Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৫, ১৩ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

জার্মানিকে বিদায় বললেন বর্ণবাদে ক্ষুব্ধ ওজিল

স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৪ জুলাই, ২০১৮, ১২:০১ এএম

চার বছরে বদলেছে অনেক কিছু। খ্যাতির মাপকাঠিতে তার চড়াই-উতরাই বিবেচনায় নিয়ে সেটি আরো মোটা দাগে ধরা দেবে ফুটবল বিশ্বে। ব্রাজিলে ২০১৪ বিশ্বকাপ জয়ী জার্মানি দলটির গর্ব ছিলেন মেসুৎ ওজিল। অথচ এক আসর বাদেই তাকে সইতে হয়েছে সমালোচনা, গঞ্চনা, এমনকি বর্নবাদী ও অশ্রদ্ধামূলক আচরণ! রাশিয়া বিশ্বকাপে ব্যর্থতার দায়টা যেন তারই! কটুক্তি ভাষা এমনই অসহনীয় হয়ে উঠেছিলে যে জার্মানির জার্মই আর গায়ে না জরানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছেন এই তারকা ফুটবলা! হ্যাঁ, ঠিকই পড়ছেন- ক্ষোভে-দুঃখে আন্তর্জাতিক ফুটবলকেই বিদায় বলে দিয়েছেন আর্সেনাল মিডফিল্ডার।
অভিযোগটা বেশ গুরুতরই। বিশ্বকাপে জার্মানির ব্যর্থতার পর থেকেই নাকি ‘বর্ণবাদী’ গালাগাল শুনতে হয়েছে মেসুত ওজিলকে। তুরস্কে জন্ম নেওয়া এই তারকা এতে একটাই বীতশ্রদ্ধ যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটা নিয়েই ফেললেন গতকাল। যে দেশের মানুষ কারও সঙ্গে বর্ণবাদী আচরণ করে, সে দেশের জাতীয় দলের জার্সি পরে আর কখনোই খেলবেন না তিনি।
বিশ্বকাপের আগে থেকেই ঝামেলার মধ্যে ছিলেন ওজিল। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোয়ানের সঙ্গে লন্ডনে দেখা করে আর্সেনালের জার্সি উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন আরেক তুর্কি বংশোদ্ভূত ফুটবলার ইলখাই গুন্ডোগানকে। ব্যাপারটা জার্মানরা রীতিমতো ঘৃণার দৃষ্টিতেই দেখেছিল। তুরস্ক আর জার্মানির কূটনৈতিক সম্পর্ক খারাপ হওয়ার কারণেই মূলত ওজিল আর গুন্ডোগান বিপাকে পড়েছিলেন।
বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড থেকে জার্মানি বিদায় নেওয়ার পর ব্যাপারটি খারাপের দিকে মোড় নেয়। জার্মান ফুটবল ফেডারেশনও নাকি তাদের নিয়ে বর্ণবাদী আচরণ করতে ছাড়েনি। একেবারে আঙুল তুলে বিশ্বকাপ ব্যর্থতার জন্য ওজিলকে দায়ী করা হয়েছে। গতকাল এক দীর্ঘ বিবৃতিতে সেই ক্ষোভের কথাই জানিয়েছেন ওজিল, ‘জেতার পর সবাই আমাদের জার্মান বলে আর হারলেই অনুপ্রবেশকারী! আমাকে বারবার এমন কথা শুনতে হয়েছে।’
তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করাটাই যে আগুনে ঘৃতাহুতি, সেটা বোঝাই গেছে। গুন্ডোগান এর জন্য আগেই প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেও ওজিল এত দিন এটি নিয়ে মুখ খোলেননি। টুইটারে তিনি এ ব্যাপারে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন, ‘এটা কোনো রাজনৈতিক সাক্ষাৎ ছিল না। নিতান্তই সৌজন্যতাবশত সেই সাক্ষাৎ নিয়ে যে এত কিছু হবে, সেটি কখনো ভাবিনি। তা ছাড়া ভুলে গেলে চলবে না। আমার দুটি হৃদয়। একটি তুর্কি, অন্যটি জার্মান। তুরস্ক আমার জন্মস্থান। আমি ছোটবেলা থেকে শিখেছি, কখনো নিজের উৎসকে ভুলে গেলে চলে না। তুরস্ক আমার উৎসভূমি। আমার মা আমাকে সেটিই শিখিয়েছেন।’
ওজিল ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘আমি জার্মান ফুটবল ফেডারেশনের (ডিএফবি) কিছু কর্মকর্তার মুখ থেকে যে ধরনের কটূক্তি শুনেছি, তাতে এই দেশটির জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চড়ানোর কোনো রুচি আমার অবশিষ্ট নেই। আসলে আমি মনে করি বর্ণবাদী মানসিকতার লোকজনের এমন কোনো ফুটবল ফেডারেশনে কাজ করা উচিত নয়, যেখানে প্রচুর খেলোয়াড়ের নাগরিকত্বে দ্বৈত সত্তা রয়েছে।’
তিনি জার্মান গণমাধ্যমের দ্বিচারিতারও সমালোচনা করেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সঙ্গে দেখা করার পর তার যে সমালোচনা হয়েছে, তার কানাকড়িও হয়নি লোথার ম্যাথাউস যখন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। ১৯৯০ সালে জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক পুতিনের সঙ্গে বিশ্বকাপের সময় দেখা করেছিলেন।
২০০৯ সাল থেকে জার্মানির জার্সিতে খেলছেন ওজিল। ৯২ ম্যাচের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই তারকা ফুটবলার তিনটি বিশ্বকাপে খেলেছেন। ২০১০ বিশ্বকাপে নিজের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দিয়ে নিজেকে চিনিয়েছিলেন। ছিলেন ২০১৪ বিশ্বকাপজয়ী জার্মান দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। বিশ্বকাপ জয়েও অবদান রেখেছেন সামনে থেকে। সব মিলিয়ে দেশটির জার্সি গায়ে গোল করেছেন ২৩টি। রাশিয়াতে যেকোনো কারণেই হোক নিজের খেলাটা খেলতে পারেননি ওজিল। তবুও যেদিন থেকে খেলছেন জার্মানির জন্য সবটুকু উজার করে দিয়ে গেছেন এই মুসলিম ফুটবলার। সমর্থকদের ভোটে ২০১১ সাল থেকে পাঁচবার জাতীয় দলের সেরা খেলোয়াড়ও নির্বাচিত হন এই মিডফিল্ডার। তার পুরস্কার এভাবে পেলেন একজন ফুটবলার, শুধুমাত্র তিনি মুসলিম বলে!



 

Show all comments
  • Nannu chowhan ২৪ জুলাই, ২০১৮, ৩:৪৬ পিএম says : 0
    Eai beparta amra onuvob kori kivabe amara mosolmanra shara bishshe nigrihito o bonobad ottacharer obicharer shikar hoytesi kintu amader desher mosolman namdhari kapporushra nastiq monafiqra shushil shomajer bannere Islam o nobijike nia nana rokom kotukti kore berai othocho 90% mosolmaner deshe tader kono shaja hoyna,kinto khomotashin karo birodhi kono kisu bolle manhanir mamla dia nana polishi hyrani kore....
    Total Reply(0) Reply
  • Md: Delu Miha ২৪ জুলাই, ২০১৮, ৬:৫১ পিএম says : 0
    no
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর