Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫, ১০ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

বর্ষালীতে হাসছেন কৃষক

পীরগাছা (রংপুর) থেকে এস.এম সিরাজুল ইসলাম : | প্রকাশের সময় : ১ আগস্ট, ২০১৮, ১২:০৬ এএম

দিগন্ত জুড়ে দুলছে আউশ (বর্ষালী) ধানের ক্ষেত। চারিদিকে তাকালে চোখে পড়ে পাকা ধানের ক্ষেত। কৃষকরা মাথায় গামছা বেঁধে হাতে কাস্তি নিয়ে দল বেঁধে মনের আনন্দে কাটছেন ধান। ইতোমধ্যেই কৃষকরা ধান কাটা মাড়াইয়ের কাজ শুরু করেছেন। এখন ধান কাটা মাড়াই কাজে ব্যস্ত তারা।
জানা যায়, উপজেলার উচু জমিতে ইরি ধান কাটার সাথে সাথে আউশ (বর্ষালী) জাতের ধানের বীজ বপন করা হয়। প্রায় ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যেই বোপনকৃত বীজ জমিতে রোপন করার উপযোগী হয়ে ওঠে। ইরি-বোরো ধান ঘরে তোলার পর বৈরি আবহাওয়ায়ও কৃষকরা জমি পতিত রাখতে নারাজ। তাই বর্ষা নামার আগেই তরিঘরি করে জমিতে পাওয়ার ট্রিলার দিয়ে চাষ করে রোপন করেন চারা। সেই জমিতে এখন সোনালী ফসল। সরজমিনে দেখা গেছে, পীরগাছা ইউনিয়নের নওহাটি গ্রামের বাদশা মিয়া জানান, তিনি দেড় বিঘা জমিতে আউশ (বর্ষালী) ধান চাষ করেছেন। আবাদ ভালো হয়েছে। ধান কাটা মাড়াইয়ের পর ১৬মন ধান পেয়েছেন তিনি। অন্নদানগর এলাকার কৃষক আবুল আলী জানান, বর্ষালী জাতের ধান আবাদের জন্য ২বিঘা জমিতে চারা রোপন করেছিলাম। প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ১৪ থেকে ১৬মন ধান পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করছেন। কৈকুড়ী ইউনিয়নের আলাদিপাড়া গ্রামের কৃষক কুদ্দুস আলী জানান, ২বিঘা জমিতে বর্ষালী ধান রোপন করেছেন। ফলন ভালো হওয়ায় আশাকরি ২বিঘা জমিতে ১৬ মণ ধান পাওয়া যাবে। এদিকে ধান কাটা শ্রমিক খয়বার মিয়া ও আতাউর আলী জানান, আমরা শ্রম বিক্রি করে দিনাতিপাত করি। ইরি-বোরো ধান কাটার পর আমাদের দীর্ঘদিন বসে থাকতে হয়। এর ফলে অর্থ সঙ্কটের শিকার হতে হয়। এখন ওই চিন্তা থেকে রেহাই পেয়েছি। কারণ বোরো ধান কাটার পরই বর্ষালী ধান রোপন করেছি। এখন ধান কাটায় ব্যস্ত দিন পাড়ি দিচ্ছি।
এদিকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (অঃদঃ) মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে কমবেশি ৩ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে আউশ (বর্ষালী) ধান চাষাবাদ করা হয়। ফলনও ভালো হয়েছে। এছাড়াও কৃষকরা ব্রি-৪৮, ৫৫ ও কুদরত জাতের ধানও চাষাবাদ করেছেন। বিঘা প্রতি ৪-৫ হাজার টাকা খরচ করে ৯০দিনের মধ্যে এ ধান কর্তন করে আমন ধান চাষাবাদ করতে পারবেন কৃষকরা। কৃষি অফিস আরও জানান, গত বছরে আউশ (বর্ষালী) মৌসুমে এই উপজেলায় মাত্র ১হাজার ৩শ’ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ করে কৃষকরা। ভালো ফলন পাওয়ায় এবার ৩ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে এ জাতের ধান চাষবাদ করেছেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ