Inqilab Logo

বুধবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২২, ০৫ মাঘ ১৪২৮, ১৫ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

বঙ্গবন্ধু হত্যার মূল পরিকল্পনাকারীদের বিচার হয়নি: আইনমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৯ আগস্ট, ২০১৮, ১:০১ এএম

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর আদালতে বিচার কার্যক্রম শেষ হলেও এখনো হত্যার পরিকল্পনাকারীদের বিচার হয়নি বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

গতকাল শনিবার ধানমন্ডি ৩২ এর বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটি আয়োজিত শোক দিবসের আলোচনায় তারা এমন মন্তব্য করেন। আলোচনায় বিভিন্ন দেশের প্রায় ৫০জন কূটনীতিক উপস্থিত ছিলেন।
সভায় আইনমন্ত্রী জানান, একটি দেশের জাতির পিতাকে হত্যার পর আইন করে সেই হত্যার বিচারকার্যক্রম বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করা হয়। ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর খন্দকার মোস্তাক আহমেদ ইনডিমিনিটি বিলে স্বাক্ষর করেন। কিন্তু তারপর জিয়াউর রহমান ক্ষমতা নিলেও এই আইন বাতিল করেননি। শুধু তাই নয়, জিয়াউর রহমানের পর এরশাদ এবং ১৯৯০ সালে বিএনপি পুনরায় ক্ষমতায় আসার পরও এই কালো আইন বাতিল করেনি। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এই আইন বাতিল হয় এবং মামলার কার্যক্রম শেষ হয়।
মামলা নিয়ে বিচারকদের বিব্রতবোধের বিড়ম্বনার পাশাপাশি তথ্য ও দলিলাদি সংগ্রহ করতে তাদের অনেক কষ্ট করতে হয়েছে জানিয়ে আনিসুল হক বলেন, শেষ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারকে সরাসরি হত্যাকারীদের আমরা বিচারের আওতায় আনতে পেরেছে। কিন্তু এখনো ধরাছোঁয়ার বাহিরে মূল পরিকল্পনাকারীরা। বঙ্গবন্ধু হত্যায় জিয়াউর রহমানের সংশি¬ষ্টতা এখন বেশ স্পষ্ট। তাই আমি মনে করি আদালতে বিচার কার্যক্রম শেষ হলেও এখনো হত্যার পরিকল্পনাকারীদের বিচার হয়নি।
অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস বলেন, আমার বয়স তখন মাত্র ৩ বছর ৯ মাস। মা-বাবার সাথে কোন সুখ স্মৃতি আমার মনে নেই। শুধু মনে আছে মেঝেতে রক্তাক্ত পরে থাকা আমার বাবার লাশ এবং তারপর মেঝে জুরে ছড়িয়ে থাকা রক্তের কথা। তিনি বলেন, বাবা-মা ছাড়া আমাদের কেউ দীর্ঘ সময় আশ্রয় দিতে চায়নি। এই আত্মীয়ের বাসা থেকে ওই আত্মীয়ের বাসায় আমার ৫ বছরের বড় ভাই আমাকে নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন। সর্বোচ্চ ৪৫ দিনের বেশি কেউ আমাদের আশ্রয় দেয়নি। কিন্তু এটা বড় কষ্ট ছিলো না। সবচেয়ে বড় কষ্ট ছিলো- হত্যাকারীদের বিচার করতে না পারা। আর তার থেকেও বড় কষ্ট ছিলো বঙ্গবন্ধু ও আমার বাবাকে নিয়ে চালানো প্রোপাগান্ডা।
তাপস বলেন, ১৯ নভেম্বর আমার জন্মদিন। এই দিনে বঙ্গবন্ধু ও আমার পরিবারকে হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে পূর্ণ রায় পাই। কখনো আমার জন্মদিন পালন করা হয়নি। কিন্তু এটি ছিলো আমার জন্য সবচাইতে বড় জন্মদিনের উপহার। কিন্তু তাই বলে এই রায়েও পরিপূর্ণ তিনি সন্তুষ্ট নন জানিয়ে উপস্থিত কূটনীতিকদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রেখে তাপস বলেন, আত্বস্বীকৃত খুনিরা জানিয়েছেন, ‘জিয়াউর রহমানের সাথে দেখা করে ক্যু এর কথা জানানো হয় এবং প্রতি উত্তরে জিয়া বলেন, ‘গো এহেড’।’ এটা কি সরাসরি রাষ্ট্রদ্রোহিতা নয়? বিষয়টা এভাবেই বলা, ‘আমি যেতে পারছি না, তোমরা কাজটি করে এসো’।
অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর উপর জাপানি চলচ্চিত্রকারের নির্মিত একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। এর পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর আÍস্বীকৃত খুনিদের সাক্ষাৎকার এবং এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের একটি সাক্ষাৎকার প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কর্নেল (অব) মুহম্মদ ফারুক খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, চীফ হুইপ আ স ম ফিরোজ। আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ব্যারিস্টার শাহ আলী ফরহাদের সঞ্চালনায় এতে উপ-কমিটির সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের অত্যন্ত বন্ধুত্বসুলভ সম্পর্ক রয়েছে : আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বর্তমানে বাংলাদেশে অত্যন্ত বন্ধুত্বসুলভ সম্পর্ক রয়েছে। আমাদের এই সম্পর্কের উপর আস্থা রেখে বলতে পারি, যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে থাকা বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীকে যথাশীঘ্রই ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকায় বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের সংবিধান শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
আইন মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে আমি আগেও বলেছি আজও বলছি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের অত্যন্ত বন্ধুত্বসুলভ সম্পর্ক রয়েছে। আপনারা দেখেছেন ২০০৭ সালে তারা বঙ্গবন্ধুর এক খুনিকে ফিরিয়ে দিয়েছে। এখনো সেখানে একজন চিহ্নিত খুনি রয়েছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তৎকালীন সরকার এই খুনিকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ না নেওয়ার সুযোগে সে অনেক আইনি লড়াইয়ের মধ্যে ছিলো। তারপরও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে আমাদের সঙ্গে আলোচনারত রয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তারা তাকে কিভাবে ফিরিয়ে দিতে পারে সে বিষয়ে আলোচনা চলছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সঙ্গে আমাদের অত্যন্ত বন্ধুসুলভ সম্পর্ক রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। এ বন্ধুত্বসুলভ সম্পর্কের ওপর আস্থা রেখেই সে দেশে থাকা বঙ্গবন্ধুর খুনীকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলেও তিনি মনে করেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলার মামলা প্রসঙ্গে আনিসুল হক বলেন, মামলা প্রায় শেষ পর্যায়ে। সাধারণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই মামলাটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আমরা জানি, যারা আসামী তারা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক কাজ করেছেন। তারা এ মামলায় কালক্ষেপণের চেষ্টা করছেন। তবু আমরা তাদের কালক্ষেপণ সত্বেও এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। তাই মামলার আসামীদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিচ্ছি।
আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অনেক সময় নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তাই আসুন, বাংলাদেশ যখন বিশ্বের কাছে রোল মডেল এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার দিকে এগিয়ে যাই এবং ২০৪১ সালের মধ্যে আমরা উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার স্বপ্নকে সত্যি করি।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা ও জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক মো আব্দুল মান্নান ইলিয়াস। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান।
##



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: আইনমন্ত্রী


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ