Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬, ২০ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কব্জায় শিক্ষকের জালিয়াতি-প্রতারণা

চট্টগ্রাম ব্যুরো : | প্রকাশের সময় : ৮ আগস্ট, ২০১৮, ১২:০১ এএম

 শিক্ষক হয়েও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কব্জায় নিতে জালিয়াতি-প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। জাল ও ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির উপাধ্যক্ষ পদে এমপিও হাসিলেও প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। অবশেষে জাল-জালিয়াতি ধরা পড়ায় শুরু হয়েছে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত। ঘটনাটি চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামেয়া অদুদিয়া ছুন্নিয়া ফাযিল ডিগ্রী মাদরাসার। ওই মাদরাসার আরবী প্রভাষক জাকের আহমদের বিরুদ্ধে জাল-জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তে আগামীকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম আসছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরী ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের উপ-সচিব (মাদরাসা) কবির আল আসাদ।
এক সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রণালয়ের এ তদন্ত কমিটির প্রধান কবির আল আসাদ গত রোববার প্রেরিত এক পত্রে আগামীকাল মাদরাসায় সরেজমিন তদন্ত করার বিষয়টি অবহিত করেন। ওইদিন সকাল ১০টায় মাদরাসার প্রিন্সিপাল সৈয়দ হোসাইন, গভর্নিং বডির সভাপতি প্রফেসর আহমদ হোসেনসহ গভর্নিং বডির সকল সদস্যকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। একই পত্রে অভিযুক্ত প্রভাষক জাকের হোসেন ছাড়াও মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) আবুল কালাম আজাদকেও উপস্থিত থাকতে বলা হয়। অভিযোগে জানা যায়, আরবী বিভাগের প্রভাষক জাকের আহমদ গভর্নিং বডির নামে জাল রেজুলেশন, নিয়োগপত্র, যোগদানপত্র, ভুয়া অনাপত্তি ইত্যাদি কাগজপত্র সৃজন করে মিথ্যা প্রত্যয়ন সম্বলিত ফরওয়ার্ডিং লেটার মাধ্যমে অনলাইনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এসব জাল কাগজপত্র প্রেরণ করে। এর মাধ্যমে মাদরাসার উপাধ্যক্ষ পদে এমপিও হাসিল করার প্রচেষ্টা চালান।
বিষয়টি জানাজানি হলে মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর আহমদ হোসেন বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব (কারিগরী ও মাদরাসা) এবং মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে জালিয়াতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন জানান। প্রতিষ্ঠানটিকে রক্ষার স্বার্থে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষা সচিবকে পত্র দেন। মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতির পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ে তদন্তের আবেদন জানানোর পর ফেব্রæয়ারি মাসে মন্ত্রণালয় থেকে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়। অভিযুক্ত ওই প্রভাষক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ওই তদন্ত আটকে রাখেন বলেও অভিযোগ। পরবর্তীতে মন্ত্রণালয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।
ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আক্তার উননেছা শিউলী অভিযুক্ত প্রভাষকের জাল-জালিয়াতির বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করেন। তদন্ত শেষে গত ৯ মে তিনি তদন্ত প্রতিবেদন দেন। প্রতিবেদনে মাদরাসার প্রভাষক জাকের হোসেন জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে উপাধ্যক্ষ পদে এমপিওভুক্তি হাসিল করার বিষয়টি প্রমাণিত হয়। তিনি তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ‘তার এ নিয়োগ প্রক্রিয়া আইনসিদ্ধ হয়নি। মাদরাসা পরিচালনা পরিষদের সদস্যদের অভিযোগ, ওই শিক্ষক জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে উপাধ্যক্ষ পদটি দখল করার মধ্যদিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে কব্জায় নেয়ার অপচেষ্টা করছেন। তবে এসব বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক জাকের হোসেনের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিশিষ্ট দানবীর আবদুল অদুদ চৌধুরীর দেয়া ৪ দশমিক ৫ একর জমিতে গড়ে উঠা মাদরাসা কমপ্লেক্সে তিন তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন, ছাত্রাবাস, মসজিদ, ৫৬টি দোকানঘর, দোতলা হেফজখানা, বড় একটি পুকুর রয়েছে। এবতেদায়ী বা প্রাথমিক থেকে ফাজিল পর্যন্ত পড়ালেখা হয় সেখানে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান


আরও
আরও পড়ুন