Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৮, ৩০ আশ্বিন ১৪২৫, ০৪ সফর ১৪৪০ হিজরী

চামড়ার দাম কমলো : ঢাকায় মূল্য ৪৫-৫০ বাইরে ৩৫-৪০ টাকা নির্ধারণ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১০ আগস্ট, ২০১৮, ১২:০৩ এএম

ঈদ সামনে রেখে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের জন্য দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। পশু ও আকারভেদে এবার চামড়ার দাম গতবারের চেয়ে কম। ট্যানারি ব্যবসায়ীরা এবার ঢাকায় লবণযুক্ত প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া কিনবেন ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। ঢাকার বাইরে এর দাম হবে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। এছাড়া সারা দেশে খাসির চামড়া ১৮-২০ টাকা এবং বকরির চামড়া ১৩-১৫ টাকায় সংগ্রহ করবেন ব্যবসায়ীরা।
গতকাল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে চামড়া শিল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় বৈঠক করেও চামড়ার দাম নির্ধারণ ছাড়াই আলোচনা শেষ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। পরে চামড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে একান্তে আলোচনা করে এবারের দাম ঘোষণা করেন তিনি। বাংলাদেশ ট্যানার্স এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ হাইড এন্ড মার্চেন্ট এসোসিয়েশনসহ চামড়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে কোরবানীর এ চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করা হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী গতকাল বাংলাদেশ সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুত, সরবরাহ, আমদানি, মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও কোরবানীর পশুর কাঁচা চামড়ার মূল্য নির্ধারণ, কাঁচা চামড়া সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাত করণ ও প্রচারনা সংক্রান্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় টেরিফ কমিশনের চেয়ারম্যান (সচিব) জহির উদ্দিন আহমেদ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবরা, প্রধান আমদানি ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রক, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা, এনবিআর, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ ট্যানার্স এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ হাইড এন্ড মার্চেন্ট এসোসিয়েশনসহ সংশ্লিষ্ট চামড়া ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চামড়ার আন্তর্জাতিক বাজার এবং চলমান বাণিজ্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এ বছর বাস্তব ভিত্তিক চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। চামড়া পাচার রোধ ও উপযুক্ত মূল্য নিশ্চিত করার জন্য সরকার সবধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এ বিষয়ে দেশের প্রচার মাধ্যম এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীগণ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন বলে সরকার আশা করে।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, গত ঈদ-উল-ফিতরসহ সারাবছর দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল ছিল। আগামী ঈদ উল আযহায়ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল পণ্যের মজুত, সরবরাহ ও মূল্য স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করছি। নিত্য প্রয়োজনীয় সকল পণ্যের মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে।
ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, বছরে বাংলাদেশ থেকে মোটামুটি ২২ কোটি বর্গফুট চামড়া পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৬৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ গরুর চামড়া, ৩১ দশমিক ৮২ শতাংশ ছাগলের, ২ দশমিক ২৫ শতাংশ মহিষের এবং ১ দশমিক ২ শতাংশ ভেড়ার চামড়া। এর অর্ধেকের বেশি আসে কোরবানির ঈদের সময়।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর কোরবানি উপলক্ষে সারা দেশে এক কোটি পাঁচ লাখের মত গবাদিপশু বিক্রি হয়েছিল। আর এবার দেশের খামারগুলোতে কোরবানিযোগ্য পশু আছে এক কোটি ১৬ লাখ।
সরকার গত কয়েক বছর ধরেই বলে আসছে, দেশি গরু-ছাগলেই কোরবানির মওসুমের চাহিদা মেটানোর সক্ষমতা বাংলাদেশের তৈরি হয়েছে।
কোরবানীর চামড়া যাতে নষ্ট না হয় সেজন্য এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতন করার জন্য প্রচারমাধ্যমে প্রচার কাজ চালানো হবে। যাতে যতœসহকারে চামড়া অক্ষত রাখা হয়। এ বিষয়ে চামড়া ব্যবসায়ীদেরও সহযোগিতা কামনা করা হয়।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে সরকার এবার কোরবানির ঈদের ছুটি রেখেছে ২১ থেকে ২৩ অগাস্ট। ১২ অগাস্ট জিলহজ মাসের চাঁদ উঠলে ২২ অগাস্ট বাংলাদেশের মুসলমানরা কোরবানির ঈদ উদযাপন করবেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ