Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৬ আশ্বিন ১৪২৬, ২১ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

বিমানের অব্যবস্থাপনায় হজ ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে ১ লাখ ১৬ হাজার ভিসা সম্পন্ন

শামসুল ইসলাম : | প্রকাশের সময় : ৫ আগস্ট, ২০১৮, ১২:০২ এএম

হজ ফ্লাইট বাতিলের ঘটনায় বিমানের অব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করলেন হাবের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। হজ ফ্লাইট সিডিউল তৈরির আগে হজ এজেন্সি’র মালিকদের সাথে কোনো প্রকার মতামত না নিয়েই একতরফাভাবে ফ্লাইট সিডিউল ঘোষণা করায় এখন একের পর এক হজ ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে। বিমানের হজ ফ্লাইট বাতিলের জন্য বিমানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাই মূল সমস্য তৈরি করছে। হজ ফ্লাইট বাতিলের সকল দায়-দায়িত্ব বিমান কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে হবে। হজযাত্রী পরিবহনের পৃথিবীর কোনো দেশ সাধারণ ভাড়ার চাইতে চার গুণ বেশি ভাড়া নেয় না। কিন্ত বিমান কর্তৃপক্ষ অন্য সময়ের চাইতে হজযাত্রীদের ভাড়া চারগুন বেশি নিচ্ছে (১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা)। হাবের মহাসচিব এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম এমন দাবীই করেছেন। বিমান মনোপলী ব্যবসা করার লক্ষ্যে হজযাত্রী পরিবহনে থার্ড ক্যারিয়ার অনুমোদন দেয়নি। ধর্ম মন্ত্রণালয় বিমানকে মক্কা-মদিনায় হজযাত্রীদের বাড়ী ভাড়া করার আগে গত ৮ মে থেকে ২০ মে-এর মধ্যে হজ টিকিট বিক্রি নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্ত বিমান কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালির দরুণ বাড়ী ভাড়ার আগে ২০ মে-এর মধ্যে হজ টিকিট বিক্রি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
মন্ত্রী সভার সিদ্ধান্তের বাইরে সর্বোচ্চ ৪৫ দিনের পরিবর্তে ৫২ দিনের প্যাকেজ দিয়ে হজ টিকিট বিক্রি করায় এবং বিলম্বে ১৫% হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্ট অনুমোদন দেয়ায় বিমানের হজ ফ্লাইট দফায় দফায় বাতিল করতে হচ্ছে। এতে হজযাত্রী পরিবহনের ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। বিমান কর্তৃপক্ষ এ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। যাত্রী সঙ্কটের দরুন এযাবত বিমানের ১০ টি হজ ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। আজ ৪ আগষ্ট থেকে আগামী ৭ আগষ্ট পর্যন্ত বিমানের আরো ৬ টি হজ ফ্লাইট বাতিল করা হচ্ছে। বিমানের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শাকিল মেরাজ এতথ্য জানিয়েছে। শাকিল মেরাজ বলেন, হজ এজেন্সিগুলোর অবহেলার দরুন হজ ফ্লাইট বাতিল করতে হচ্ছে। হজ এজেন্সিগুদলোকে দ্রæত হজ টিকিট ক্রয়ের জন্য বার বার তাগিদ দেয়ার পরেও কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। ঢাকাস্থ সউদী দূতাবাস কর্তৃপক্ষ গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১ লাখ ১৬ হাজার হজযাত্রীর ভিসা সরবরাহ করেছে। আগামী ৭ আগষ্টের পর দূতাবাস আরো কোনো হজ ভিসা ইস্যু করবে না। পরিচালক হজ আগামীকাল ৫ আগষ্টের পর আর কোনো যাত্রীর পাসপোর্ট জমা নিবে না। গতকাল গভীর রাত পর্যন্ত প্রায় ৮৩ হাজার হজযাত্রী সউদী আরবে গিয়েছেন।
গত বছর হজ মৌসুমে যথা সময়ে যাত্রী’র অভাবে বিমানের ২৪ টি হজ ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছিল। এ জন্য জেদ্দা সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ তৎকালিন সঙ্কট নিরসনের জন্য বেশ কিছু অতিরিক্ত প্লট বরাদ্দ দিয়েছিল। কিন্ত জেদ্দা সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ এবার সাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছে হজযাত্রী পরিবহনে বিমানকে আর কোনো অতিরিক্ত প্লট বরাদ্দ দেয়া হবে না। হাবের সাবেক সভাপতি আলহাজ জামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিমানের ভ্রান্ত নীতি’র দরুন হজ ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে। সাউদিয়ার কোনো হজ ফ্লাইট বাতিল করতে হয় না। বিমানের দূরদর্শিতার অভাবে হজ এজেন্সিগুলোর কোনো মতামত না নিয়েই হজ ফ্লাইট সিডিউল তৈরি করা হয়। এতে হজ ফ্লাইটের সিডিউলের তৃতীয় পর্বের প্যাকেজে মদিনার বাড়ী ভাড়ার সাথে মিল রাখার জন্য টিকিটের কম চাহিদা থাকে। এ সময়ে হজ ফ্লাইট সিডিল সমীত না রাখায় দফায় দফায় ফ্লাইট বাতিল করতে হচ্ছে। হাবের সাবেক মহাসচিব এম এ রশিদ শাহ সম্রাট রাতে ইনকিলাবকে বলেন, বিমান কর্তৃপক্ষ ৫২ দিনের হজ প্যাকেজের টিকিট বিক্রি করায় বিমানের প্রতি যাত্রীদের অনীহা দিন দিন বাড়ছে। সাউদিয়ার হজ ফ্লাইটে শর্ট প্যাকেজের টিকিট বিক্রি করায় তাদের কোনো ফ্লাইট বাতিল করতে হচ্ছে না। তিনি বলেন, বিলম্বে হজযাত্রী ১৫% রিপ্লেসমেন্ট দেয়া এবং হাই কোটের রায়কে উপেক্ষা করে থার্ড ক্যারিয়ার চালু না করায় বিমানের হজ ফ্লাইট বাতিলের পথকে সুগম করছে। এক প্রশ্নের জবাবে এম এ রশিদ শাহ সম্রাট বলেন, বিমান সারা বছর কোটি কোটি টাকা লস দেয়। আর হজের সময়ে হজযাত্রীদের কাছ থেকে গলাকাটা হারে ভাড়া নির্ধারণ করায় সাউদিয়া কর্তৃপক্ষও শত শত কোটি টাকার বৈদেশিক মূদ্রা নিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, থার্ড ক্যারিয়ারকে সুযোগ না দেয়ায় হজ শেষে প্রায় ১০ হাজার হাজী বিমানের ৫০/৫২ দিনের প্যাকেজের ফিরতি ফ্লাইটের টিকিট ফেলে দিয়ে অন্যান্য দেশের থার্ড ক্যারিয়ারের নতুন টিকিট কিনে দেশে চলে আসে। এতে কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মূদ্রা দেশ থেকে চলে যাচ্ছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: হজ

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন