Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার , ২০ নভেম্বর ২০১৯, ০৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

শতক ছাড়িয়েছে ডিম

রাজধানীর কাঁচাবাজারে সাপ্তাহিক চালচিত্র

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২১ জুলাই, ২০১৮, ১২:০২ এএম

উচ্চবিত্ত থেকে শুরু করে নিম্ন মধ্যবিত্ত সবার পুষ্টির চাহিদা পূরণে ডিম একটি অত্যবশীয় খাবার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে দাম কম হওয়ায় পুষ্টির চাহিদায় দরিদ্র মানুষের একমাত্র ভরসা ডিম। তবে শতক ছাড়িয়েছে সে ডিমের ডজন। এছাড়া দুই সপ্তাহ ধরে চড়াদামে বিক্রি হওয়া কাঁচামরিচের দাম এখনো চড়াই রয়েছে। বিভিন্ন বাজারে কাঁচামরিচ কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকার ওপরে। তবে দু’একটি বাদে গত সপ্তাহের মতো স্বাভাবিক রয়েছে সবজির দাম। প্রায় সব সবজির কেজি আগের মতোই ৪০-৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।
বাজার অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ডিমের দাম বাড়ছে গত মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে। জুন মাসের শুরুর দিকে রাজধানীর এসব বাজারে ডিমের হালি ছিল ২২ থেকে ২৫ টাকা। কিন্ত গত ২০ জুনের পর থেকেই বাড়তে শুরু করে ডিমের দাম। এর আগে ডিমের দাম কম হওয়ায় বিভিন্ন খামারিরা ডিম ভেঙে প্রতিবাদ জানাতে দেখা গেছে।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, রোজায় ডিমের ডজন বিক্রি হয় ৬৫-৭০ টাকায়। তবে ঈদের পর ডিমের দাম কয়েক দফা বেড়েছে। আর শেষ সপ্তাহে ডজনে ডিমের দাম বেড়েছে ৫-৭ টাকা। এতে এক ডজন ডিমের দাম বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ১০০-১১০ টাকায়। খুচরা দোকানে ডিমের দাম আরও বেশি।
ডিমের দাম কেন বৃদ্ধি পেয়েছে এর কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ বা ব্যাখ্যা দিতে পারেনি খুচরা ও পাইকারি ডিম বিক্রেতারা। কারওয়ান বাজারের পাইকারি বিক্রেতা আফজাল হোসেন জানান, ডিমের দাম কেন বাড়ছে তা জানি না। ডিম বেশি আসে গাজীপুর আর সাভার থেকে। দাম বৃদ্ধির ঘটনা সেখানেই ঘটছে।
এদিকে বাজারগুলোতে ডিমের ব্যাপক চাহিদা লক্ষ্য করা গেছে। সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারে ডিমের ক্রেতা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শফিকুল ইসলাম বলেন, বাজারে মাছ-মাংসের দাম অনেক বাড়তি। তাই মাছ-মাংসের চেয়ে ডিমকেই অনেকে বেছে নিচ্ছেন। চাহিদা বাড়ায় ডিম বিক্রেতারা দাম বাড়িয়েছে।
ওয়ার্ল্ড পোল্ট্রি এসোসিয়েশনের একজন কর্মকর্তা বলেন, গত বছরের শেষদিক থেকে খামারগুলোতে ডিমের পাইকারি দাম ছিলো চার থেকে ৫ টাকা। অর্থাৎ ১৬ থেকে ২০ টাকা হালি। বাজারে এসে তা বিক্রয় হতো ২৩ থেকে ২৫ টাকায়। এতে খামারিদের খরচ পুষিয়ে আসতো না। ডিমের দাম বাড়বে এমন চিন্তা করে অনেক খামারি ৪-৫ মাস লোকশান গুনলেও দামের পরিবর্তন হয়নি। এতে অনেকগুলো খামার বন্ধ হয়ে গেছে। তাছাড়া রমজানের পর বাজারে ডিমের চাহিদা আগের চেয়ে কয়েকগুণ বেড়েছে। খামার বন্ধ হয়ে যাওয়া ও চাহিদা বাড়ায় ডিমের দাম কিছুটা বাড়তে পারে। তবে খরচের তুলনায় দাম বৃদ্ধি পেয়েছে বলে আমরা মনে করি না।
এদিকে গত সপ্তাহের মতো শুক্রবারও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আড়তে মরিচের সরবরাহ কম, যে কারণে দাম চাড়াই রয়েছে। গত সপ্তাহে ১৫০-১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া কাঁচামরিচের দাম একই রয়েছে। আর এক পোয়ার (২৫০ গ্রাম) হিসাবে মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫০ টাকায়।
মরিচের এমন দামের বিষয়ে খিলগাঁওয়ের ব্যবসায়ী বরকত আলী বলেন, বাজারে এখন মরিচের অভাব নেই। তবে দাম একটু বেশি। অবশ্য এখন মরিচের ঝাল বেশি। কারণ এখনকার সব মরিচই বাত্তি (পরিপক্ক)।
বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পটল, ঝিঙা, ধুন্দল, চিচিঙ্গা, বেগুন, কাকরুল, ধেড়স, মিষ্টি কুমড়া, পেপে, করলাসহ প্রায় সব সবজিই বাজারে ভরপুর। ফলে দামও তুলনামূলক সস্তা। প্রায় সব সবজি আগের সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে।
গত সপ্তাহে ৮০-১০০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পাকা টমেটোর দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। টমেটোর মতো দাম অপরিবর্তিত থাকার তালিকায় রয়েছে, চিচিঙ্গা, পটল, ঝিঙা, ধুনদল, কাকরুল, করলা, বরবটি। এসব সবজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৪৫ টাকা কেজি দরে। একই দামে বিক্রি হচ্ছে বেগুন। পেপে আগের সপ্তাহের মতো ৩০-৩৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
শান্তিনগরের ব্যবসায়ী মো. আলাউদ্দিন বলেন, এখন কাকরুল, পটল, ধেড়সের ভরা মৌসুম। আর বৃষ্টি, বন্যা না থাকার কারণে সবজির কোনো ক্ষতি হয়নি। যে কারণে বাজারে এখন সব সবজির দাম যথেষ্ট কম। বন্যা না হলে সবজির দাম খুব একটা বাড়ার সম্ভাবনা নেই।
কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী খায়রুল বলেন, এখন সব ধরনের সবজিতে বাজার ভরপুর। পটল, কাকরুল, বরবটি, ঝিঙা, ধুনদল, বেগুন যা চাইবেন মনোমত পাবেন।
এদিকে পেঁয়াজের দামও অপরিবর্তিত রয়েছে। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫০ টাকা কেজি। আর আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৩০-৩৫ টাকায়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ডিম

৮ নভেম্বর, ২০১৯
২০ অক্টোবর, ২০১৬

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ