Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২০ আগস্ট ২০১৮, ০৫ ভাদ্র ১৪২৫, ০৮ যিলহজ ১৪৩৯ হিজরী‌

কুমিল্লায় সিন্ডিকেটের কবলে গরুর বাজার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

চান্দিনা (কুমিল্লা) থেকে মুন্সী কামালাতাতুর্ক মিসেল : | প্রকাশের সময় : ২২ জুলাই, ২০১৮, ১২:০০ এএম

 কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার লাটুয়ার গরুর বাজার । সরকারি খাস ভূমির উপর স্থাপিত বাজারটির আয়তন প্রায় এক একর ২৭ শতাংশ। সপ্তাহে একদিনের বাজারটির আয়-রোজগার ভালো হলেও সরকার পাচ্ছেনা কাঙ্খিত রাজস্ব। অভিযোগ রয়েছে, ইজারা কম দেখিয়ে প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট খাস আদায়ের নামে সরকারি কোষাগারে নামমাত্র টাকা জমা দিচ্ছে। পাশাপাশি সরকারিভাবে বাজারটি প্রতি সপ্তাহে একদিন হলেও প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সপ্তাহে দু’দিন বাজারটি পরিচালনা করছে।
জানা যায়, গোমতী নদী দ্বারা বিভক্ত উপজেলাটির পূর্ব অংশে পড়েছে উপজেলা সদরসহ ৫ এবং পশ্চিম অংশে পড়েছে ৪ টি ইউনিয়ন। এরই একটি উপজেলার বিখ্যাত অঞ্চল ভারেল্লা। ভারেল্লা ইউনিয়নের দক্ষিণের অংশে পড়েছে লাটুয়ার বাজারের অবস্থান। বিভিন্ন সময় ভরা মৌসুমে বাজারে পশু আমদানি বেড়ে গেলে দু’পাশের রাস্তাসহ আশপাশের জায়গায়ও কেনা-বেচা চলে গরু-ছাগলের। বিভিন্ন জেলা থেকে যেমন ব্যাপারীরা গরু নিয়ে আসে তেমনি অনেক ব্যবসায়ী এখান থেকে গরু ক্রয় করে বিভিন্নস্থানে নিয়ে যায় বিক্রি করতে।
স্থানীয় সূত্র মতে প্রতিটি বাজারে কমপক্ষে ৩-৪’শ গরু ছাড়াও ২-৩’শ খাসি বিক্রয় করা হয়। এই বাজারে যে কোন মূল্যের একটি গরু কেনা হলে নির্ধারিত ৩’শ টাকা ট্যাক্স বা হাসিল দিতে হয়। তবে অন্য একজন ক্রেতা জানান, কারো কারো কাছ থেকে ৫’শ টাকাও নিচ্ছেন । পাশাপাশি গরুর ট্যাক্স নির্ধারণের ক্ষেত্রে একটা মূল্য থাকলেও অজ্ঞাত কারণে খাসি বা ছাগলের ক্ষেত্রে কোন নিয়ম না মেনে সর্ব নিম্ন দু’শ টাকা থেকে এক হাজার টাকা আদায় করছে ক্রেতাদের কাছ থেকে। এতে প্রতিটি বাজার থেকে কমপক্ষে দু-আড়াই লাখ টাকা ট্যাক্স বা হাসিল আদায় হচ্ছে। বাজারে পশু’র ক্রয়-বিক্রয় বেড়ে যাওয়ায় সরকার ইজারার মাধ্যমে প্রতি বছর লাখ লাখ টাকা আয় করতো। ফলে বিগত ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ১০ লাখ ১ হাজার ৭’শ৬৫ টাকায় সর্বোচ্চ দরপত্র দাতা বাজারটি পরিচালনার দায়িত্ব পায়। ২০১৭-’১৮ অর্থ বছরের যখন এই বাজারে পশু আমদানি বিগত সময়ের তুলনায় আরো বেড়ে যায় তখন স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র সিন্ডিকেট বানিয়ে দরপত্রে কমমূল্যে ইজারার জন্য আবেদন করে বলে অভিযোগ উঠেছে। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে সর্বোচ্চ ৭ লাখ ৮০ হাজার টাকার নিলাম দর উঠে।
এ অবস্থায় উপজেলা প্রশাসন বাজারটি সর্বনিম্ন দরপত্রদাতা বা অন্য কাউকে না দিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি অফিসের লোকজনদের তত্ত¡াবধানে বাজার পরিচালনা কমিটির সদস্যদের সাথে নিয়ে খাস আদায়ের নির্দেশ দেয়। তহসীলদার আবুল হাসান জানান, একটি বাজার থেকে সর্বোচ্চ ৯ হাজার টাকা আদায় করে ছিলেন। বাকি সময়গুলোতে গড়ে কোন বাজারেই সাড়ে ৭ হাজার টাকার বেশী আদায় করতে পারেননি। ফলে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের তুলনায় প্রায় ৬ লাখ টাকার কম রাজস্ব আদায় হয়েছে। একাধিক স্থানীয় সূত্র জানায়, ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসীলদারের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠে।
এদিকে খাস সংগ্রহ স্বাভাবিকভাবে না হওয়ায় গত ১৪ মে ২০১৮ ইং থেকে বুড়িচং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)’র নির্দেশে বাজার কমিটির সভাপতি প্রতিটি বাজার শেষে ৬৫ হাজার টাকা তহসিলদারের কাছে জমা দানের নির্দেশ দেন। লাটুয়ারবাজার সংলগ্ন গোবিন্দপুর, ভারেল্লা গ্রামের একাধিক ব্যক্তি জানান, প্রতি বাজারে কমপক্ষে ৪/৫’শ গরু, খাসি উঠে। নুরুল ইসলাম নামের এক গরুর ক্রেতা জানান, তিনি নিয়মিত এই বাজার থেকে গরু কিনে বিভিন্নস্থানে নিয়ে যান বিক্রির জন্য। অন্য বাজারের তুলনায় এই বাজারের গরুর মূল্য কিছুটা স্থিতিশীল বলে তিনি আরো জানান, প্রতিটি গরু থেকে ৩’শ টাকার বেশী ট্যাক্স নেওয়া না হলেও খাসির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ