Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮, ০৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

সীতাকুন্ডে বর্ষণ-ঢলে কৃষকের সর্বনাশ

সীতাকুন্ড (চট্টগ্রাম) থেকে শেখ সালাউদ্দিন | প্রকাশের সময় : ২৭ জুলাই, ২০১৮, ১২:০২ এএম

সীতাকুন্ডে একটানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার সমুদ্র উপকূলীয় এলাকাও পৌরসভাসহ ১০টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এসময় সাগরের উপকূলে বসবাসরত হাজার হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। পানি নিস্কাশনের সু-ব্যাবস্থ না থাকার কারণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কৃষকদের সদ্য রোপন করা সবজি পানিতে ডুবে গেছে বলে বিভিন্ন এলাকার কৃষক জানিয়েছেন। অনদিকে মৎস্যজীবীদেরও কোটি টাকার মাছ পুকুর থেকে ঢলের পানিতে ভেসে গেছে। এছাড়া গ্রাম্যসড়ক গুলোও কমর সমান পানিতে নিমর্জ্জিত হয়ে উপজেলার ৬নং বাঁশবাড়ীয়া, সৈয়দপুর, মুরাদপুর, ভাটেরখীল, গুলিয়াখালী, বাড়বকুন্ড, কুমিরা, সোনাইছড়ি, বারআউলিয়া, ভাটিয়ারী, ফৌজদারহাট, সলিমপুর ইউনিয়নও পৌরসভাসহ ১০টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়। অন্যদিকে পৌরসভাস্থ শেখপাড়া, সিবপুর, ইদিলপুর, দাসপাড়া, স্টেশান রোড, আমিরাবাদ, মধ্যম মহাদেব পুরের চৌধুরীপাড়া, ভূঁইয়া পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ি ঢলের পানি জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। শুধু তাই নয় পৌরসভাসহ উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় হাজার হাজার বসত ঘরে ঢলের পানি ঢুকে পড়েছে। অপরদিকে অন্যদিকে কৃষকদের সদ্য রোপন করা সবজি ঢেঁরশ, করলা, শসা, কাকরল, আঊশ ধান ও বিভিন্ন সবজি ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে বলে জানা গেছে। পানি নিস্কাশনের সু-ব্যবস্থা না থাকায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় এসব নির্মাঞ্চলের শত শত একর জমির আঊশ ধান ও সবজি ক্ষেত বেশির ভাগই নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এভাবে একটানা বর্ষণ হতে থাকলে অন্যসব ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শুধুমাত্র কৃষির উপর নির্ভর এমন কৃষক পরিবারগুলো তাদের জমির দিকে তাকিয়ে দুঃখ করা ছাড়া আর কিছু নেই। এবিষয়ে পৌরসভাস্থ সিবপুর ৯ নাম্বার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জুলফিকার আলী মাসুদ শামীম জানান, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে তার ৫টি পুকুরের মাছ ও আরো অন্যান্যদের ৫টি মোট ১০টি পুকুরের মাছ ঢলের পানিতে ভেসে গেছে। এতে উপকূলীয় এলাকাসহ অনেক বাড়ি ঘরে পানি ঢুকে পড়ছে। এছাড়া কৃষকদের বিভিন্ন রকম সবজি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে অন্যান্য বছর বৃষ্টির পানিতে কৃষকদের জমির ফসল কমবেশি ক্ষতি হলেও চলতি বছরে একটানা বর্ষণে নতুন নতুন জায়গা প্লাবিত হয়েছে। এতে এ অঞ্চলের কৃষক পরিবার ও সাধারণ মানুষ ক্ষতির শিকার হন। এতেকরে সব মিলিয়ে অন্তত ২০ লাখ টাকারও বেশি ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে উপকূলীয় এলাকাসহ সাধারণ মানুষদের আরো বাড়ি ঘরে পানি ঢুকে পড়বে। অন্যদিকে অনেক কৃষক ক্ষতির শিকার হবে বলে জানান তিনি। অপরদিকে ১নং সৈয়দপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মোঃ খাইরুজ্জামান বলেন, মৌসুমে ১৪০ শতক জমিতে বাঁকখালী এলাকায় ঢেঁরশ, লাউ, তিতকরলাসহ বিভিন্ন রকম সবজির চাষ করেছেন। তিনি আশা করেছিলেন মৌসুম ও উৎপাদন ভাল হলে এ সবজি বিক্রিকরে অন্তত দেড় লাখ টাকা লাভ করাটা কোনো ব্যাপারই ছিলনা। কিন্তু পাহাড়ি ঢলের পানিতে গাছের গোরার মাটি সরে যাচ্ছে। ফলে তিনি পরিশ্রম করে জমিতে চাষকরে যে লাভের কথা ভাবছেন তাও এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন এ অঞ্চলে অনেকে জমিতে বিভিন্ন রকম সবজি চাষ করেছেন । তাদের জমিতেও ঢলের পানি ঢুকে পড়েছে। এদিকে এদিকে মুরাদপুর ইউপি চেয়ারম্যান জাহেদ হোসেন নিজামী(বাবু)জানান, ভারী বর্ষণে পাহাড়ের ঢলের পানিতে জমির ফসল ও পুকুরের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ভেসে গেছে। এ অঞ্চলের সড়কের ও অনেক ক্ষতি হয়েছে। এতে বিভিন্ন ওয়ার্ডে অসংখ্য মানুষের বসত ঘরেও ঢলের পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, পাহাড় থেকে নেমে আসা এমন ঢলের পানি আমি আর কখনও দেখেনি। এবিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার সাফকাত রিয়াদ বলেন, জমি থেকে বর্ষণের পানি সরে গেলে সামান্য ক্ষতি হতে পারে সবজির। তবে বৃষ্টি না কমলে একটানা বর্ষণ হতে থাকলে সবজির কিছুটা ক্ষতি হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ