Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫, ৮ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

সকল বাসকে ৬টি কোম্পানীতে নিয়ে আসা হবে- সাঈদ খোকন

গণপরিবহনের লাগাম টেনে ধরতে

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৩ আগস্ট, ২০১৮, ১২:০০ এএম

রাজধানীর গণপরিবহনের শৃঙ্খলা ফেরাতে বাস কোম্পানীগুলোকে দ্রæততম সময়ে ৬টি কোম্পানীতে নিয়ে আসা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। ট্রাফিক ব্যবস্থা উন্নত করতে ইন্টেলিজেন্স ট্রাফিক সিস্টেম তৈরির কার্যক্রমও চলমান রয়েছে বলেও তিনি জানান।
গতকাল রোববার দুপুরে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ডিএসসিসির নির্মল বায়ু ও টেকসই উন্নয়ন প্রকল্প (কেইস প্রজেক্ট) আয়োজিত ‘ক্লিন অ্যান্ড সেইফ মোবিলিটি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এ প্রকল্পের আওতায় নগরীতে মাসব্যাপী সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
ডিএসসিসি মেয়র বলেন, নগরীতে ট্রাফিক ব্যবস্থা অনেক আগে থেকেই নাজুক। এই অবস্থা থেকে মুক্তি প্রয়োজন। এ জন্য আমরা জাইকার অর্থায়নে ইন্টেলিজেন্ট ট্রাফিক সিস্টেম চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করছি।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা শহরসহ সব এলাকার সড়কের অব্যবস্থাপনার জন্য আমাদের নিজেদের দায় অস্বীকার করতে পারি না। ইতিপূর্বে আমরা বিভিন্ন সময়ে যে সব কার্যক্রম পরিচালনা করেছি, সেগুলো কার্যকর কোন ফল বয়ে আনেনি। এরপরও পথচারীদের অসচেতনতা অন্যতম দায়ী।
সাঈদ খোকন বলেন, কেইস প্রকল্পের আওতায় মহানগরীর গুলিস্তান (ফুলবাড়িয়া), পল্টন, মহাখালী ও গুলশান-১ এ চারটি ইন্টারসেকশন নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে ভেহিকুলার ইমেজ ডিটেক্টর ভিডিও ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে চলমান গাড়ির সংখ্যা কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং করা হবে। পৃথক লেন অনুসরণ করে গাড়ি চালানোর পাইলটিং প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এতে অর্জিত সাফল্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে এটি চালুর বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে। ডিএসসিসির ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ৭৫ জন লোকবল নিয়ে একটি কারিগরি ইউনিট সৃষ্টির প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, সড়কের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ডিএসসিসি গৃহীত পদক্ষেপ অপ্রতুল হলেও ট্রাফিক ব্যবস্থার ক্ষেত্রে জরুরী কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- নিরাপদ সড়ক সৃষ্টি করা, বেপরোয়া গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকা, রাস্তা পারাপারে ফুটওভার ব্রিজ ও জেব্রা ক্রসিং ব্যবহারে উৎসাহিত করা, বিনা প্রয়োজনে হর্ণ বাজানোকে নিরুৎসাহিত করা, পথচারী চলাচলে ফুটপাত ব্যবহার করা, লেন মেনে গাড়ি চালানো, যত্রতত্র যাত্রীতে উঠা নামা না করে নির্ধারিত স্টপেজে গাড়ি থামানো, মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ি ব্যবহার বা কালো ধোঁয়া নির্গত থেকে বিরত থাকা। কেইস প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে সাঈদ খোকন বলেন, আমরা কেইস প্রকল্পের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ৯২ সড়ক ইন্টারসেকশনে জেব্রাক্রসিং, লেন সেপারেটর ডট বা সলিড রোড মার্কিং স্থাপন ও ২৯৪টি পথচারী পারাপার নির্মাণসহ ৬শ’ ট্রাফিক সাইন লাগাবো। আমাদের স্লোগান হচ্ছে ‘আমাদের পথ, আমাদের হাতেই নিরাপদ’।
মেয়র আরও বলেন, পর্যাপ্ত পুলিশ পেলে ফুটপাত দখলমুক্ত করা কোনও ব্যাপার না। সাত মাসে অনেক প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ঠিক রেখেছি। আমরা স্থায়ীভাবে কিছু পুলিশ ফোর্সের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করবো।
এ অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন- ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল, কলামিস্ট আবুল মকসুদ, স্থপতি মোবাশ্বর হোসেন, ডিটিসিএ’র নির্বাহী পরিচালক রকিবুল রহমান, কেইস প্রকল্পের পরিচালক সিহাব উল্যাহ প্রমুখ।
এদিকে গতকাল রোববার দুপুর ২টায় ডিএসসিসি নগরভবনে ভূমিকম্প ও অগ্নিকাÐ বিষয়ে একটি মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। ডিএসসিসি মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস বিভাগ এবং ডিএসসিসি যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ###



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ