Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫, ১৪ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

জেলা শহরে ড্রাইভিং স্কুল

| প্রকাশের সময় : ১৭ আগস্ট, ২০১৮, ১২:০৭ এএম

গত রোববার দুপুরে বিমানবন্দর সড়কে পাল্লা দিয়ে যাত্রী ওঠানোর সময় র‌্যাডিসন বøু হোটেলের বিপরীতে রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ১৪ শিক্ষার্থীকে চাপা দেয় জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় আব্দুল করিম রাজীব ও দিয়া খানম মীম। আহত হয় ১২ জন। এর প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবেই বিমানবন্দর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে রমিজ উদ্দিন কলেজের শিক্ষার্থীরা। রাজধানীর অন্যান্য স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও এতে যোগ দেয়। বিক্ষোভকালে উই ওয়ান্ট জাস্টিস, ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় চলবে না, প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স ছাড়া চালক নয়, নৌমন্ত্রীর পদত্যাগ চাই, রাজীব-মীম হত্যার বিচার চাই, ঘাতক চালকের ফাঁসি চাই- এমন স্লোগান দেয় শিক্ষার্থীরা।
স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরও বাংলাদেশের অধিকাংশ লোক আর্থিকভাবে দরিদ্র। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের একটা বিশেষ দায়িত্ব হলো তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটানো। তাদের আয় বৃদ্ধির জন্য ভিন্ন ভিন্ন উপায় অবলম্বন। একটা উপায় হতে পারে, দেশের ৬৪টি জেলা শহরে একটি করে ড্রাইভিং স্কুল প্রতিষ্ঠা করা এবং সেগুলোকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করা। তাহলে প্রতি বছর ড্রাইভিং স্কুলগুলো থেকে কয়েক হাজার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ড্রাইবার বেরিয়ে আসবে। যথাযথভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ ড্রাইভারগণ নিরাপদ যান চলাচল নিশ্চিত করবে এবং বর্তমানে দেশের হাইওয়েসমূহে প্রায়শঃ সংঘঠিত যান-মাল সংহারকারী দুর্ঘটনা হ্রাসে সহায়তা করবে। এ সকল দক্ষ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ড্রাইভারের একটা বৃহৎ অংশ চাকরি নিয়ে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পাবে এবং তারা দেশের জন্য প্রয়োজনীয় মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে পাঠাতে পারবে। তাতে তাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা উন্নয়নে সক্ষম হবে। জাতীয় প্রয়োজন বিবেচনায় ৬৪টি ড্রাইভিং স্কুল স্থাপন ও পরিচালনায় যে অর্থ প্রয়োজন হবে তা খুব বেশি নয়। প্রতিটি ড্রাইভিং স্কুল প্রাথমিকভাবে দু’টি মিনিবাস, দু’টি ট্রাক এবং দু’টি ডবলকেবিন পিক-আপ ভ্যান দিয়ে শুরু করা যেতে পারে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা প্রকৃতপক্ষে আমাদের দক্ষ লোকবলে পরিণত হবে। সে রকম লোকবল দেশের জন্য সম্পদ সরূপ। ট্রাফিক পুলিশ, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এবং মানব সম্পদ ব্যুরো যৌথভাবে ড্রাইভিং স্কুল প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনায় সংশি¬ষ্ট থাকা প্রয়োজন। উক্ত ড্রাইভিং স্কুলের পাঠ্য সূচিতে অন্তর্ভুক্ত থাকা প্রয়োজন: (১) দুর্ঘটনায় ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের উপর প্রভাব; (২) ট্রাফিক বিধিবিধান শিক্ষা করা; (৩) অটো মোবাইল রক্ষণাবেক্ষণের প্রাথমিক শিক্ষা; (৪) ইংরেজিতে কথা বলা এবং (৫) গাড়ি চালনা। আমাদের ধারণা পাঁচ বছরে ৬৪টি জেলা শহরে ৬৪টি যথাযথ অবকাঠামো তৈরি ও যানবাহনে ক্রয় করে ড্রাইভিং স্কুল প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনায় টাকা ৫০০ কোটি অর্থাৎ প্রতি বছর টাকা ১০০ কোটির বেশি প্রয়োজন হবে না। ড্রাইভিং স্কুল সমূহ প্রতিষ্ঠার পর তা পরিচালনায় বছরে ৭০ কোটি টাকারও কম প্রয়োজন হবে। বাংলাদেশে প্রতি বছর যে মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনা সংঘঠিত হয়ে বিপুল যান-মালের ক্ষতি হচ্ছে তার বিবেচনায় এ বিনিয়োগ কিছুই নয়। মারাত্মক দুর্ঘটনা হ্রাস করে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত ড্রাইভারগণ বহু অমূল্যজীবন ও বিপুল মালামালের ক্ষতি হতে দেশ রক্ষা করবে। অধিকন্তু সরকারের ড্রাইভিং স্কুল প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনায় ব্যয় কয়েক বছরের মধ্যেই উঠে আসবে। এ অবস্থায় দেশের ৬৪টি জেলা শহরের প্রতিটিতে একটি করে ড্রাইভিং স্কুল স্থাপনের পাঁচ বছর মেয়াদি একটি পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন খুবই জরুরি।
মো. আশরাফ হোসেন
৮/এ, রমনা, ঢাকা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।