Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৪ রবিউস সানী ১৪৪০ হিজরী

বাংলাদেশে গঠনমূলক সমালোচনা অনুপস্থিত, তাই...

টাইমস অব ইন্ডিয়ার নিবন্ধ

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১০ আগস্ট, ২০১৮, ১২:০৩ এএম

বাংলাদেশের হাজার হাজার তরুণ ন্যায়বিচারের দাবিতে সোচ্চার। তারা জনগণের স্বার্থে মাঠে নেমেছে। এটা বিস্ময়কর। তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কিছু উদ্বেগজনক খবর পাওয়া গেছে। ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছুড়েছে। 

এ ধরনের বৈরী আচরণ দুঃখজনক। কেননা, কয়েকটি ভাঙচুরের ঘটনা ছাড়া শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবেই বিক্ষোভ করছিল। এমনকি তারা গাড়িচালকদের লাইসেন্স ও ফিটনেস পেপার যাচাই করে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করছিল। শিক্ষার্থীদের হস্তক্ষেপে সুশৃঙ্খলভাবে যানবাহন চলাচলের ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষের কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার কোনো যুক্তি থাকতে পারে না। খবরে বলা হচ্ছে, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে। ঢাকার কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করলে তারাও হামলার শিকার হয়। অথচ পুলিশ পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল। তবে বাংলাদেশ সরকার এ ধরনের হামলার কথা অস্বীকার করেছে। বলেছে, তারা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়কের দাবি বিবেচনা করছে। এছাড়া সম্প্রতি সরকার বেপরোয়া বা আসাতর্কতামূলক গাড়ি চালিয়ে মৃত্যু বা গুরুতর আহত করার দায়ে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের সাজার বিধান রেখে খসড়া সড়ক পরিবহন আইন প্রস্তাব করেছে।
তবে বেপরোয়া ও আসাতর্ক গাড়ি চালনার কারণে কারো মৃত্যু ঘটলে ওই চালকের মৃত্যুদÐ দেয়ার দাবি জানিয়েছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এ দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়তে রাজি না। কিন্তু এখানে লক্ষণীয় বিষয় হলো, সরকার ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোনো আলোচনা হয়নি। এটা সত্য যে, কোনো নেতৃত্ব ছাড়াই এ আন্দোলন গড়ে উঠে। কিন্তু নির্বাচনের বছরে এমন আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য নিয়ে বাংলাদেশ সরকার বেশ সতর্ক রয়েছে। মূলত এ কারণেই বাংলাদেশ সরকার আন্দোলন নিয়ে অস্বস্তিতে রয়েছে। বলপ্রয়োগ করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে আনার ঘটনা থেকে এটা বোঝা যায়।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বাংলাদেশে এক ধরনের রাজনৈতিক শূন্যতা ফুটে উঠেছে। বর্তমানে সেখানে গঠনমূলক সমালোচনা অনুপস্থিত। যখন এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তখন জনসম্পৃক্ত আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সমাজের মানুষের চেপে রাখা আকাক্সক্ষা ও দাবির বিস্ফোরণ ঘটে। এছাড়া, দেশের নির্বাচনে পরাজিত দলের ফল মেনে না নেয়া ও সংসদে হাজির না হওয়ার প্রবণতা রয়েছে। সর্বশেষ নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নির্বাচনেই অংশ নেয়নি। এতে আওয়ামী লীগ অনায়াসে জয় পেয়েছে। বাংলাদেশের প্রতিদ্ব›িদ্বতাপূর্ণ রাজনৈতিক ইতিহাস থেকেই বর্তমান পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। কিন্তু এ অবস্থায় টিকে থাকা কঠিন। বাংলাদেশকে অতীতের বিষয় নিয়ে রেষারেষি বন্ধ করে ভবিষ্যতের দিকে মনোনিবেশ করতে হবে।
এ অবস্থায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে অবশ্যই পার্লামেন্টে বিরোধী দলের ভূমিকার প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। তখনই তারা পুরো বাংলাদেশি সমাজের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবে। অন্যথায় বাংলাদেশে জনসম্পৃক্ত আন্দোলন হতেই থাকবে। এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্বে এসব আন্দোলনে বহিঃশক্তির ইন্ধন থাকতেই পারে। তাই বাংলাদেশ সরকার এই সমস্যা মেনে নিয়ে, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করলে এবং পরবর্তী নির্বাচনে সকল বৈধ দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করলেই ভালো হবে। সূত্র ঃ টাইমস অফ ইন্ডিয়া



 

Show all comments
  • তামিম ১০ আগস্ট, ২০১৮, ২:১৯ এএম says : 0
    তাই দেশের এই অবস্থা
    Total Reply(0) Reply
  • কাসেম ১০ আগস্ট, ২০১৮, ২:২০ এএম says : 0
    গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণ করা ছাড়া কোন মানুষ বা দেশ এগিয়ে যেতে পারে না
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।