Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ২৯ কার্তিক ১৪২৫, ০৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
শিরোনাম

মালয়েশিয়ায় অবৈধ কর্মীদের গ্রেফতার আতঙ্ক

ডেড লাইন ৩১ আগস্ট

শামসুল ইসলাম | প্রকাশের সময় : ১৯ আগস্ট, ২০১৮, ১২:০৩ এএম

মালয়েশিয়ায় দেড় লক্ষাধিক অবৈধ বাংলাদেশী কর্মী গ্রেফতার আতঙ্কে ভুগছেন। আগামী ৩১ আগষ্টের মধ্যে মালয়েশিয়া ত্যাগ করতে হবে অবৈধ অভিবাসী কর্মীদের। মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ উল্লেখিত সময়ের মধ্যে সকল অবৈধ অভিবাসীদের স্ব স্ব দেশে ফিরে যেতে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এতে দেশটিতে কর্মরত দেড় লক্ষাধিক অবৈধ বাংলাদেশী কর্মী চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন। সোর্স কান্ট্রি হিসেবে বাংলাদেশ জনশক্তি রফতানির সুযোগ পেলেও প্রতারণার শিকার হয়ে এসব অবৈধ বাংলাদেশী কর্মীর অধিকাংশই বৈধতা লাভের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। মালয়েশিয়ার নিযোগকর্তারা বাংলাদেশী কর্মীদের নিয়োগ দিতে বেশি আগ্রহী। মালয়েশিয়ায় মেগা-থ্রি অভিযানে অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেফতার অব্যাহত রয়েছে। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর থেকে একাধিক সূত্র এতথ্য জানিয়েছে। দেশটিতে ৬ লক্ষাধিক বাংলাদেশী কর্মরত রয়েছে। যে সব অভিবাসী কর্মী দশ বছরের অধিক হয়েছে তাদের আর ভিসার মেয়াদ বাড়াবে না বলে দেশটি’র সরকার ঘোষণা দিয়েছে। এতেও প্রচুর বাংলাদেশী উৎকন্ঠায় রয়েছে।
গত জুলাই মাসের শেষ দিকে ইমিগ্রেশন পুলিশ দেশটির রাজধানী কুয়ালালামপুরের মারা ডিজিটাল মল ও তার আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫৪ বাংলাদেশিসহ ১৩৯ জনকে আটক করেছে। মেগা-থ্রি-অভিযানে কতজন অবৈধ বাংলাদেশী অভিবাসী আটক রয়েছেন এ বিষয়ে ইমিগ্রেশনের কাছে সঠিক হিসাব না থাকলেও তাদের ধারণা ইন্দোনেশিয়ার পরে বেশি অবৈধ বাংলাদেশি শ্রমিক রয়েছে মালয়েশিয়ায়।
দেশটির ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক দাতুক মোস্তফা আলী সম্প্রতি স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে সকল অবৈধ শ্রমিককে থ্রি-প্লাস পদ্ধতি অনুসরণ করে নিজ নিজ দেশে ফিরত যেতে হবে। ৩১ অগস্টের পরে কোনো অবৈধ শ্রমিককে মালয়েশিয়া থাকতে দেয়া হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। মালয়েশিয়ায় ইমিগ্রেশন পুলিশের এমন অভিযানে আতঙ্কে দিন কাটছে অবৈধ বাংলাদেশিদের। বিভিন্ন সময়ে মালয়েশিয়ায় কথিত এজেন্ট দ্বারা প্রতারিত হওয়ার কারণেই অধিকাংশ বাংলাদেশি বৈধ হতে পারেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর থেকে ভেস্ট-মার্কেটিং এসডিএন বিএইচডি’র ম্যানেজিং পার্টনার মো: রুহুল আমিন ইনকিলাবকে বলেন, মাইজি’র মাধ্যমে দালালদের সহায়তায় হাজার হাজার প্রবাসী কর্মী বৈধতা লাভের জন্য জনপ্রতি ৫ হাজার রিংগিট থেকে ৬ হাজার রিংগিট দিয়েও বৈধতা লাভের সুযোগ পায়নি। তারা এখন পালিয়ে পালিয়ে কাজ করছে। আগামী ৩১ আগষ্টের মধ্যে অবৈধ প্রবাসী কর্মীরা স্বেচ্ছায় মালয়েশিয়া ত্যাগ না করলে পরে ধরা পড়লে জেল জরিমানা দিতে হবে। মালয়েশিয়ায় অবৈধ প্রায় দেড় লাখ বাংলাদেশী কর্মীদের বৈধতা দেয়ার সময়সীমা পুন:বর্ধিত করণের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশু হস্তক্ষেপ কামান করেন।
২০১৬ সালে অবৈধ শ্রমিকদের বৈধকরণ প্রক্রিয়ার বড় একটি অংশ বাংলাদেশি এজেন্ট দ্বারাই অবৈধকর্মীরা ইমিগ্রেশনে ফিঙ্গারপ্রিন্ট করে। ঐ সব কোম্পানির অধিকাংশ মালিক বাংলাদেশের। মালয়েশিয়ান স্ত্রী ও তাদের নামে খোলা বিভিন্ন কোম্পানি। এসব কোম্পানির কোনো কাজ না থাকলেও শুধু অর্থের লোভে বাংলাদেশিদের ফিঙ্গার প্রিন্ট করানো হয় বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। আর ওই ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে প্রতারক বাংলাদেশি চক্রটি হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। দীর্ঘদিন ঘুরেও কোনো প্রকার ভিসা না পেয়ে বর্তমানে মালয়েশিয়া সরকারের সাধারণ ক্ষমার আওতায় ট্রাভেল পাস কেটে দেশে ফিরে আসছেন অনেক বাংলাদেশি। আর এসব বাংলাদেশি বৈধ হওয়ার জন্য এজেন্টের হাতে টাকা পাসপোর্ট তুলে দিলেও পাননি বৈধতা। টাকা ফেরত দেয়া তো দূরে থাক টাকা চাইলে তাদের বিভিন্ন ভয়-ভীতি প্রদর্শন করা হয়। মালয়েশিয়ার কলকারখানা অধ্যুষিত এলাকা পেনাংয়ে সেবা ট্রাভেলস এসডিএন বিএইচডি’র স্বত্বাধিকারী প্রবাসী ব্যবসায় ইউনুস আলী গত রাতে ইনকিলাবকে বলেন, মাইজি’র কাগজ পেয়েছে কিন্ত ওয়ার্ক পারমিট এখনো পায়নি এমন প্রায় দেড় লাখ বাংলাদেশী কর্মী রয়েছে মালয়েশিয়ায়। তিনি বলেন, আমার প্রতিষ্ঠানের সেলসম্যানেজার নাজমূল গত দু’বছরেও ওয়ার্ক পারমিট পায়নি। প্রবাসী ব্যবসায়ী ইউনুস আলী বলেন, দেশটিতে কর্মরত বাংলাদেশী কর্মীরা কঠোর প্ররিশ্রম করে প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মূদ্রা অর্জন করছে। তিনি অবৈধ কর্মীদের বৈধতা লাভের সুযোগ সৃষ্টির জন্য প্রধানমন্ত্রী’র আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন প্রবাসী বলেন, ২০১৭ সালে বাংলাদেশের এজেন্ট আমার কাছ থেকে চার হাজার রিঙ্গিত (বাংলাদেশি ৮০ হাজার টাকার) বিনিময়ে আমাকে শুধু একটি মাই ইজির কাগজ ধরিয়ে দেয়। দীর্ঘদিন ঘুরেও আমার ভিসা না হওয়ার কারণে আমাকে দেশে চলে যেতে হচ্ছে। পাহাং জেলার কুয়ান্তান এলাকায় বাংলাদেশি এজেন্ট দ্বারা প্রতারিত হয়ে প্রায় দুই থেকে তিনশ বাংলাদেশি দেশে চলে গেছেন। এভাবেই মানবেতর জীবন-যাপন আর ধরপাকরের ভয়ে খালি হাতে দেশে ফিরতে হচ্ছে বাংলাদেশিদের।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর