Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৮ আশ্বিন ১৪২৫, ১২ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

রেড এলার্ট কেরালার ১৩ জেলায় বন্যা ভূমিধসে অসংখ্য প্রাণহানি

তামিলনাড়ুর একটি বাঁধের ফটক খুলে দিলে পরিস্থিতির অবনতি হয়

ইনকিলাব ডেস্ক : | প্রকাশের সময় : ১৮ আগস্ট, ২০১৮, ১২:০৩ এএম

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালায় টানা বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ১৭৩ জনে দঁাঁড়িয়েছে এবং রাজ্যের ১৩টি জেলায় রেড এলার্ট জারি করা হয়েছে বলে মানি কন্ট্রোল ডটকম জানিয়েছে। মুষলধারে এ বৃষ্টি শনিবারের আগে থামছে না বলে পূর্বাভাসে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এরই মধ্যে রাজ্যটির প্রায় দেড়লাখ বাসিন্দা গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। পানিবদ্ধ ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার অধিবাসীদের সরিয়ে নিতে উদ্ধারকর্মীরা জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি। টানা বৃষ্টিতে পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন বাঁধ খুলে দিতে বাধ্য হলে কেরালার অধিকাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। প্রায় এক শতকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এ প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্তত ১৭৩ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এর আগে ১১৪ জনের প্রাণ হানি হয়েছে বলে সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছিল। ভূমিধসের কারণে সৃষ্ট ধ্বংসস্তুপের নিচে চাপা পড়ে অধিকাংশের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজ্য কর্তৃপক্ষ। আরও বৃষ্টি এবং বন্যা-ভূমিধসের আশঙ্কার দক্ষিণের এ রাজ্যটির ১৪টি জেলার ১৩টিতেই সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। জনসাধারণকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে নির্দেশ দিয়েছে পিনারাই বিজয়নের সরকার। রাজ্যের সব স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে; অনেক জেলাতেই পর্যটকপ্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। বন্যায় আটকে পড়াদের উদ্ধারে হেলিকপ্টার, লাইফবোটের পাশাপাশি বিভিন্ন বাহিনীর হাজারও সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন বলেন, আমরা এমন কিছু প্রত্যক্ষ করছি, কেরালার ইতিহাসে আগে যা কখনোই দেখা যায়নি। প্রায় সব বাঁধ খুলে দেওয়া হয়েছে। যেসব প্ল্যান্টের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হতো তার বেশিরভাগই তলিয়ে গেছে। পার্শ্ববর্তী রাজ্য তামিলনাড়ু একটি বাঁধের ফটক খুলে দিলে পরিস্থিতির অবনতি হয়; এটিকে রাজ্য সরকারের ব্যর্থতা হিসেবেও মেনে নিয়েছেন এ সিপিএম নেতা। কেরালার বাণিজ্যিক রাজধানী কোচির অনেক এলাকা ডুবে যাওয়ায় সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। বন্যার পানিতে রানওয়ে ডুবে যাওয়ায় কোচি বিমানবন্দরের সব কার্যক্রম ২৬ অগাস্ট পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। দুর্যোগ কবলিত ত্রিচুর, আলুভা ও মুভাত্তুপুঝায় আটকে পড়া মানুষদের হেলিকপ্টারে করে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেছে ভারতের সশস্ত্রবাহিনী। ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযানে নতুন করে সামরিক বাহিনীর তিনটি উইংকে নামানো হয়েছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া বাহিনীর (এনডিআরএফ) ১২টি দল আগে থেকেই মোতায়েন আছে। কেরালার মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক সতর্কবার্তায় পেরিয়ার ও চালাকুদি নদীর পানি বাড়তে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে আলুভার অবস্থাই সবচেয়ে বাজে বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো। দক্ষিণের ইডুক্কি ও উত্তরের মালাপ্পুরাম ও কান্নুরে নতুন করে ভূমিধসের খবর পাওয়া গেছে। সরকারি যানবাহন ছাড়া অন্য কোনো গাড়িকে পর্যটকদের অন্যতম পছন্দের স্থান মুন্নারে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। পম্পা নদীর পানির মাত্রা বেড়ে যাওয়ার শঙ্কায় সাবারিমালার পাহাড়ি মন্দিরের দিকে যেতেও জনসাধারণকে নিষেধ করা হয়েছে। এনডিটিভি, পিটিআই, টাইমস অব ইন্ডিয়া।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর