Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫, ৮ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

বৃষ্টি আর যানজটে নাকাল রাজধানীবাসী

সায়ীদ আবদুল মালিক | প্রকাশের সময় : ২৪ জুলাই, ২০১৮, ১২:০১ এএম

এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে রাজধানীতে দেখা দিয়েছে আসহনীয় যানজট। বৃষ্টির পানি জমে কোন কোন এলাকায় কাদা-পানি মিলে একাকার হয়ে রাস্তা চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে যায়। এতে রাজধানীবাসীকে পড়তে হয়েছে চরম দুর্ভোগে। সারা শহরজুড়ে যানজট। গাবতলী থেকে সায়েদাবাদ, পুরান ঢাকা থেকে উত্তরা সবখানেই ছিল একই চিত্র। সড়কে দুইধারে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। এক থেকে দেড় কিলোমিটার পথ যেতে সময় লেগেছে তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা। গাড়ি যেন এগুতে চায় না। যানজটের কারণে সময়মত পাওয়া যায়নি গাড়ি। মাঝে মধ্যে দু’য়েকটি পাওয়া গেলেও দিতে হয়েছে অতিরিক্ত ভাড়া। বাধ্য হয়ে পায়ে হেঁটেই অনেককে যেতে হয়েছে নিজ নিজ গন্তব্যে। নগরবাসীর এ ভোগন্তির শেষ কোথায় কেউ জানেনা।
গতকাল সোমবার দুপুর থেকে রাজধানীতে শুরু হয় থেমে থেমে বৃষ্টি সঙ্গে মেঘের গর্জন। অনেক রাস্তায় পানি জমে দুর্ভোগ সৃষ্টি হলেও অনেকেই একে স্বস্তির বলে অভিহিত করেছে। অন্তত গত সপ্তাহের কাঠফাটা রোদের সঙ্গে উত্তপ্ত আবহাওয়ার কথা মনে করে।
সকাল থেকে আবহাওয়া রৌদ্রোজ্জ্বল থাকলেও দুপুরে হঠাৎ করেই বৃষ্টি নামে রাজধানীর মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায়। এ সময় মুষলধারে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বৃষ্টি এবং দমকা হাওয়া বইতে থাকে। তবে তীব্র গরমের মধ্যে মুষলধারের এ বৃষ্টিতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অনেকেই। ঘণ্টার বেশি সময় মুষলধারে বৃষ্টিতে থমকে যায় রাজধানীর জনজীবন। পথচারীরা বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচার জন্য বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নেন। বৃষ্টি কমে যাওয়ার পর রাস্তা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পথচারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
সংস্কার কাজের জন্য বিভিন্ন রাস্তায় গর্ত করে রাখা একইসঙ্গে নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রাখায় দুর্ভোগের মাত্রা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। মালিবাগ আবুল হোটেল থেকে মালিবাগ রেলগেট পর্যন্ত পুরোটাই হাঁটু পানির নিচে তলিয়ে যায়। যানজটে অচল হয়ে পড়ে মালিবাগ, রামপুরা, বাড্ডার প্রগতী সড়ক। থেমে থেমে চলে যানবাহন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমে ঢাকায় গতকাল সোমবার সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদফতর। বৃষ্টিপাতের এই প্রবণতা আরো একদিন থাকার পর কমে যাবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। আবহাওয়াবিদ মিজানুর রহমান বলেন, বর্ষা মৌসুমে ঢাকায় গতকাল ৩৪ মিলিমিটার বর্ষণ হয়েছে। যা এ মৌসুমে সবচেয়ে বেশি। তবে ঢাকার বাইরে বিকেল পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৪৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে কুমিল্লায়।
আবহাওয়া অফিস এক পূর্বাভাসে জানিয়েছে, সাগরে নিন্মচাপ বিরাজ করছে। এছাড়া মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় বিরাজ করছে। ফলে বৃষ্টিপাতের এ প্রবণতা আজ মঙ্গলবারও থাকবে। এরপর কমে গিয়ে ২৭ জুলাই থেকে ফের বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সোমবার দুপুর থেকেই রাজধানীতে কোথাও হালকা আবার কখনও মুশুলধারে বৃষ্টি হতে থাকে। এতে রাস্তায় পানি জমে কোথাও হাটু পানি আবার কোথাও নালা পানি হয়ে যায়। খানাখন্দকেভরা রাস্তায় রিকশা ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন বিকল হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। কেউ কেউ ছোট বড় আহতও হয়েছে। স্যুয়ারেজ লাইন ও সিটি কর্পোরেশেনের ড্রেনের উপচে পড়া পানি রাস্তাঘাট ও বাসা বাড়ির পানিতে একাকার হয়ে গেছে।
সরেজমিন দেখা যায়, গতকাল সোমবার দুপুরে ব্যাংক পাড়া মতিঝিলের বনশিল্প ভবন ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আশপাশে দেখা গেছে হাঁটু পানি। অধিকাংশ স্থানে সৃষ্টি হয়েছে পানিবদ্ধতার। সময় মত পানি নেমে না যাওয়ায় প্রধান প্রধান সড়কে পানি জমে গেছে। বৃষ্টির পানি জমে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে রাজধানীর গুলিস্তান, বঙ্গভবন এলাকা, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি ২৭, আজিমপুর ও যাত্রাবাড়ী এলাকায়। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়গুলোতে পানিবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় গাড়ি চলাচলেও সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। যে কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়ে জনজীবনে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ। কোথাও কোথাও সড়কের ম্যানহোলের ঢাকনা না থাকায় অনেকেই দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়েছে। আবার পানিবদ্ধতার কারণে কোথাও কোথাও যানবাহন বিকল হয়ে পড়ে থাকতেও দেখা গেছে। বিকালে কাকরাইলের মোড়ে একটি হিউম্যান হলার বিকল হয়ে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে। দুপুরে বঙ্গভবনের সামনে দিয়ে দুইটি সিএনজি চালিত অটোরিকশাকে ঠেলে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। বৃষ্টিতে রাজধানীর উত্তরা, বারিধারা, বাড্ডা, ফকিরেরপুল, পল্টন, মালিবাগ, শান্তিনগর, মগবাজার, বসুন্ধরা সিটির সামনে, মিরপুর, মহাখালী, কাজীপাড়া, শ্যামলী, শেওড়াপাড়া, মতিঝিল, ধানমন্ডি ও গুলশানসহ বিভিন্ন এলাকার রাস্তায় পানি জমে থাকতে দেখা গেছে।
একটু বৃষ্টি হলেই রাজধানীতে পানি জমে যাওয়া নতুন কিছু নয়। অথচ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদেও এ নিয়ে তেমন মাথা ব্যাথা নাই। সমস্যা সমাধানে মেয়রদের দৃশ্যমান উদ্যোগও নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাজধানীর রাস্তায় পানি জমে যায়। রাজধানীবাসী এ অভিযোগ করে আসছে বহুদিন ধরে। এ যেন দেখার কেউ নেই অবস্থা। আফিয়া মমতাজ নামের এক পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্ষার আগে পয়ঃনিষ্কাশনের ড্রেন পরিষ্কার না করার কারণে পানিবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। প্রধান সড়কের পাশাপাশি বৃষ্টির পানি জমে গেছে রাজধানীর বিভিন্ন ওলি-গলিতে। ###



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ