Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫, ১১ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

তামাক ব্যবহারের হার কমেছে ৮ শতাংশ

০ এক কোটি ৯২ লাখ ধূমপায়ী, ৩ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ তামাক ব্যবহার করে, বাড়িতে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার ৫৪ দশমিক ৯ শতাংশ

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৫ আগস্ট, ২০১৮, ২:৫৬ এএম

আট বছরে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের হার ৮ শতাংশ কমেছে। ২০১৭ সালের গেøাবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভেতে (গ্যাটস) এই তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে ‘গ্যাটস ২০১৭’ এর ফলাফল প্রকাশ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি) ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কারিগরি তত্ত¡াবধানে ২০১৭ সালের গ্যাটস পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। বাংলাদেশে এখন এক কোটি ৯২ লাখ মানুষ ধূমপান করে বলেও অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘২০০৯ সালের জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশে সার্বিকভাবে (ধোঁয়াযুক্ত ও ধোঁয়াবিহীন) তামাক ব্যবহারের হার ছিল ৪৩ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০১৭ সালের জরিপে এই হার কমে হয়েছে ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ। সার্বিক তামাক ব্যবহারকারীদের মধ্যে আগে পুরুষ ছিল ৫৮ শতাংশ ও নারী ২৮ দশমিক ৭ শতাংশ। এখন পুরুষ ৪৬ শতাংশ ও নারী ২৫ দশমিক ২ শতাংশ।’ এখন দেশে ৩ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ তামাক ব্যবহার করে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘তামাক ব্যবহার কমার তুলনামূলক হার প্রায় ১৮ শতাংশ, যা বর্তমান সরকারের সাফল্যের স্বাক্ষর বহন করে।’
আগের চেয়ে সার্বিক ধূমপানের হার ৫ শতাংশ কমেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আগে ধূমপান করা মানুষের হার ছিল ২৩ শতাংশ। এর মধ্যে পুরুষ ৪৪ দশমিক ৭ শতাংশ ও নারী এক দশমিক ৫ শতাংশ। এখন ধূমপানের হার ২০ দশমিক ৬ শতাংশ, এর মধ্যে পুরুষ ৩৬ দশমিক ২ শতাংশ ও নারী শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ।’ বর্তমানে বাড়িতে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার ৫৪ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ- জানিয়ে নাসিম বলেন, যা ২০০৯ সালের জরিপে ছিল ৩৯ শতাংশ। কর্মক্ষেত্রে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার মানুষের হার ৬৩ শতাংশ থেকে এখন কমে হয়েছে ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ। ‘আগে ২৩ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ গণপরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হত, ২০১৭ সালের সার্ভেতে এই হার ২৬ দশমিক ৩ শতাংশ।’
স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে আগে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ ধূমপানে শিকার হলেও এখন তা কমে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ হয়েছে বলে জরিপে উঠে এসেছে।
গ্যাটস হলো ১৫ বছর বা এর বেশি বয়সী জনগোষ্ঠীর ওপর পরিচালিত এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃত জরিপ, যা তামাক ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ পর্যবেক্ষণের একটি মানদন্ড। সাধারণত ৫ বছর পরপর এই জরিপ পরিচালিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বøুমবার্গ ফিলানথ্্রপিসের অর্থায়নে ‘গ্যাটস-২০১৭’ পরিচালনা করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব সিরাজুল হক খান, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রফেসর ডা. আবুল কালাম আজাদসহ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, তামাকবিরোধী বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ