Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৫ পৌষ ১৪২৫, ১১ রবিউস সানী ১৪৪০ হিজরী

অতি বর্ষণে ফুঁসে উঠেছে চট্টগ্রাম ও ফেনীর নদ-নদী

বিশেষ সংবাদদাতা, চট্টগ্রাম ব্যুরো : | প্রকাশের সময় : ২৫ জুলাই, ২০১৮, ১২:০৪ এএম

বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের নদ-নদীগুলো ফুঁসে উঠেছে। দেখা দিয়েছে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি। উত্তর জনপদের ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা নদ-নদী এবং উত্তর-পূর্বে বৃহত্তর সিলেটের সুরমা, কুশিয়ারা, মনু, খোয়াই নদীগুলোর পানির সমতল আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টায় দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। গতকাল (মঙ্গলবার) পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এদিকে প্রধান নদ-নদীসমূহের উৎসে উজানভাগে উত্তর-পূর্ব ভারতে অতি বর্ষণ হচ্ছে। একই সাথে দেশের অভ্যন্তরেও হচ্ছে অতিবৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢল। এরফলে এ মুহূর্তে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি অববাহিকা তথা বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলে গতকাল ফের বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এরআগে গত জুন মাসে অর্থাৎ প্রাক-বর্ষায় অতিবৃষ্টিতে বন্যা কবলিত হয় এই অঞ্চল।
গতকাল বিকেল পর্যন্ত প্রাপ্ত পাউবোর সর্বশেষ তথ্য-উপাত্তে জানা গেছে, উত্তর চট্টগ্রামের হালদা নদী বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তাছাড়া কক্সবাজারের চিরিঙ্গায় (চকরিয়া) ও বান্দরবানের লামায় মাতামুহুরী নদী, দক্ষিণ চট্টগ্রামের দোহাজারিতে সাঙ্গু নদী এবং ফেনীর পরশুরামে মুহুরী নদী বিপদসীমার কাছাকাছি অবস্থানে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র পূর্বাভাসে জানায়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ফেনী, মুহুরী, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। এরফলে চট্টগ্রাম, ফেনী, বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। অন্যদিকে উত্তরের ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা এবং সিলেটের সুরমা, কুশিয়ারা, মনু, খোয়াই নদীর পানির সমতল বিপদসীমার অনেক নিচে রয়েছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের আবহাওয়া বিভাগের পূর্বাভাস অনুসারে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং এর সংলগ্ন ভারতীয় অঞ্চলসমূহে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টায় দেশের উত্তর জনপদ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ও সংলগ্ন ভারতীয় অংশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতের আবহাওয়া বিভাগ গতকাল থেকে আগামী ২৮ জুলাই পর্যন্ত ভারী বর্ষণের সতর্কতায় জানায়, এ সময় উত্তর-পূর্ব ভারতের আসাম, মিজোরাম, ত্রিপুরা, মেঘালয়, অরুণাচল এবং হিমালয় পাদদেশের পশ্চিমবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
স্বরূপে ফিরেছে ঘনঘোর বর্ষা ঋতুর শ্রাবণ মাস। কেটে গেছে তাপদাহ। গতকাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড সীতাকুন্ডে ২৪০ মিলিমিটার। এ সময় ঢাকায় ৭৯, চট্টগ্রামে ১২২, সিলেটে ৩৯, বদলগাছীতে ৭৪, তেঁতুলিয়ায় ৮৮, কুমারখালীতে ৭৭, খেপুপাড়ায় ৫৩, নেত্রকোনায় ৩৪ মিমি। ঢাকায় তাপমাত্রা নেমে আসে সর্বোচ্চ ৩০.৩ এবং সর্বনিম্ন ২৪.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
আবহাওয়া বিভাগ জানায়, মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারী থেকে জোরালো অবস্থায় আছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশে বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এরপরের ৫ দিনেও আবহাওয়ার তেমন পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
আজ (বুধবার) সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে জানা গেছে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। তাপমাত্রা থাকতে পারে প্রায় প্রায় অপরিবর্তিত।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ