Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ০১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

বিভ্রাট

তা হ মি না কো রা ই শী | প্রকাশের সময় : ৩ আগস্ট, ২০১৮, ১২:০২ এএম

রাতের রাস্তায় নেড়ি কুত্তাদের উৎপাত হয় বেশী। একটুতেই ঘেউ ঘেউ করে ওঠে পায়ে পায়ে হেঁটে ঘ্রাণ নেবার চেষ্টা করে। ওদের ট্রেইন্ড করেছে কারা। নাকি জন্মগত। রাস্তায় ডাস্টবিনের উচ্ছিষ্ট খেয়েই বেড়ে ওঠা। এমনি দুই কুকুর আর তিন পুলিশের খপ্পরে পড়ে মতিন সাহেব। গো বেচারা মানুষটি আসছিল চট্টগ্রাম শহর থেকে সাতদিনে অফিসের কাজ শেষ করে। বিকেলের বাসে চেপে বসে। বাস থেকে নামতে রাত দুটো বেজে যায়। কি আর করা অগত্যাই বেবী ট্যাক্সি ভাড়া করে নিকেতনে বাসার উদ্দেশ্যে আরামবাগ বাস স্ট্যান্ড থেকে। মোটামুটি ভালো আসছিল পথটুকু। হাতিরঝিলে এসে পড়তেই সামনে দুই তিনজন পুলিশ তাকে পাকড়াও করে। এই বেবী থামাও। কোথায় চলেছো এতো রাতে? এই যে সাহেব কি আছে এতো বড় সুটক্যাসে? মতিন এমন অবস্থায় রসিকতা বা সিরিয়াস কোন মুডেই নেই। ভীষণ ঘুম পাচ্ছিল। যত তাড়াতাড়ি বাড়ি পৌঁছাতে পারে তাই তার উদ্দেশ্য। অফিসের খাটুনি আর পথের ক্লান্তি ভালো লাগছিল না। তবুও বললো- কি চাই আপনাদের বলুন? পুলিশ একজন বললো- কিছু চাই না। আমরা অন ডিউটিতে আছি দেখছেন না? সুটকেসটা নামান আপনিও নামুন চেক করা লাগবে। কি আছে এতে। 

এক ধাক্কায় স্যুটকেসটা মতিন ঠেলে দেয় ওদের দিকে। নিজেও নেমে দাঁড়িয়ে বলে- দেখে নিন। তাড়াতাড়ি করুন। তালা দেয়া নেই খোলাই আছে।
পুলিশদেও ইগোতে হার্ট করে এভাবে ঠেলে দেয়া স্যুটকেসটা দেখে মতিনের এটিচুইয়ডে বুঝতে পারে। পুলিশ বললো- আপনি খুলে দেখান। কি আছে। মতিনেরও জেদ চেপে যায়। বলে- না আমি কেনো খুলবো? আপনাদের দেখার ইচ্ছা আপনারা খুলে দেখেন। আমি খুলবো না। আমি চোর-ডাকাত নাকি সন্ত্রাসী। কেনো আমাকে হেরাস করছেন। আপনাদের প্রয়োজন আপনারাই খুলে দেখবেন।
পাশে থেকে একজন পুলিশ সাথে সাথে মতিনের কলার ধরে টেনে স্যুটকেসের পাশে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে বলে- খোল বেটা, তুই খোল। তোর মাল তুই খোল। মতিনের মাথায় আগুন ধরে যায়। এসপার ওসপার যা আছে কপালে। হাতের মুঠি বদ্ধ করে বেদম জোরে একটা ঘুষি বসিয়ে দেয় ঐ পুলিশের মুখে। অন্য পুলিশরা দৌড়ে কাছে এসে- এটা কি করলেন। পুলিশের গায়ে হাত তুললেন? অন্যায় করলেন।
মতিন চেঁচিয়ে বলতে লাগলো- আমি কি আগে হাত তুলেছি। সেই তো আমাকে বাধ্য করেছে। কিছুক্ষণ ধস্তাধস্তি মারামারি চিৎকার চেঁচামেচি হচ্ছিল। এই সুযোগে সেখানের দুই নেড়ি কুত্তার খাকি পোষাকের প্রতি প্রভুভক্তিতে উথলে ওঠে। ঘেউ ঘেউ চিৎকার করে মতিনকে কামড়াতে আসে। মতিনও বারবার পা দিয়ে হাত দিয়ে ওদের দূর দূর করছিল। দুটো কুকুর ঘুরে ঘুরে যায় আবার আসে ঘুরে ঘুরে যায় আবার আসে।
এদিকে মতিন এবং পুলিশ দু’জনই নাছোড়বান্দা। সেও স্যুটকেস খুলে দেখাবে না। ওরা তাকে বাধ্য করেই চলেছে। দুপক্ষে অনড় অবস্থানে তৃতীয় পক্ষ উন্মাদনা ছড়াতে থাকে। রাতের আকাশ বাতাসে শব্দেরা ভারি হয়ে ওঠে। পা দিয়ে ঠেলে এক পুলিশ সুটকেস উল্টে দেয়। ঝপ ঝপ করে পুরাতন ঘামযুক্ত ময়লা কাপড়, শার্ট, প্যান্ট, লুঙ্গি, জুতা, স্যান্ডেল, রেজার, টুথপেস্ট চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। মতিনের ক্ষোভ তুঙ্গে ওঠে। বেবী ট্যাক্সিওয়ালা দয়া পরবশ হয়ে সবকিছু গুছিয়ে সুটকেসে উঠিয়ে দিয়ে বন্ধ করে।
মতিন রেগে গিয়ে বলে কি পেয়েছো বোমা না গোলাবারুদ। সন্ত্রাসী ধরতে পারেন না। নীরিহ মানুষের পিছনে লেগে থাকেন। হৈ চৈ তো সহজেই কমছে না। মতিনও চিৎকার করে কথা বলছে। পুলিশের চেঁচামিচি বারবার লাঠি উর্ধ্বমুখী নি¤œমুখী চালাচালি করছে।
এই সুযোগের সদ ব্যবহার করছে তাদের প্রভুভক্ত কুকুরগুলো। বারবার ঘেউ ঘেউ করে এগিয়ে আসা পিছিয়ে যাওয়া কুকুরগুলো একটা মনের আনন্দে দিলো মতিনের পায়ে কামড়ে আচড়ে ওকে রক্তাক্ত করে।
এই ব্যাপারটা দেখে পুলিশগুলো থতমত খেয়ে গেলো, লাঠি উঠিয়ে চিৎকার করে। দূর দূর করে ওগুলোকে সরিয়ে দিলো। ঘেউ ঘেউ করতে করতে দৌড়ে পালালো কুকরগুলো। এদিকে মতিন পায়ে যন্ত্রনায় অস্থির হয়ে গালাগালি শুরু করলো। কুত্তার বাচ্চা কুত্তাগুলো দুপুর রাতে সিনেমা দেখতে আসে।
বেবী ট্যাক্সিওয়ালা বলে- ঐগুলো তো স্যার রাস্তার কুত্তা, রাস্তায় জন্ম, রাস্তায় বড় হইয়্যা ওঠে ঐ ডাস্টবিনের খাওন খাইয়্যা। সেগুলির কি দোষ। এই পুলিশগুলোরে দেখে চোর ছেচড় ধরে পিটায়। ঐ কুত্তাগুলো দেখে আর তাদের খাওনের কিছু এইগুলোর দিকে ছুইড়্যা দেয়। এ উচ্ছিষ্ট খাইয়্যা ওগো ভক্ত হইয়্যা যায়। রাস্তায়ই হেগো জীবন। একজন পুলিশ চেচিয়ে ওঠে বলে- তোমার আর লেকচার ঝাড়তে হবে না। উনাকে নিয়ে সোজা হাসপাতালে যাও। তাড়াতাড়ি কর হাড়ি আপ, হাড়ি আপ।
বেবীতে একটা লাঠির ঘা দিয়ে যেতে বলে। বেবী ট্যাক্সিওয়ালারও রাগ উঠে যায়। বলে- কাম একখান বাধাইয়্যা দিয়া হরি হরি করতাছে।
মতিন অপমানে ক্ষোভে দুঃখে যন্ত্রনায় ওর আরো অস্থির লাগছে। চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছা করছে। কি আর করা মন্ত্রী মিনিস্টার, পুলিশের আইজি নাই তো দশ কূলে কেউ আত্মীয় স্বজন। নিজের যোগ্যতায় যে চাকরী করে স্বাধীন ভাবে সৎপথে চলে দুটো পয়সা বেতন পায়। এই জীবনের কষ্টের বোঝা আরো বাড়লে কার কাছে যাবে। কে আছে তাদের ত্রাণ কর্তা।
কুত্তার বাচ্চা কুত্তাগুলোর জন্য ঘুম তো হারাম হয়েই গেছে। এখন জীবনটা যায় কিনা কে জানে। হাসপাতালের উদ্দেশ্যে বেবী ট্যাক্সি ছুটলো। বলে স্যার সামনেই শিকদার মেডিকেল।
মতিনের ক্ষোভ এখন দূর হয় না। ব্যাথার কথা ভুলে অনবরত উচ্চারণ করেই চলেছে- কুত্তার বাচ্চা কুত্তা, কুত্তার বাচ্চা কুত্তাগুলো।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর