Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫, ১০ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

নির্বিচার নিধনে অস্তিত্ব সঙ্কটে দেশি মাছ

মৎস্য সপ্তাহ পালনের নামে হাজার হাজার টাকা ব্যয় দেশীয় মাছ রক্ষায় কোন কাজেই আসছে না

আবদুল হালিম দুলাল, মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) থেকে : | প্রকাশের সময় : ১০ আগস্ট, ২০১৮, ১২:০৩ এএম

দেশী মাছের ভান্ডার খ্যাত উপকূলীয় মঠবাড়িয়া উপজেলায় চলছে মাছ নিধনের উৎসব। প্রতি বছর মৎস্য সপ্তাহ পালনের নামে হাজার হাজার টাকা ব্যায় করে কিছু কর্মসূচী পালন করা হয় যা দেশী মাছ রক্ষায় কোনই কাজে আসে না। প্রশাসনের নির্বিকার ভূমিকায় অসাধু জেলেরা অবৈধ বিভিন্ন ফাঁদ পেতে বেপরোয়াভাবে মাছ নিধন করায় উপজেলার জলাশয়গুলোতে এখন দেশী মাছ অস্তিত্ব সংকটের পথে। দেশী মাছের অভয়াশ্রম ঘোষণার দাবী জানিয়েছেন ভোক্তা সাধারণ।
ভৌগলিক অবস্থানে নিচু হওয়ায় মঠবাড়িয়া উপজেলার অসংখ্য জলাশয় এক সময়ে দেশী মাছের অভয়ারণ্য ছিল। দিন দিন নিত্য নতুন পদ্ধতিতে মাছ নিধনের ফলে বিলুপ্ত হয়ে গেছে অনেক দেশী মাছ। শোল, গজার, কৈ, শিং, মাগুর, পুটি, পাবদা, টেংরা, বাইলা, টাকি, বাইন, বাশপাতা, রুই, কাতল, মৃগেল, ফলি, সরপুটি, বোয়াল, ভেটকি, দরগি, মলান্দি, চান্দাগুরা, ভেদী, বকথুরিনা, চিতল, উটকাল, নাপতা চিংড়ি, মলা, ভাটা, ফাইস্যা, বাতাসী, চ্যালা, কাটালি, মৌ কাটালি, গোদা চিংড়ি ইত্যাদি দেশী মাছে সমৃদ্ধ জলাশয় গুলো এখন মাছ শূন্য হওয়ার পথে। অনেক দেশী মাছের নাম এখন শুধু বইয়ের পাতা আর মৎস্য অফিসের পাতায় আছে পানিতে নাই। এখন বর্ষা মৌসুম। ধানক্ষেত, ডোবা, খাল ও পুকুরে থৈ-থৈ পানি। এই পানিতে বৈশাখ মাস থেকে শুরু হওয়া দেশী মাছের প্রজনন চলবে বর্ষা মৌসুমের শেষ পর্যন্ত। জলাশয় গুলো এখন মাছের ডিম ও রেণুতে পূর্ণ। প্রশাসন থেকে এসব ডিম ও রেণু রক্ষায় কোন উদ্যোগ না থাকায় অসাধু জেলেদের নিধন উৎসব চলছে।
সরকারি আইনে ৪ সেন্টিমিটারের ছোট ফাঁসের যে কোন ফাঁদ দিয়ে মাছ ধরা বেআইনী। সরেজমিনে বিভিন্ন ধানক্ষেত, ডোবা, খাল ও পুকুরে বেআইনি বাঁধা (বেন্দি), বোডা, গড়া ও চরগড়া জালসহ মিহি সুতার কারেন্ট জাল এবং বুচনা চাই দিয়ে নির্বিঘেœ মাছের রেণু ও ডিম নিধন করতে দেখা যায়। জেলেরা জানান, খালে জাল পাতার জন্য মৎস্য কর্মকর্তা এবং এলাকার প্রভাবশালীদের খুশি করতে হয়।
উপজেলা মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে গত ১৮ জুলাই থেকে ২৪ জুলাই মৎস্য সপ্তাহ উদযাপিত হয়। মৎস্য সপ্তাহ কিছু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকায় অসাধু জেলেদের মধ্যে তার কোন প্রভাব পরে না। উপজেলার বড় শৌলা গ্রামে ধানক্ষেতে বোডো জাল দিয়ে মাছ ধরারত আবুল কালাম খাঁ (৬০) এর নিকট বোডো জাল দিয়ে মাছ ধরা নিষেধ কিনা জানতে চাইলে তিনি জানেন না বলে জানান। এসব অবৈধ জাল ও চাই ধ্বংসে কোনো অভিযান হয়না বলেও তিনি জানান। বড় শৌলা গ্রামের আরেক জেলে ছালাম হাওলাদার (৬০) এবং সোনখালী গ্রামের আবুল কালামের (১৪) নিকট জানতে চাইলে তারাও একই উত্তর দেন।
উপজেলার উত্তর মিরুখালী গ্রামের ডাক্তার বাড়ি খালে আড়াআড়িভাবে অবৈধ গড়া জাল দিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে মাছ নিধন করে আসছে ওই গ্রামের বাবুল মিয়া (৪৫)। অবৈধ গড়া জাল দিয়ে মাছ নিধনের বিষয় জানতে চাইলে বাবুল জানান, গত ৫/৬ বছর ধরে এভাবে মাছ ধরলেও প্রশাসন থেকে তাকে কোন সমস্যার সম্মুখিন হতে হয়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক জানান, সরকারী অপ্রতুল বরাদ্ধ দিয়ে দেশি মাছ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন সম্ভব হচ্ছে না। তারপরও গত মৎস্য সপ্তাহে দেড় লাখ টাকার বুচনা চাই ধ্বংস করা হয়েছে। মাছের অভয়াশ্রম গড়ে তোলার সাথে তিনি একমত পোষন করে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাবেন বলে জানান।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ