Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার ১৯ জুলাই ২০১৯, ০৪ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৫ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

সিটি নির্বাচনে কারচুপির আয়োজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে সংবাদ সম্মেলনে রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৯ জুলাই, ২০১৮, ১২:০১ এএম

রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকা মার্কার পক্ষে ভোট কারচুপির মহা আয়োজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, খুলনা-গাজীপুর নির্বাচনের মতোই আসন্ন তিন সিটি নির্বাচনে বিরোধী দলের ভোটার ও পোলিং এজেন্ট শূণ্য করার এক অভিনব কৌশল অবলম্বন করেছে। সরকারের নির্দেশে এসব সিটিতে একপেশে নির্বাচন করার ডিজাইনারের কাজ করে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসন। নির্বাচন কমিশন যে সরকারের হাতের মুঠোয় সেই প্রমাণ নিজেরাই রেখে যাচ্ছে। তফশীল ঘোষণার পর বিনা ওয়ারেন্টে কাউকে গ্রেফতার না করার প্রজ্ঞাপন জারির উদ্যোগ নিয়েছিল ইসি। কিন্তু পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের আপত্তির মুখে সেই উদ্যোগ থেকে সরে আসে কমিশন। এখন প্রতিদিনই তিন সিটিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের গণহারে গ্রেফতারের গতি কোনভাবেই থামছে না। গতকাল (শনিবার) সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ক্ষমতাসীন মহল তিন সিটি নিয়ে খারাপ কোন চক্রান্তে মেতে আছে। আসলে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী সাধারণ ভোটারদের অধিকার ফিরে পাওয়াকে অপরাধ হিসেবে গন্য করে, সেজন্য তারা ভোট সন্ত্রাস ও ভোট কারচুপির নতুন নতুন মডেল আবিস্কার করে যাচ্ছে। তিন সিটিতে নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পর থেকেই নৌকা মার্কার প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অসংখ্য অভিযোগ আসতে থাকে। আবার পাশাপাশি বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোট প্রার্থী এবং সমর্থক ও কর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান এক চরম পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রচারণা শুরুর পর থেকেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে আগ্রাসী আক্রমণ চালাচ্ছে। বিরোধী নেতাকর্মী ও সমর্থকদের তালিকা ধরে গ্রেফতার অব্যাহত আছে। অবিরাম পুলিশী হয়রানীতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের অসহায় পরিবার। তাদের নামে মামলা না থাকলেও পেন্ডিং মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। গ্রেফতারের পর পুলিশ বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের অবস্থানও জানায় না। আর নিবাচন নিয়ে এতো অনাচারের পরেও নীরব দর্শকের ভ‚মিকা পালন করছে নির্বাচন কমিশন।
খালেদা জিয়ার যে বন্দিশালায় আটকে রাখা হয়েছে তার চাবি শেখ হাসিনার কাছে আছে মন্তব্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন-খালেদার মুক্তির জন্য কিছুই করতে পারবো না। প্রধানমন্ত্রী আপনি তো পারবেন না এজন্যই যে, পথের কাঁটা নিষ্কন্টক করতেই তো তাঁকে কারাবন্দী করেছেন। আপনি নির্বাক, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষহীন বাংলাদেশ চাচ্ছেন, আপনি চিরদিন ক্ষমতায় থাকতে চাচ্ছেন। নিজের মতো করে গণতন্ত্রের সজ্ঞা দিয়েছেন। চিরন্তন বহুদলীয় গণতন্ত্রকে মৃত্যু শয্যায় পাঠিয়ে স¤্রাজ্ঞীর ক্ষমতা হাতে নিয়েছেন। তাই নিজের স্বার্থের জন্য দেশের জনপদের পর জনপদে রক্ত স্রোত বইয়ে দিতে কোন দ্বিধাই করছেন না।
প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার উৎস জনগণ নয় অন্য কোথাও মন্তব্য করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, আপনার (প্রধানমন্ত্রী) ক্ষমতার উৎস জনগণ নয়, আপনার ক্ষমতার উৎস অন্য কোথাও। সেজন্য বেপরোয়া, বেআইনী, নিষ্ঠুর, নৃশংস পথ অবলম্বন করতে আপনার বিবেক দংশন হয় না। নিজের ক্ষমতার চাহিদা মেটাতে আপনি জনগণকে পরাধীনতার সুদৃঢ় বন্ধনে বন্দী করেছেন। আপনি গণদাবিকে সুনজরে দেখেন না বলেই জনগণের অধিকারের প্রশ্নে সোচ্চার সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী দেশনেত্রীকে বন্দী করেছেন। এই বন্দীশালা আপনার হুকুমে পরিচালিত হয়, কোন আইনের দ্বারা পরিচালিত হয় না বলেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সুচিকিৎসা পাচ্ছেন না। কারাগারে দেশনেত্রীর ওপর জুলুমের তীব্রতার মাত্রা নিশ্চিত করতে আপনি সবসময় খবর নিচ্ছেন। এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন প্রমুখ। ###



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: রিজভী

১৬ অক্টোবর, ২০১৮
১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ