Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২৫ মার্চ ২০১৯, ১১ চৈত্র ১৪২৫, ১৭ রজব ১৪৪০ হিজরী।

মক্কা-মদিনার আদলে কোরবানি নিশ্চিত করার দাবি পবা’র

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২২ জুলাই, ২০১৮, ১২:০১ এএম

মক্কা ও মদিনার আদলে কোরবানি ও কোরবানি পশুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করার দাবি জানিয়েছে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)। পাশাপাশি পার্ক-খেলার মাঠ ও রাস্তার পাশে কোরবানির পশুরহাট না বসানোরও জোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। গতকাল শনিবার দুপুরে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) কলাবাগান কার্যালয়ে ‘মক্কা-মদিনার আদলে কোরবানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ প্রস্তাব করা হয়।
গোলটেবিল বৈঠকে পবা চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের বলেন, কোরবানি একটি ধর্মীয় পালনীয় বিষয় হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে ধর্মীয় বিধি অনুসরণ করা হয় না। কোরবানি দেওয়া ও পরবর্তী সময়ে পালনীয় বিষয়গুলো সম্পর্কে মানুষ পুরোপরি সচেতন নয়। মক্কা-মদিনার আদলে কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এক্ষেত্রে একটি বড় দৃষ্টান্ত হতে পারে।
এসময় বক্তারা বলেন, প্রতি বছরই ঢাকা শহরে কোরবানি দেয়ার হার বাড়ছে। এবার নির্বাচনী বছর হওয়ায় সেই হার আরও বাড়বে। এবছর সারাদেশে প্রায় ১ কোটি ২৮ লাখ পশু কোরবানি হতে পারে বলে মনে করছেন তারা। তাই এখনই কোরবানি পশুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট বিভাগকে সচেতন হওয়ার আহŸান জানানো হয়েছে। তারা এও মনে করেছেন, এবার বর্ষা মৌসুমে কোরবানি হওয়ায় চিকুনগুনিয়া, ডায়রিয়াসহ নানা রোগের প্রাদুর্ভাব ছড়াতে পারে। এজন্য আগে থেকেই সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং নির্দিষ্ট স্থানে কোরবানি করার জন্য নগরবাসীকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
পবা চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে বৈঠকে বক্তব্য দেন-পবা’র সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুস সোবহান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. লেলিন চৌধুরীসহ পবার অন্য নেতারা।
পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খান বলেন, প্রতি বছর ঢাকা মহানগরীসহ সারাদেশে গরু, মহিষ, ভেড়া, খাসি, দুম্বা, উটসহ প্রায় ১ কোটি পশু কোরবানি করা হয়। ঈদের দিন থেকে পরবর্তী দুইদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে কোরবানি করা হয়। কোরবানি পশুর বর্জ্য সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে যেখানে-সেখানে পড়ে থাকে। এতে পরিবেশ বিপর্যয়সহ জনস্বাস্থ্যের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ে।
তিনি বলেন, এই পরিবেশ বিপর্যয় ঠেকাতে আমাদের মক্কা-মদিনার আদলে কোরবানি করতে হবে। এসময় তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, মক্কা-মদিনায় নির্দিষ্ট স্থানে কোরবানি করা হয়। এবং প্রশিক্ষিত কসাই দিয়ে কোরবানি এবং পশুর চামড়া ছাড়ানোসহ যাবতীয় কাজ করা হয়। এতে বর্জ্য সঠিক জায়গায় ফেলতে সক্ষম হয়। তাই আগামী কোরবানিতে নির্দিষ্ট জায়গায় কোরবানি করতে সিটি কর্পোরেশন ও অন্য সংস্থাকে এখন থেকেই উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি নিতে হবে।
পবা’র সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুস সোবহান বলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের হিসেব মতে প্রতিবছর ৭ শতাংশ হারে কোরবানি বাড়ছে। তাছাড়া এবার যেহেতু নির্বাচনী বছর তাই কোরবানি গত বছরের চেয়ে বেশি হবে। সরকারি হিসাব মতে, ৭ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেলে এবার প্রায় ১ কোটি ২৮ লাখ কোরবানি হবে। তাই সিটি কর্পোরেশনকে এখনই নিশ্চিত করতে হবে নির্দিষ্ট স্থানে পশু কোরবানি এবং কোরবানি পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়টি।
তিনি বলেন, গত বছরের পরিসংখ্যান ধরে এবার সরকারের উচিৎ আগে থেকেই পর্যপ্ত স্বাস্থ্যসম্মত পশু নিশ্চিত করা। প্রয়োজনে বাইরে থেকে পশু আমদানি করে ক্রেতা-বিক্রেতাদের অধিকার নিশ্চিত করা। আর কোন অবস্থাতেই যেন রাস্তা বা খেলার মাঠে পশুরহাট না বসে সেটা নিশ্চিত করতে হবে।
ডাক্তার লেলীন চৌধুরী বলেন, এবার কোরবানি হবে বর্ষা মৌসুমে তাই এবারও চিকুনগুনিয়া, ডায়রিয়া, কলেরা, আমাশয়সহ অন্য ব্যাধি ছড়াতে পারে। তাই সিটি কর্পোরেশনের উচিৎ হবে নির্দিষ্ট জায়গায় কোরবানি নিশ্চিত করা। এর জন্য নির্দিষ্ট জায়গায় পর্যাপ্ত সুবিধা যেমন- প্রশিক্ষিত কসাই, পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা করা এবং গোশত সরবরাহে পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। আর প্রতিটি হাটে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করতে যথাযথভাবে মনিটরিং করতে হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: কোরবানি

৩০ আগস্ট, ২০১৭

আরও
আরও পড়ুন