Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫, ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

স্বাগতম আকাশবীণা

হোসাইন আহমদ হেলাল : | প্রকাশের সময় : ২০ আগস্ট, ২০১৮, ১২:০২ এএম

বিমান বহরে যুক্ত হলো ড্রিমলাইনার ৭৮৭
রানওয়ে স্পর্শের পরই ওয়াটার ক্যানন স্যালুট


বাংলাদেশের মাটি ও আকাশে স্বাগতম ‘আকাশবীণা’। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে যুক্ত হলো চতুর্থ প্রজম্মের উড়োজাহাজ বোয়িং ড্রিমলাইনার ৭৮৭। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে গতকাল রোববার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে হযরত শাহাজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে স্পর্শ করেছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী উড়োজাহাজ ‘আকাশবীণা’। ওয়াটার ক্যানন স্যালুটের মাধ্যমে স্বাগত জানানো হয় সর্বাধুনিক প্রযুক্তির নতুন উড়োজাহাজ ‘আকাশবীণা’কে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী ১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উড়োজাহাজ উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। উদ্বোধনের পর প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইট হিসেবে আকাশবীণা ২৭১ জন যাত্রী নিয়ে নিয়ে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার উদ্দেশে আকাশে ডানা মেলবে। এ নিয়ে বিমানের বহরে ড্রিমলাইনারের সংখ্যা হলো ১৫টি। চলতি বছর আরও একটি এবং আসছে বছরে দু’টি ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ বিমানের বহরে যুক্ত হবে। এ ৩টি বিমানের নামও ঠিক করে রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী। নামগুলো হলো, হংস বলাকা, গাঙচিল ও রাজহংস।
বিমান বহরে থাকা ডিসি ১০ উড়োজাহাজগুলো পুরনো হয়ে যাওয়ায় ২০০৮ সালে মার্কিন বিমান নির্মাতা সংস্থা বোয়িংয়ের সাথে ২১০ কোটি ডলারে ১০টি উড়োজাহাজ ক্রয়ের চুক্তি করা হয়। এরই মধ্যে ৬টি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর এবং ২টি ৭৩৭-৮০০ বিমান ক্রয় করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৪টি অত্যাধুনিক ৭৮৭ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ দিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে চায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
বিমানের মহা-ব্যবস্থাপক সাকিল মেরাজ সাংবাদিকদের বলেন, আমরা আশা করি ড্রিমলাইনারের মাধ্যমে বিমানের ইমেজ এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। সে সাথে বিমান তার সেবার এক নতুন দিগন্ত উম্মোচন করবে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, টানা ১৬ ঘণ্টা উড়তে সক্ষম ড্রিমলাইনার দিয়ে দীর্ঘ দূরত্বে ফ্লাইট পরিচালনা করতে না পারাটা হবে বিমানের ব্যর্থতা।
এ বিষয়ে সিভিল এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, ১০ বছর আগে ড্রিমলাইনারের অর্ডার দেয়া হয়েছে। এই ১০ বছর যে ধরনের রুট প্ল্যানিং করা দরকার ছিলো তা কিন্তু করা হয়নি। উপরন্তÍ যেসব রুট ছিলো সেগুলোও বন্ধ হয়ে গেছে। এক সময় বিমান ২৯টি আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করতো। এখন সেটি ১৪টিতে নেমেছে। সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ ক্যাটাগরি-টু থাকার কারনে ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। ঢাকা থেকে কানাডার টরন্টোতে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র হয়ে যেতে হবে। সে কারনে টরন্টোর ফ্লাইট এ মুহূর্তে পরিচালনা করা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে বিমানের মহা-ব্যবস্থাপক বলেন, নিউইয়র্কের বেলায় প্রযোজ্য। কিন্তু ইউরোপের বেলায় তো সেটা প্রযোজ্য না। রোমে বা ফ্রাংকফুটে বিমান নিয়মিতভাবে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। বিমান নিজেই বন্ধ করে দিয়েছে। কারন সেখানে তারা বলছে যে, বাণিজ্যিকভাবে সফলতা অর্জন করতে পারছে না। এসব জায়গা এখন বাংলাদেশির সংখ্যা অনেক বেড়েছে। রুটগুলো পরিচালনার জন্য যে ধরনের সক্ষমতা থাকা প্রয়োজন বিমানের তা নেই।
যুক্তরাজ্যের ফার্ণবরোতে এরইমধ্যে ‘আকাশবীণা’ উড়োজাহাজটি প্রদর্শন করা হয়েছে। বিমান কর্তৃপক্ষ জানায়, ৪৩ হাজার ফুট উচ্চতায় ঘণ্টায় ৯৫৬ কিলোমিটার গতিতে টানা ১৬ ঘণ্টা উড়তে সক্ষম ড্রিমলাইনার আকাশবীণা। বিমানটি লম্বায় ৫৭ মিটার ও উচ্চতায় ১৭ মিটার। যাত্রীদের আরামদায়ক যাত্রায় আধুনিক সব সুবিধা থাকছে উড়োজাহাজে। এতে মোট আসন সংখ্যা হচ্ছে ২৭১টি। এরমধ্যে বিজনেস ক্লাস ২৪টি আর ২৪৭টি ইকোনমি ক্লাস।
আছে ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ। বিজনেস ক্লাসে ২৪টি আসন ১৮০ ডিগ্রি পর্যন্ত রিক্লাইন্ড সুবিধা এবং সম্পূর্ণ ফ্ল্যাটবেড হওয়ায় যাত্রীরা আরাম ও স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে ভ্রমণ করতে পারবেন। ২০ ভাগ জ্বালানি সাশ্রয়ী ড্রিমলাইনার দিয়ে বাণিজ্যিক সফলতার আশা করা হলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অত্যাধুনিক উড়োজাহাজ বিমান বহরে যুক্ত করার পাশাপাশি বাড়াতে হবে সক্ষমতা ও সেবার মান।
বর্তমানে বিমানে যে সেবা প্রদান করা হচ্ছে, এটি নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে যাত্রীদের মধ্য থেকে। নিম্নমানের সেবাই নয় যাত্রীদের সাথে স্টাফদের দুর্ব্যাবহার এবং শিডিউল বিপর্যয়ের অভিযোগ ওঠেছে। এগুলোতে পরিবর্তন আনা হলে বিমান বহরে যুক্ত হওয়া ড্রিমলাইনার ‘আকাশবীণা’ সাফল্য বয়ে আনবে বলে মনে করছেন যাত্রীরা।



 

Show all comments
  • আন্জুমান আরা হোসাইন ২০ আগস্ট, ২০১৮, ৭:৫৮ এএম says : 0
    খুব ভালো সংবাদ।ইনকিলাব ধন্যবাদ।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর