Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫, ৮ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

চকরিয়া-পেকুয়ায় চিংড়িঘেরে মারা যাচ্ছে কোটি কোটি টাকার মাছ চাষিদের মাথায় হাত

জাকের উল্লাহ চকোরী, কক্সবাজার থেকে : | প্রকাশের সময় : ২৮ জুলাই, ২০১৮, ১২:০১ এএম

 কক্সবাজার জেলার চকরিয়া সরকারী ও বেসরকারীভাবে চাষকৃত অর্ধলাখ চিংড়িচাষী আজ দেউলিয়ার পথে। চিংড়িঘেরে ভাইরাস জনিত কারণে প্রতি ‘জো’তে (মাছ ধরার সময়) মাছ মারা যাচ্ছে কোটি কোটি টাকার চিংড়ি। কিন্তু এসব বিষয়ে মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক চাষীদের কোন সু-পরামর্শ ও চিকিৎসার সহযোগিতা করায় চাষীরা নিঃস্ব হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ চাষীদের। চিংড়ি জোনে ভাইরাসের আক্রমণে এক ‘জো’তেই (মাছ ধরার সময়) পথে বসেছেন চাষীরা। এছাড়া টানা দুইবার বন্যা পরবর্তী চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার প্রায় ৬০ হাজার একরের চিংড়ি জোনে এই ভাইরাস আক্রমণ করায় চাষিসহ জড়িত প্রায় ৫০ হাজার চাষী ও শ্রমিক কর্মচারীদের মাথায় হাত উঠেছে।
বিশেষজ্ঞ ও চাষীরা জানান, চলতি বর্ষা মৌসুমে চকরিয়া ও পেকুয়ায় লাগাতার ভারী বর্ষণ ও টানা দুই দফা ভয়াবহ বন্যার প্রভাব পড়েছে বিশাল চিংড়ি জোনে। এ কারণে ঘেরের লোনা পানিতে লবণাক্ততা একেবারে কমে গেছে। আবার কয়েকদিন একনাগাড়ে প্রখর রোদও বিরূপ প্রভাব ফেলেছে । এসব কারণে চিংড়ি জোনে এই বিপর্যয় নেমে এসেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. সাইফুর রহমান স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, ‘পরপর দুইবার বন্যায় ৬০ হাজার একরের এই চিংড়ি জোন ব্যাপকভাবে তলিয়ে যায় এবং একনাগাড়ে কয়েকদিন ধরে পাহাড়ি ঢলের পানি অবস্থান করে ঘেরগুলোতে। এ কারণে কয়েক ধরনের ভাইরাস ছড়াতে পারে চিংড়ি ঘেরে। তম্মধ্যে চায়না ভাইরাস থাকতে পারে। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে চিংড়ি মরে গিয়ে গায়ে দাগ পড়ে যাবে।’ উপজেলার রামপুর মৌজার চিংড়িজোনের চিলখালী ঘোনার ৩১০ একরের প্রকল্পটির মালিক চিংড়ি চাষি পৌরসভার কাহারিয়াঘোনা গ্রামের বাসিন্দা সেকান্দর বাদশা নাগু। বৃহৎ এই প্রকল্পের পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, গত একমাসে তাদের প্রকল্পের অন্তত ৩০ লাখ টাকার উৎপাদিত চিংড়ি ভাইরাসের আক্রান্ত হয়ে মারা পড়েছে। একই অবস্থা পুরো চিংড়িজোনের। এ ব্যাপারে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. আবদুল আলীম গতরাতে বলেন, ‘চকরিয়ায় চিংড়িঘেরে ব্যাপক আকারে মড়ক দেখা দিয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই। তবে নানা কারণে ঘেরগুলোতে বিভিন্ন ধরণের ভাইরাস আক্রমণ করতে পারে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ