Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ০৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

প্রশ্ন : কোনো লোকের নামাজে জানাজায় কেউ যদি লোকটি সম্পর্কে তিনবার প্রশ্ন করে যে, ‘লোকটি কেমন ছিল?’, আর যদি তিনবারই জনগণ উত্তর দেয় যে, ‘লোকটি ভালো ছিল।’ তাহলে নাকি লোকটি জান্নাতি। এর ব্যাখ্যা চাই।

শরীফ হাসান
পাকুন্দিয়া, কিশোরগঞ্জ।

প্রকাশের সময় : ২৪ আগস্ট, ২০১৮, ৭:৩০ পিএম

উত্তর : জানাজার নামাজে এভাবে প্রশ্ন করা ও জবাব চাওয়া একটি রেওয়াজ মাত্র। এমন করা শরীয়তে নেই। হাদীস শরীফে একটি কথা আছে, বিনা প্রশ্নে বা সাজানো প্রশ্নোত্তর ছাড়া যখন সাধারণ মানুষ একজন ঈমানদার মৃত ব্যক্তিকে ‘তিনি ভালো লোক ছিলেন’ এমন বলাবলি করে, তখন আল্লাহ তাকে সামাজিকভাবে ভালো লোক বলে গণ্য করেন। এর মানে এই নয় যে, মানুষ তার বাইরের রূপ দেখে ভালো বলে দিলো অথচ তার কাছে বান্দার হক রয়ে গেছে। কিংবা আল্লাহর হকও সে অনেক নষ্ট করেছে। ক্ষমালাভ বা ক্ষতিপূরণ করে যায়নি, তখন এ লোকটির ক্ষমা বা শাস্তি তার আমলনামা অনুযায়ীই হওয়ার কথা। মানুষের কথায় বড় কোনো পরিবর্তন হয় না। ভালো লোক সম্পর্কে জনগণ আবারো ‘ভালো ছিলেন’ এমন কথা বলাবলি করলে আলাদা উপকার হয়। আল্লাহর দৃষ্টিতে অপরাধী ও খারাপ লোক হলে লোকে ভালো বললেও কোনো লাভ হবে না। এসবই স্বাভাবিকভাবে ভালো বলার আলোচনা। জানাজায় সাজানো প্রশ্ন ও উত্তর আসলে কিছুই না। অবশ্য এখানে একটি বিষয় থেকে যায় যে, বাংলাদেশের মানুষ সহনীয় পর্যায়ের ঋণ, পাওনা, অসদাচরণ ইত্যাদি কেউ মারা গেলে এমনিতেই ক্ষমা করে দেয়। তারা চায় না, লোকটি আখেরাতে আযাব পাক। এতে মানুষ মনে করে এই ক্ষমার বিনিময়ে আল্লাহ তাদের কেউ ক্ষমা করতে পারেন। এ কারণেই জানাজায় এসব প্রশ্ন উত্তর করা হয়। যদিও শরীয়তে এমন নিয়ম নেই। আল্লাহ তার বান্দাদের সুধারণা, ভয় ও বাঁচার চিন্তা এমনকি আযাব থেকে রক্ষা পাওয়ার টুকটাক বাহানাও অনেকসময় পছন্দ করেন। যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমাও করে দিতে পারেন। অতএব, বিষয়টি নিজে চিন্তা করে বুঝে নিন।
সূত্র : জামেউল ফাতাওয়া, ইসলামী ফিক্হ ও ফাতাওয়া বিশ্বকোষ।
উত্তর দিয়েছেন : আল্লামা মুফতি উবায়দুর রহমান খান নদভী

ইসলামিক প্রশ্নোত্তর বিভাগে প্রশ্ন পাঠানোর ঠিকানা
inqilabqna@gmail.com



 

Show all comments
  • parvez ২৬ আগস্ট, ২০১৮, ৯:০৭ এএম says : 0
    এ মাসের শুরুতে আমি একটি গাড়ি কিনে উবারে দিয়েছি। তবে আমার যখন দরকার তখন ব্যবহার করি। ক্রয়মূল্য ৭,০০,০০০ টাকা। অন্যান্য খরচ সহ উবারে নামানোর আগে মোট খরচ পড়েছে ৮,০০,০০০ টাকা। একজন ড্রাইভার রেখেছি। বেতন + খোরাকি বাবদ তার পেছনে খরচ ১৯৫০০/মাস। যেহেতু কেনার সময়ে ববসার নিয়ত ছিল, তাই আমি জানি যে আরবি ১ বৎসর পরে আমার ওপরে যাকাত হবে। কিন্তু যেটা জানতে চাই সেটা হল যাকাত কিসের ওপর হবে : (১) ৭ লাখের ওপরে নাকি ৮ লাখের ওপরে ? (২) নাকি কেবল বাৎসরিক নেট আয়ের (= আয় - খরচ) ওপর ? (৩) নাকি নেট আয় + ৭ লাখের ওপরে ? (৪) নাকি নেট আয় + ৮ লাখের ওপরে ? (৫) নাকি গাড়ীর দাম আগামি বৎসর যা হবে , তার ওপরে ? (৬) নাকি অন্য কোন ভাবে ?
    Total Reply(0) Reply
  • শরীফ হাসান ৩০ আগস্ট, ২০১৮, ৮:২৯ পিএম says : 1
    আলহামদুলিল্লাহ্, আমার উত্তরটি পেয়ে গেলাম।
    Total Reply(0) Reply
  • Musleh uddin ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১০:২৩ পিএম says : 0
    Assalamualaikum. Ekjon ma nefaz obosthai Quran er bangla onubad ( kono arbi nai, shudhu Bangla) porte parben kina? Janale badhito hobo.
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ