Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫, ৮ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

মির্জাপুর পৌর কাউন্সিলর শিপন ও কথিত স্ত্রী ইয়াবাসহ আটক

কাউন্সিলরকে ছেড়ে দেয়া নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৮ আগস্ট, ২০১৮, ৪:৫১ পিএম

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শহীদুর রহমান শিপন ও তার কথিত স্ত্রী শ্যামলীকে ২শ পিস ইয়াবাসহ আটক করে মির্জাপুর থানা পুলিশ।
শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ক্যাডেট কলেজ নামকস্থান থেকে তাদের আটক করা হয়। চলমান মাদক বিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে কাউন্সিলর শিপন আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানা গেছে।তার বিরুদ্ধে আদালতের হুলিয়া রয়েছে বলে মির্জাপুর থানা পুলিশ জানিয়েছেন।
২০১৬ সালের ২২ জুন ভোরে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ কাউন্সিলর শিপন ও তার কথিত স্ত্রী শ্যামলী বেগম এবং প্রাইভেট কার চালক মিনহাজ উদ্দিনকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুর মহানগরীর বাইমাইল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে জয়দেবপুর থানা পুলিশ।ওই মামলায় সে প্রায় চার মাসের বেশি সময় জেল হাজতে ছিলেন। পরে আদালতের জামিনের মাধ্যমে সে মুক্ত হয়।
এদিকে চলমান মাদক বিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর আত্মগোপনে থাকা কাউন্সিলর শিপন শুক্রবার রাতে ইয়াবাসহ কথিত স্ত্রীকে নিয়ে মহাসড়কের ওইস্থান গ্রেপ্তার হন। কিন্ত স্ত্রী শ্যামলীর নামে মাদক মামলা দিয়ে জেল হাজতে পাঠালেও অজ্ঞাতকারণে পুলিশ কাউন্সিলর শিপনকে ছেড়ে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ব্যাপারে কথিত স্ত্রী শ্যামলী স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে কান্না জড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করে জানান মোটা অংকের টাকা দেয়ায় পুলিশ কাউন্সিলর শিপনকে ছেড়ে দিয়েছে। কিন্ত আমি টাকা দিতে না পারায় পুলিশ আমার কাছ থেকে ২শ পিস ইয়াবা উদ্ধার দেখিয়ে মামলা দিয়েছে।
কাউন্সিলর শিপনকে আটকের পর ছেড়ে দেয়ার কথা অভিযানে অংশ নেয়া পুলিশের তিন কর্মকর্তা স্বীকার করলেও আটকের সময় ও স্থান নিয়ে তারা ভিন্নধর্মী বক্তব্য দিয়েছেন।

মির্জাপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মিজানুল হক জানান শুক্রবার বিকেলে মির্জাপুর ক্যাডটে কলেজ এলাকা থেকে শ্যামলীকে আটকের পর তার দেহ তল্লাশী করে দুইশ পিচ ইয়াব উদ্ধার করা হয় ।পরে শ্যামলীর সহায়তায় ওই স্থান থেকেই কাউন্সিলর শিপনকেও আটক করার কথা জানান তিনি। পরে তাদের নিয়ে গাজীপুরের চন্দ্রা এলাকায় তাদের ভাড়া বাসায় তল্লাশী চালানো হয়।
অন্যদিকে অভিযানে অংশ নেয়া টাঙ্গাইলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মির্জাপুর সার্কেলের এএসপি আফসার উদ্দিন খান জানান রাত পৌনে দশটার দিকে ক্যাডেট কলেজ এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। কিন্ত আটক অভিযানে অংশ নেয়া মির্জাপুর থানার সহকারী উপ পরিদর্শক (এএসআই)বিশ্বজিৎ জানিয়েছেন সন্ধা সাতটার কিছু পর গাজীপুরের কালিয়াকৈরের স্কয়ার ফার্মাসিটিক্যালের সামনে থেকে তাদের আটকের করা হয়।
কাউন্সিলর শিপনের বিরুদ্ধে আদালতের হুলিয়া রয়েছে তা মির্জাপুর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই)শফিকুল আলম জানিয়েছেন।
িএ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মির্জাপুর সার্কেল আফসার উদ্দিন খান বলেন, কাউন্সিলর শিপন আমাদের কাছে রেড লিস্টে রয়েছে। পুলিশের নজরদারীতেও রয়েছে। হুলিয়ার বিষয়ে তার জানা ছিল না বলে তিনি জানিয়েছেন।
এদিকে আত্মগোপনে থাকা কাউন্সিলর শিপনকে আটকের সময় ও স্থান নিয়ে পুলিশের তিন কর্মকর্তার ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।# মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, মির্জাপুর, ১৮-০৮-২০১৮



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ