Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮, ০৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

তুরস্ক কারো কাছে মাথা নত করবে না

একে পার্টির কংগ্রেসে এরদোগান

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২১ আগস্ট, ২০১৮, ১২:০৩ এএম

তুর্কী প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান তার দলের উচ্চ পরিষদ কংগ্রেস সদস্যদরে সাথে এক পুণর্মিলনী অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অভিযোগ করে বলেন, যদিও দৃশ্যত যুক্তরাষ্ট্রকে আমাদের একটি ‘কৌশলগত মিত্র’ হিসাবে মনে হচ্ছে, কিন্তু আসলে দেশটি তুরস্ককে ‘কৌশলগত টার্গেটে’ পরিণত করেছে। চলতি মাসের ১৮ তারিখে স্থানীয় সময় সাড়ে ১১টা থেকে তুরস্কের রুলিং জাস্টিস এন্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একেপি)’র সর্বোচ্চ কংগ্রেস শুরু হয় এবং সেখানে এরদোগান একেপি পার্টির হাজার হাজার সমর্থকদের স্বাগত জানান।
মার্কিনীদের নেতিবাচক ভূমিকার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এরদোগান বলেন, ‘তারা কখনো আমাদেরকে ভেঙ্গে দিতে পারেনি এবং ভবিষ্যতেও পারবে না। যদি তাদের কাছে ডলার থাকে, আমাদের জন্য আল্লাহ আছেন। আমরা একসাথে দৃঢ় পদক্ষেপে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাব।’ এরদোগান তুরস্কের জাতীয় মুদ্রার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাস’ বলে অভিহিত করে সমবেত জনগণের উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন। ‘আল্লাহর ইচ্ছায়, আমরা বিশ্বকে এই কংগ্রেসের মাধ্যমে একটি ভিন্ন বার্তা দিতে চাই যে আমরা প্রথমবারের মত একটি নতুন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এখানে সমবেত হয়েছি।’- এরদোগান এমনটি যোগ করেন। এরদোগান একেপি পার্টির কংগ্রেসের আড়ম্বরপূর্ণ বজায় রেখে অঙ্গীকার করে বলেন, ‘আমরা তাদের প্রতি আত্মসমর্পণ করবো না, যারা আমাদের কৌশলগত মিত্র হওয়া সত্তে¡ও আমাদেরকে তাদের সকল বস্তুগত পদক্ষেপের মাধ্যমে কৌশলগত টার্গেটে পরিণত করেছে।’
এরদোগান যুক্তরাষ্ট্রকে খোঁচা মেরে বলেন, ‘কিছু মানুষ আমাদের অর্থনীতির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, বিদেশি মুদ্রার বিনিময়ের হার ধ্বসিয়ে, সুদের হার এবং মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে হুমকি দিচ্ছে। আমরা তাদেরকে বলতে চাই, তারা যে খেলা খেলছে তা দেখছি এবং তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করছি।’
‘তুরস্ক এমন কারো কাছে মাথা নত করবে না, যারা বিশ্বকে ঝুঁকির মধ্যে রেখে তাদের শাসন কায়েম করে চলেছে।’- এরদোগন এমনটি বলেন। তুরস্কে সন্ত্রাসবাদে মদদ দেয়ার অভিযোগে আটক যাজক এন্ড্রু ব্রানসনের মুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তুরস্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক তলানীতে গিয়ে ঠেকেছে। দিনব্যাপী ওই কংগ্রেস ‘এক জাতি এক উদ্দেশ্য’ এই আদর্শকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
একে পার্টির কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট ছিলেন, দেশটির আইন সভার স্পীকার মেহমেত আলি শাহীন এবং উক্ত কংগ্রেসে আগত অতিথিরা ভোটের মাধ্যমে ৫০ জন নতুন সদস্য নির্বাচিত করেন। গত বছর দেশটির সংবিধান সংশোধন করে প্রধানমন্ত্রী শাসিত ব্যবস্থার বিলুপ্ত করা হয়। পরে একে পার্টির কিছু উপবিধি সংশোধন করা হয়, এবং ‘প্রধানমন্ত্রী’ ও ‘মন্ত্রিসভা’ এই শব্দ গুলোর পরিবর্তে ‘রাষ্ট্রপতি শাসিত’ শব্দ গুলো যুক্ত করা হয়।
শাসক দলটি তাদের কংগ্রেসে দেশটির নয়টি রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানায়, এর মধ্যে প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপল’স পার্টি(সিএইচপি), ন্যাশনালিস্ট মুভমেন্ট পার্টি(এমএইচপি) এবং আইওয়াইআই পার্টি অন্যতম। তবে আইওয়াইআই পার্টি একেপি পার্টির কংগ্রেসে অংশগহণ না করার ঘোষণা দেয়। রাজনৈতিক দল ছাড়াও বিশ্বে ৫২টি দেশের নেতাদের কংগ্রেসে আমন্ত্রণ জানানো হয়। ৪১৪ জন বিদেশি অতিথিকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়। - হুররিয়েত ডেইলি নিউজ



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ