Inqilab Logo

ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৪ আশ্বিন ১৪২৭, ১১ সফর ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

সাড়ে আট লাখ প্রি-পেমেন্ট মিটার বসছে ফ্ল্যাট পাচ্ছে ২০ হাজার দরিদ্র পরিবার

একনেকে তিন হাজার ৮৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯ প্রকল্প অনুমোদন

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৫ আগস্ট, ২০১৮, ১২:০৩ এএম

বিদ্যুত বিল জমা দিতে গিয়ে গ্রাহকদের ভোগান্তির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। রয়েছে বাড়তি বিল গুণার অভিযোগও। লম্বা লাইনে দাঁড়ানোর হাত থেকে গ্রাহককে মুক্তি দেওয়ার পাশাপাশি বাড়তি টাকা যাতে গুণতে না হয় সেজন্য ঢাকা ও নারায়নগঞ্জে নতুন করে আরো সাড়ে আট লাখ প্রি-পেমেন্ট মিটার বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই সংক্রান্ত একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করেন।
পরিকল্পনা কমিশনের দেওয়া তথ্য মতে, সাড়ে আট লাখ স্মার্ট প্রি পেমেন্ট মিটার স্থাপন প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ হবে ৬৫৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে যোগান দেওয়া হবে ৬০৭ কোটি টাকা। আর বাস্তবায়নকারী সংস্থা ডিপিডিসির নিজস্ব তহবিল থেকে ৫১ কোটি টাকা খরচ করা হবে। নতুন সাড়ে আট লাখ প্রি পেমেন্ট মিটার প্রকল্পটির মাধ্যমে ঢাকা জেলার রমনা, জিগাতলা, ধানমন্ডি, আদাবর, পরিবাগ, কাকরাইল, বনশ্রী, মগবাজার, শ্যামলী, কামরাঙ্গীরচর, বাংলাবাজার, নারিন্দা, পোস্তগোলা এবং ডেমরায় বসানো হবে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুলা, শীতলক্ষ্যা ও সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলায় প্রি-পেমেন্ট মিটার বসানো হবে।
ডিপিডিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন. বর্তমানে তিন লাখ ৮৭ হাজার ৫০০টি প্রি পেমেন্ট মিটার স্থাপনের প্রকল্প চলমান আছে। এরইমধ্যে দুই লাখ ৭২ হাজার ৩১৯ টি মিটার স্থাপন করা হয়েছে। নতুন করে আরে সাড়ে আট লাখ প্রি পেমেন্ট মিটার বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হলো। কর্মকর্তারা বলছেন, প্রি পেমেন্ট মিটারের মাধ্যমে গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হবে না। এতে করে সময় অনেক বাঁচবে। একই সঙ্গে বিদ্যুতের সিস্টেম লস অনেকাংশে কমে আসবে। যেহারে বিদ্যুতের বকেয়া বিল পড়ে থাকতো, সেটিও কমে আসবে। গতকালের একনেক সভায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের জন্য ২০ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণের আলাদা একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে পাঁচ হাজার পরিবারের জন্য পৌরসভার দেওয়া জমিতে পরিবার প্রতি দুই রুমের ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। এছাড়া ১৫ হাজার নি¤œ আয়ের পরিবারকে কমিউনিটি হাউজিং ডেভেলপমেন্ট ফান্ড গঠন করে বিনা সুদে দীর্ঘমেয়াদি গৃহায়ণ ঋণ সুবিধা দেওয়া হবে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রকল্পের ৮২৬ কোটি টাকার মধ্যে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে আসবে ১২৮ কোটি টাকা। আর যুক্তরাজ্যের ডিএফআইডি ও জাতিসংঘের ইউএনডিপি অনুদান দেবে ৬৯৮ কোটি টাকা। ২০২৩ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার প্রতিশ্রæতি দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। প্রকল্পটি দেশের আটটি বিভাগের ৩৩ জেলায় বাস্তবায়ন হবে। পৌরসভায় বসবাসরত যারা নি¤œ শ্রেণির তাদের জন্য ২০ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে।
সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, একনেক সভায় তিন হাজার ৮৮ কোটি টাকা ব্যয়ে মোট ৯টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ২ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা, বাস্তবায়নকারী সংস্থা থেকে ৫০ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৬৯৮ কোটি টাকা খরচ করা হবে। পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, একনেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষি জমি রক্ষায় নতুন রাস্তা যাতে কম তৈরি হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে বলেছেন। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব জিয়াউল ইসলাম, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. শামসুল আলম, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব মোঃ মফিজুল ইসলাম, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য এএন সামসুদ্দিন আজাদ চৌধুরী ও শামীমা নার্গিসসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
একনেকে অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ৪২১ কোটি টাকা ব্যয়ে নবীনগর-আশুগঞ্জ সড়ক উন্নয়ন, ২১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ভালুকা-গফরগাঁও-হোসেনপুর সড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ, ১৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ পুলিশের ডাটা সেন্টারের ধারণক্ষমতা বাড়ানো এবং ২৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার আওতাধীন মহানন্দা নদীর শেখ হাসিনা সেতুর সঙ্গে সংযোগ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: পরিবার

১১ মার্চ, ২০২০
২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন