Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৫ আশ্বিন ১৪২৫, ৯ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

গজনিতে সংঘর্ষ চলছে ৫ শতাধিক প্রাণহানি

আফগানিস্তানে তালেবানের দখলে সেনা ঘাঁটি, ১৭ সেনা নিহত

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৫ আগস্ট, ২০১৮, ১২:০৩ এএম

আফগানিস্তানের কৌশলগত শহর গজনির দখল নিয়ে তালেবান ও দেশটির নিরাপত্তাকর্মীদের মধ্যে চতুর্থ দিনের মতো সংঘর্ষ চলছে। সংঘর্ষে এ পর্যন্ত তিন শতাধিক নিরাপত্তাকর্মী ও দুই শতাধিক তালেবান সদস্য নিহত হয়েছে। আফগানিস্তানের সরকারি কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়েছে, গত চার দিন ধরে চলমান সংঘর্ষে ৫০০ এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ২০ জন রয়েছে সাধারণ মানুষ। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী তারিক শাহ বাহরামি বলেন, তালেবানদের সঙ্গে আফগান নিরাপত্তাকর্মীদের সবচেয়ে বড় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে সোমবার। এদিন প্রায় ১০০ নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ২০ থেকে ৩০ জন সাধারণ মানুষ রয়েছে। রাজধানী কাবুলে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বাহরামি জানান, সোমবারের সংঘর্ষে প্রায় ১৯৪ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ১২ জন রয়েছে তাদের উচ্চ পর্যায়ের কমান্ডার। এর আগে রোববার নিউইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়, সংঘর্ষের তৃতীয় দিন পর্যন্ত (রোববার) দুই শতাধিক নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছে। এরপরই সোমবার নতুন করে ১০০-এর বেশি নিরাপত্তা কর্মী নিহতের খবর প্রকাশ করা হল। গজনি দখলের লড়াই আফগান বাহিনীর সঙ্গে অভিযানে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা। কাবুলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ঘাঁটির প্রধান কার্যালয়ের সূত্রে খবরে বলা হয়েছে, রোববার ও সোমবার কমপক্ষে ৯টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার হটাৎ করে তালেবানরা গজনি নিয়ন্ত্রণে নেয়ার দাবি করে। ওই দিন থেকেই আফগান বাহিনী সেখানে অভিযান শুরু করে। এ পর্যন্ত গজনি শহর নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছে উভয় পক্ষ। এদিকে, আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলে চেনাইহা সেনাঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে তালেবান জঙ্গিরা। এতে অন্তত ১৭ সেনা সদস্য নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরো ১৫ জন। একই সঙ্গে ওই ঘাঁটির কয়েক ডজন সেনা দু’দিন ধরে তালেবানদের হাতে বন্দী রয়েছে। আফগান কর্তৃপক্ষের উদ্ধৃতি দিয়ে এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। খবরে বলা হয়, ফারিয়াব প্রদেশের ঘোরমাক জেলায় অবস্থিত ওই সেনাঘাঁটিতে রোববার অতর্কিত হামলা চালায় তালেবানরা। তারা সেখান থেকে কয়েকটি ট্যাংক ও গুলি লুট করেছে। প্রাদেশিক পরিষদের প্রধান মুহাম্মদ তাহির রাহমানি বলেন, রোববার তালেবানরা সেখানে হামলা চালায়। আমরা এখনো ঘাঁটিতে ঢুকতে পারিনি। ঘাঁটির বড় একটি অংশ এখনো তালেবানদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তারা ১০ সেনা সদস্যকে হত্যা করেছে। এখনো তাদের হাতে কয়েক ডজন সেনা জিম্মি হয়ে আছে। ওই প্রদেশের আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, তালেবানরা ৪০ জন সেনা সদস্যকে জিম্মি করেছে। সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে তালেবানদেরও ৩০ সদস্য নিহত হয়েছে। অপর দিকে সরকার যাতে গজনি উদ্ধারে নতুন করে সেনা পাঠাতে না পারে সেজন্য তালেবান যোদ্ধারা শহরটিতে প্রবেশের মহাসড়কে মাইন পুঁতে রেখেছে। এতে শহরবাসী কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। মহাসড়ক এড়িয়ে ক্ষেত-মাঠ পেরিয়ে যারা গজনি থেকে পালাতে পেরেছেন তারা জানিয়েছেন, সেখানে বহু সরকারি ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। শনিবারেই তালেবান যোদ্ধাদের গজনির প্রতি মোড়ে অবস্থান নিয়ে থাকতে দেখা গেছে। গজনি হাসপাতালের পরিচালক বাজ মোহাম্মদ হেমাত জানিয়েছেন, সেখানে ১১৩টি লাশও ১৪২ জন আহত সেনা সদস্য এসেছে। হাসপাতালটির ধারণ ক্ষমতা শেষ হয়ে এসেছে। বাধ্য হয়ে আহতদের করিডোর ও যেখানেই জায়গা পাওয়া যাচ্ছে সেখানেই চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। হাসপাতালটি থেকে খুব কাছেই যুদ্ধ চলছে। প্রতি ঘণ্টাই আমরা নতুন নতুন লাশও আহত সেনাদের ভর্তি করছি। এখানকার পরিস্থিতি কল্পনার থেকেও ভয়াবহ। অনেক সেনা সদস্যদের লাশ শহরের রাস্তায় পড়ে আছে। টাইম, আল-জাজিরা, নিউইয়র্ক টাইমস, রয়টার্স।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ