Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৬, ২৪ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

আপনাদের জিজ্ঞাসার জবাব

প্রকাশের সময় : ২১ এপ্রিল, ২০১৬, ১২:০০ এএম

১। মোহাম্মদ আবদুল্লাহ সাফওয়ান
খেজুরবাগ, ঢাকা।
জিজ্ঞাসা : ‘মু’জ্বিযা’- বলতে কি বুঝায়, আলোচনা করুন?
জবাব : আমাদের তর্কশাস্ত্র অনুসারীদের নিকট মু’জ্বিযা হচ্ছে ওই কর্মকা- যা আল্লাহপাক কোনো পয়গাম্বরের দাবির সত্যতা প্রতিপন্ন করার জন্য দুনিয়ার বুকে বিকশিত করেন। এর জন্য কতিপয় নিয়মতান্ত্রিকতা ও শর্ত রয়েছে। এগুলোর মাঝে একটি হচ্ছে এই যে, এসব কাজ সহজাত স্বভাবের ঊর্ধ্বে হতে হবে। মোটকথা মু’জ্বিযার সাধারণ সংজ্ঞা বুঝতে হলে এ কথা স্বীকার করে নিতে হবে যে, মু’জ্বিযা এমন এক সহজাত স্বভাবের অতীত বস্তুকে বলা হয় যা মহান আল্লাহপাকের তরফ হতে পয়গাম্বরদের সত্যতা প্রতিপন্ন করার জন্য ঘটে থাকে। এ পর্যায়ে মু’জ্বিযাকে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে যে মৌলিক সন্দেহ উপস্থিত হয় তা হলো এই যে, সৃষ্ট জগতের বুকে একটি নির্দিষ্ট নিয়মতান্ত্রিকতার ওপর প্রতিষ্ঠিত প্রতিটি বস্তুর একটি কারণ রয়েছে। এমনকি প্রত্যেক ঘটনার মূলেও কার্যকারণ সম্পর্ক বিদ্যমান আছে। সুতরাং কার্যকরণ সম্পর্ক ব্যতীত কোনো জিনিসই সৃষ্টি হতে পারে না।
কার্যকরণ সম্পর্কিত যেসব প্রবাহ বিভিন্ন বস্তুর মাঝে পরিলক্ষিত হয় এগুলোর মাঝে এমন একটি অবিচ্ছেদ্য সংযুক্তির বাঁধন আছে যার ফলে উহার একটি অপরটি হতে বিচ্ছিন্ন হতে পারে না। প্রতিটি বস্তুর মাঝে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে যা উহা থেকে পৃথক হয় না। অনুরূপভাবে যে বস্তুর মাঝে কোনো গুণ বা বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায় না বা পাওয়া সম্ভব নয় সে বস্তু হতে তার বিকাশ কল্পনা করাও বাতুলতা মাত্র। যেমন আগুন জ্বালিয়ে দেয়, সমুদ্র প্রবাহিত হয়, বৃক্ষ স্থবির থাকে, পাথর চলতে পারে না, সূর্য আলো দান করে, পাথর কথা বলতে পারে না। প্রাণবিনাশী হলাহল, মানুষ মৃত্যুর পর জীবিত থাকে না এসব কিছুই কার্যকারণের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। এখন কেউ যদি বলে যে, আগুন জ্বালায় নাই, সমুদ্র হঠাৎ থেমে গেছে, বৃক্ষ চলতে শুরু করেছে, পাথরের মাঝে স্পন্দন জেগেছে, সূর্যকাল হয়ে গেছে, হলাহল ভক্ষণ করেও মানুষ মরে নাই এবং মানুষ মৃত্যুর পর ইঙ্গিত মাত্র জীবিত হয়েছে তাহলে মূলত সে পৃথিবীর প্রচলিত নিয়মতান্ত্রিকতাকে বিলুপ্ত করার প্রয়াস চালাবে। এমনকি কার্যকারণ সম্পর্কের সুশৃঙ্খল অবস্থাকে বিনষ্ট করতে সচেষ্ট হবে। এতে করে বিভিন্ন বস্তুর মাঝে প্রচলিত সহজাত স্বভাবকে খোলাখুলিভাবে অস্বীকার করতে হবে। কেননা, বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও কর্মানুষ্ঠানের মাধ্যমে যা কিছু প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে এবং যেগুলোর মাঝে কোনো রকমের পরিবর্তন ও পরিবর্ধন লক্ষ্য করা যায়নি। এগুলোর মাঝে অ-স্বাভাবিক কোনো কিছুর কল্পনা করা মোটেই সম্ভব নয়। কিন্তু মু’জ্বিযা তা থেকে আলাদা।
এ ক্ষেত্রে স্বভাবতই এই প্রশ্ন উঠতে পারে যে, তবে কি এই প্রাকৃতিক নিয়মাবলী, এই কার্যকারণ সম্পর্কের প্রবাহ, সহজাত স্বভাব ও পরিক্রমার মাঝে কোনো রকম পরিবর্তন ও পরিবর্ধন হতে পারে না? এবং প্রকৃতই কি এগুলো অপরিবর্তনীয়? দার্শনিক এবং বৈজ্ঞানিকদের একটি দলের অভিমত এই যে, প্রচলিত এই নিয়ম-শৃঙ্খলা, এই গতিময়তা, এই বিধি-বিধান কখনো ক্ষুণœ হতে পারে না। এমনকি পরিবর্তিতও হতে পারে না। মুসলিম বৈজ্ঞানিকদের একটি শ্রেণী (যেমন ফারাবি, ইবনেসিনা, ইবনে মাসকাওয়াই প্রমুখ) এই অভিমত পোষণ করে যে, এ কথা যথার্থ সত্য যে, এই প্রাকৃতিক নিয়ম-শৃঙ্খলা, গতিময়তা এবং কার্যকারণ সম্পর্কের মাঝে কোনো রকম পরিবর্তন ও ব্যতিক্রম হতে পারে না। এমনকি দুনিয়ার কোনো বস্তু সহজাত কার্যকারণ সম্ভূত উপাদানহীন পয়দা হতে পারে না। কিন্তু তাদের এ অভিমত সঠিক নয়। কেননা, মু’জ্বিযা এই নিয়মতান্ত্রিকতা হতে সর্বোতভাবে পৃথক বা মুক্ত। এগুলো দ্বারা প্রাকৃতিক নিয়মাবলী ছিন্ন হয়ে যায়। তবে এক্ষেত্রেও কার্যকারণ সম্পর্কের স্বাভাবিক পরিণতি লক্ষ্য করা যায়; যার অন্তর্নিহিত মর্ম এবং কার্যকারণ সম্পর্কিত বিষয়াদির প্রকৃত স্বরূপ উপাদানসুলভ বস্তু দ্বারা অনুভূত হয়।
উত্তর দিচ্ছেন : মোহাম্মদ ফারহানুল বারী দাইয়্যান।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: আপনাদের জিজ্ঞাসার জবাব
আরও পড়ুন