিল্পের প্রথম স্মৃতিস্মারক। শুধু তা-ই নয়, ইউনেস্কো ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ’-এর খাতায়ও নাম লিখিয়েছে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই মসজিদটি। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো সিরিয়ায় অনবরত চলতে থাকা গৃহযুদ্ধের শিকার হয়ে এর বেশ খানিকটা সৌন্দর্যই হারিয়ে গিয়েছে।
২০০১ সালে পোপ দ্বিতীয় জন পল উমাইয়া মসজিদ দর্শনে আসেন জন দ্য ব্যাপ্টিস্ট এর সাথে জড়িত ধ্বংসাবশেষ দেখতে। ইতিহাসে তিনিই একজন পোপ হিসেবে প্রথম কোনো মসজিদ দর্শনের জন্য যান।
তথ্যসূত্র: ইসলামিক ল্যান্ডমার্ক



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ