Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৩ আশ্বিন ১৪২৫, ৭ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

নদ-নদীতে মাছের আকাল শেষ ভরসা চাষের মাছ

বি এম হান্নান, চাঁদপুর থেকে : | প্রকাশের সময় : ১২ আগস্ট, ২০১৮, ১২:০১ এএম

 নদ-নদীতে মাছের দেখা নেই। তাই হতাশ চাঁদপুরের জেলেরা। বাজারগুলোতে চাষের মাছ ছাড়া অন্য মাছের তেমন দেখাই মিলছে না। শেষ ভরসা পুকুর ও ঝিলে চাষ করা পাঙ্গাস আর খাঁচার হাইব্রিড তেলাপিয়া। এদিকে সাগরে আহরিত ইলিশের কিছু অংশ হাতিয়া ও ভোলার দৌলতখাঁ থেকে আসায় মন্দা কাটিয়ে ইলিশের নগরীখ্যাত চাঁদপুর মাছঘাটে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। ইলিশের আমদানি ও ক্রয়-বিক্রয়ের ফলে অধিকাংশ মৎস্য আড়ৎ সরগরম।
কিন্তু চাঁদপুর পদ্মা-মেঘনায় মাছের দেখা নেই। ইলিশসহ নদ-নদীর অন্য সব দেশীয় মাছের আকাল চলছে। শহর কিংবা গ্রামের হাট-বাজারে যে পরিমাণ মাছ উঠছে তা’ চাহিদার তুলনায় খুবই কম। সাধারণত নদীর মাছ বলতে গুঁড়া চিংড়িসহ অন্যান্য ছোট ছোট মাছ কিছুটা বাজারে পাওয়া যায়। তবে দাম সাধারণের নাগালের বাইরে। গুড়া চিংড়ি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫-৬শ’ টাকায়। মাঝারি সাইজের ৮-৯শ’ টাকায়। দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো মাছের এ আকাল মোকাবেলা করছেন সাগরের পঁচা মাছ খেয়ে।
চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন রাস্তার উপর গড়ে ওঠা অস্থায়ী বাজারসহ হাট-বাজার, মাছঘাট পর্যবেক্ষণ, মৎস্য ব্যবসায়ী, আড়তদার ও জেলেদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, শীতে নদ-নদীতে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা নির্বিচারে নিধন করা হয়। গেলো দুই মাসের জাটকা রক্ষা অভিযান সফল না হওয়া, কম ফাঁসের গুলতি, কোণা, বাঁধাজাল ও কারেন্টজাল দিয়ে নদী ছেঁকে ফেলাসহ বিভিন্ন কারণে নদ-নদীর মাছের এ দুষ্প্রাপ্যতা।
চাঁদপুরের হাইমচর কাটাখালীর জেলে ল²ণ দাস ও চাঁদপুর শহরের ৩নং কয়লাঘাটে অবস্থান নেয়া কালু ভূঁইয়ার আড়তের জেলে সুজন দাস জানান, ‘চাঁদপুর নৌ-সীমানায় মাছের অবস্থা ভালো না, খোরাকির পয়সা হয় না। দুই খেও দিয়ে ৩/৪ হাজার টাকার মাছ পাই। এক এক নৌকা দেড়-দুই লাখ টাকা দেনা।’
সদর উপজেলার আখনেরহাট বাজারের মৎস্য আড়তদার খলিলুর রহমান ও গিয়াস উদ্দিন জানান, ‘দুই মাসের অভিযানের সময় জাটকা মাছ ধইরা খাইয়া লাইছে, এখন জেলেরা নদীতে মাছ পায় না।’
চাঁদপুর মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি আব্দুল বারী জমাদার মানিক জানান, ‘স্থানীয় নদীতে মাছ একেবারেই কম। গভীর সাগর আর হাতিয়া এলাকায় ধরাপড়া ইলিশের চালান নিয়ে মাছঘাট এখন কিছুটা সচল। পদ্মা-মেঘনায় মৌসুমে ইলিশ না পাবার কারণ দুই মাসের জাটকা রক্ষার অভিযান ভালো হয় নি। ওই সময় নির্বিচারে জাটকা নিধন হয়েছে। এছাড়া ভরা বর্ষায় নদীতে পানি কম, নদীর বিভিন্ন স্থান দিয়ে ডুবোচর। সাগর থেকে হাতিয়া, ভোলা, ল²ীপুর হয়ে চাঁদপুরের নদীতে ডুবোচরের কারণে মাছ আসতে পারছে না।’
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, মাছ নদীতে আসার মতো পরিবেশ তৈরি হয়নি। মাছের যে মাইগ্রেশন দরকার, পাহাড়ি ঢল ও নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে ¯্রােত বাড়তে হবে। সীমিত লজিস্টিক সাপোর্ট ও জনবল নিয়ে আমরা চেষ্টা করেছি জাটকা রক্ষা করতে। তবে তিনি আশাবাদী ভাদ্র-আশ্বিন মাসে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়বে।
চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ইলিশ গবেষক ড. আনিছুর রহমান বলেন, ‘সাধারণ মানুষ মনে করেন, জ্যেষ্ঠ, আষাঢ়, শ্রাবণ ইলিশের ভরা মৌসুম। বিষয়টি ঠিক নয়। আগস্ট থেকে ইলিশের মৌসুম শুরু হয়। আর ভরা মৌসুম হলো সেপ্টেম্বর-অক্টোবর।’ তিনি বলেন, ‘চাঁদপুর অঞ্চলে একটু কম ধরা পড়ছে। কিছু দিনের মধ্যেই চাঁদপুরেও প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ