Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ০১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
শিরোনাম

আদালতে শ্বশুরের স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি

শিল্পী হত্যা

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি | প্রকাশের সময় : ২০ আগস্ট, ২০১৮, ২:৪৪ পিএম

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পুলিশ কর্মকর্তা ফিরোজ আল মামুনের স্ত্রী শিল্পী বেগমকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় তার শ্বশুর আবুল কাশেম আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পারিবারিক কলহ এবং ছেলে পুলিশের সহকারি উপপরিদর্শক ফিরোজ আল মামুন কর্তৃক শারীরিকভাবে নির্যাতিত হয়ে তিনি এই হত্যাকান্ড ঘটান বলে জবানবন্ধিতে স্বীকার করেন। ১৪ আগস্ট টাঙ্গাইল সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক রুপম কুমার দাসের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্ধি দেন বলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক কমল সরকার জানিয়েছেন।

গত ১৩ আগষ্ট সোমবার বিকেলে মির্জাপুর পৌরসভার বাওয়ার কুমারজানী গ্রামে শিল্প পুলিশের এএসআই ফিরোজ আল মামুন ও তার স্ত্রী শিল্পী বেগমকে বসত ঘরে ঢুকে দুর্বৃত্তরা কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। কুমুদিনী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন রাতে শিল্পীর মৃত্যু হয়। মূমুর্ষূ অবস্থায় ফিরোজ আল মামুনকে ওই রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাপসাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে মামুন সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এই ঘটনায় মির্জাপুর থানা পুলিশ শিল্পীর শ্বশুর আবুল কাশেম ও শাশুরী অজুফা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। পরে যোগীরকোফা গ্রামের বাসিন্দা নিহত শিল্পীর ভাই মোহাম্মদ মোস্তফা বাদী হয়ে বোন জামাই ফিরোজ আল মামুন, তার ছোট ভাই সানি, বাবা আবুল কাশেম ও মা অজুফা বেগমকে আসামী করে মামলা করেন। পুলিশের কাছে প্রাথমিকভাবে হত্যার কথা স্বীকার করায় আবুল কাশেম এবং অজুফা বেগমকে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়। সেখানে আদালতের বিচারক রুপম কুমার দাসের কাছে বাবা আবুল কাশেম হত্যার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দিতে আবুল কাশেম বলেন, এইচএসসি পাশ করার পর তিনি টিউশনি পরে ব্র্যাক স্কুলে শিক্ষকতা করে ছেলেদের মানুষ করেছেন। বড় হয়ে মামুন চাকুরী পেয়ে আমাদের ভরন পোষনের পরিবর্তে অত্যাচার নির্যাতন শুরু করে। মামুনের প্রথম স্ত্রী সন্তান প্রসবের সময় মারা যায়। মামুনের স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তার দুই ছেলেকে লালন পালন করতে আর্থিক অনটনে পড়েন। এসব বিষয় নিয়ে কথা বলায় মামুন তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতো বলে তিনি আদালতকে জানান । ঘটনার ১৫/১৬ দিন আগেও এএসআই মামুন তাকে ও তার স্ত্রীকে অজুফা বেগমকে শারিরিক ভাবে নির্যাতন করে আহত করেন বলেও জানান। এসব ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে সুযোগ বুঝে প্রথমে ছেলের বৌ শিল্পীকে ছাদের ওপর এবং পরে নিচে বেড রুমে ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা ছেলে মামুনকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন তিনি। এরপর কুড়ালের লোহার অংশ টুকু ধুয়ে ওয়ারড্রপের ওপর কাঠের অংশ বাসার নীচে পানিতে ফেলে দেন। এ ঘটনায় তিনি একাই জড়িত বলেও তিনি আদালতকে জানিয়েছেন।

মির্জাপুর থানা উপ পরিদর্শক (এসআই) কমল সরকার গুরুতর আহত এএসআই মামুনের নামে হত্যা মামলার হওয়ার কথা জানিয়ে বলেন তিনি এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। যেহেতু সে গাজীপুর শিল্প পুলিশে কর্মরত রয়েছেন। বিষয়টি টাঙ্গাইল পুলিশ সুপারের মাধ্যমে শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপারকে জানানো হয়েছে।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মো. সিদ্দিকুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, পুলিশের সহকারি উপপরিদর্শক (এএসআই) ফিরোজ আল মামুন পুলিশ পাহাড়ায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। মামুন ছুটিতে যাওয়ার পর এ ঘটনাটি ঘটেছে। তিনি নিজেও আহত হয়েছে। মামুন নিজেই এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে কিনা বা অন্য কারো দ্বারা হামলার স্বীকার হয়েছেন তা টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ তদন্ত করছেন। মামুন সুস্থ হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ