Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ০৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

মহাকাশ যাত্রার ভবিষ্যৎ কী?

সরদার সিরাজ | প্রকাশের সময় : ২৫ আগস্ট, ২০১৮, ১২:০৩ এএম

মানুষ নিমিষের মধ্যে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাচ্ছে। এতেও আধুনিক মানুষের আশা পূরণ হয়নি। তারা এখন ডানা মেলছে জগতের বাইরে, ভিন জগতে, অজানার সন্ধানে। এমন কি বসবাসের জন্যও। চন্দ্র ও মঙ্গলের পর মানুষ হাত বাড়িয়েছে সূর্যের দিকে। এর পর হয়তো আরও কিছু নাম না জানা গ্রহ-নক্ষত্রের দিকে ধাবিত হবে। চন্দ্র ও মঙ্গল অভিযান কিছুটা পুরাতন। তাই এসব বিষয়ে মানুষ অবগত। কিন্তু সূর্য অভিযান একেবারে নতুন। সর্বোপরি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এটি এখন বিশ্ববাসীর সর্বাধিক আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এই সূর্য অভিযানের যাত্রা শুরু হয়েছে ১২ আগস্ট, যা বিশ্বের সব মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচারিত হয়েছে। এর সংক্ষিপ্ত বর্ণনা হচ্ছে: সূর্যের রহস্য ভেদ করার জন্য নাসার নভোযান পার্কার সোলার প্রোর্বকে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রেও ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের কেপ ক্যানাভেরাল। মনুষ্য-বিহীন এই প্রোর্ব স্যাটেলাইটের মত কাজ করবে। এই যান সূর্যের এতটা কাছে যাবে এর আগে মানুষের তৈরি কোন যান ততটা কাছে যায়নি। ১০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি তাপ সহ্য করার ক্ষমতা রয়েছে প্রোর্বের। সূর্যের চারদিকে উজ্জ্বল আভাযুক্ত যে এলাকা, যেটি ‘করোনা’ নামে পরিচিত, সরাসরি সেখানে গিয়ে ঢুকবে প্রোর্ব। তারপর সূর্যের চারদিকে প্রদক্ষিণ করতে করতে বোঝার চেষ্টা করবে এই নক্ষত্রের আচরণ। সাত বছরে সূর্যের চারদিকে ২৪ বার প্রদক্ষিণ করবে এটি। সে সময় এটির গতি হবে ঘণ্টায় কমপক্ষে ৬,৭০,০০০ কিলোমিটার। ৬০ লাখ কিলোমিটার দূর থেকে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে তথ্য সংগ্রহ করবে। এই প্রকল্পের অন্যতম বিজ্ঞানী ড. নিকি ফক্স বলেছেন, ‘আমি বুঝতে পারছি ৬০ লাখ কিমি দূরত্বকে কখনই নিকট দূরত্ব বলে মনে হবে না, কিন্তু যদি ধরে নেয়া হয় ভূপৃষ্ঠ এবং সূর্যের দূরত্ব এক মিটার, তাহলে প্রোর্ব সূর্য থেকে মাত্র ৪ সেমি দূরে থাকবে। প্রোর্ব যে গতিতে চলবে তা নজিরবিহীন। এত দ্রæতগতির কোনও কিছু আগে তৈরি হয়নি। সূর্যের চারদিকে এটি প্রতি ঘণ্টায় ৬,৯০,০০০ কিমি পর্যন্তগতিতে ঘুরবে। অর্থাৎ এই গতিতে নিউইয়র্ক থেকে টোকিও যেতে লাগবে এক মিনিটেরও কম সময়। সোলার চালিত এই নভোযানের যন্ত্রপাতি থাকবে ৪.৫ ইঞ্চি পুরু কম্পোজিট কার্বনের আবরণে দিয়ে মোড়া। ফলে ভেতরের তাপমাত্রা সবসময় ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ভেতরে থাকবে। ফলে রক্ষা পাবে ভেতরের যন্ত্রপাতি ও কম্প্যুটার। সূর্য কীভাবে কাজ করে, তা বুঝতে সাহায্য করবে পার্কার। সূর্য তার বৈদ্যুতিক বিভিন্ন কণা ও চৌম্বক শক্তি দিয়ে পৃথিবীকে সবসময় প্রভাবিত করছে। এই ‘সোলার উইন্ড’ বা সূর্য থেকে নিঃসরিত বাতাসের প্রভাবে উত্তর মেরুর আকাশে তৈরি হয় অদ্ভুত সুন্দর রংচঙে আলোর খেলা। কিন্তু সূর্যের কিছু প্রবাহ পৃথিবীর চৌম্বক শক্তির ভারসাম্য বিঘিœত করে ফেলতে পারে। সেক্ষেত্রে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘিœত হতে পারে, মহাকাশে স্যাটেলাইটগুলো কক্ষচ্যুত হতে পারে, এমনকি বৈদ্যুতিক গ্রিড বিকল হয়ে যেতে পারে। বিজ্ঞানীরা সেই সব বিপদ আগে থেকে বোঝার চেষ্টা করছেন। পার্কার আগাম তথ্য দিয়ে এ কাজে দারুণভাবে সাহায্য করতে পারে। ‘করোনা’ বা সূর্যের চারদিকের উজ্জ্বল আভাযুক্ত যে এলাকা, সেটির অদ্ভুত আচরণ বিজ্ঞানীদের কাছে বড় রহস্য। সূর্যপৃষ্ঠের চেয়ে করোনার তাপমাত্রা বেশি। সূর্যপৃষ্ঠের তাপমাত্রা যেখানে ৬,০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মত, করোনা অঞ্চলের তাপমাত্রা কয়েক মিলিয়ন ডিগ্রি হতে পারে। এছাড়া, সূর্য থেকে নিঃসরিত বাতাস যখন করোনায় প্রবেশ করে, তখন তার গতি হঠাৎ তীব্রভাবে বেড়ে যায়। এই গরম বাতাস তখন প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ কিমি বেগে সোলার সিস্টেমের ভেতর দিয়ে ধেয়ে চলে। পার্কার করোনার বৈদ্যুতিক ও চৌম্বক ক্ষেত্রের বিভিন্ন তথ্য পাঠাতে সক্ষম হবে।
সূর্যভেদের জন্য প্রেরিত প্রোর্বের ছবিতে অনেক অপ্রকাশ্য বিষয় আবিষ্কার হতে পারে এবং তাতে করে বিশ্ববাসী স্তম্ভিত হয়ে পড়তে পারে। অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এই নভোযানকে টেক্কা দেওয়ার জন্য আরও অনেক দেশ সূর্যের রহস্য জানার জন্য প্রোর্বের ন্যায় স্যাটেলাইট প্রেরণ করতে পারে। এমনকি এ নিয়েএবং বিভিন্ন গ্রহ ও নক্ষত্রে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে যুদ্ধ বেধে যেতে পারে। তাই ভবিতব্য সে যুদ্ধে জয়ী হওয়ার আশায় যুক্তরাষ্ট্র ‘স্পেস ফোর্স’ বা মহাকাশ বাহিনী গঠন করার ঘোষণা দিয়েছে। এ ব্যাপারে ১১ আগস্ট এক দৈনিকে প্রকাশ, ‘২০২০ সালের মধ্যে আলাদা করে স্পেসফোর্স গঠনের পরিকল্পনার ঘোষণা দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। চীন ও রাশিয়ার হুমকি ও ক্রমাগত প্রতিযোগিতার মধ্যে মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য নিশ্চিত করতে এ বাহিনী গড়া জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। পেন্স আরও বলেন, মহাকাশ একসময় ছিল শান্তিপূর্ণ ও কম প্রতিযোগিতামূলক। কিন্তু এটিতে এখন বেশি মানুষ যুক্ত হচ্ছে এবং প্রতিযোগিতা তীব্র হয়ে দেখা দিয়েছে। পূর্বের প্রশাসনগুলো সব কাজই করেছে কিন্তু মহাকাশেনিরাপত্তা হুমকির বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি। আমাদের প্রতিযোগিতা মহাকাশকে এরই মধ্যে যুদ্ধের ময়দানে পরিণত করেছে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র এ চ্যালেঞ্জ থেকে সরে আসবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘মহাকাশ কিংবা পৃথিবী সব জায়গাতেই যুক্তরাষ্ট্র সবসময় শান্তি চেয়েছে। কিন্তু ইতিহাস প্রমাণ করে, শক্তিমত্তার মধ্যদিয়েই কেবল শান্তি বজায় রাখা যায়। সামনের দিনগুলোতে মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী তেমন শক্তিমত্তা হিসেবেই হাজির হবে।’ এছাড়া, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ৯ আগস্ট এক টুইটে বলেছেন, ‘স্পেস ফোর্সই এখন সব উপায়।’
মহাকাশ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন এবং এ লক্ষ্যে লেজার, ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেইল গান এবং হাই পাওয়ার মাইক্রোওয়েভ অস্ত্রের ভাÐার গড়ে তুলছে। ভবিষ্যতে এ অস্ত্র কৃত্রিম উপগ্রহ ধ্বংস করতে ব্যবহার করবে বেজিং। মার্কিন কংগ্রেসে শুনানিতে এ দাবি করেছেন চীন বিশেষজ্ঞ রিচার্ড ফিশার। তিনি আরও বলেন, কক্ষপথ জুড়ে জালের মতো ছড়িয়ে আছে মার্কিন গোয়েন্দা, যোগাযোগ এবং নেভিগেশন উপগ্রহ। চীন যে অস্ত্র তৈরি করছে তার লক্ষ্য হবে এসব উপগ্রহ। এসব অস্ত্র দিয়ে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নজিরবিহীনভাবে হামলা করা সম্ভব হবে বলেও দাবি করেন তিনি। ফিশার দাবি করেন, মহাকাশকে সামরিকীকরণ করছে চীন। তবে মার্কিন গোয়েন্দা এবং যোগাযোগ উপগ্রহগুলো কী করছে সে বিষয়ে কথা বলেননি তিনি। চীনা মহাকাশ অস্ত্র কর্মসূচী যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে বলে দাবি করেন ফিশার’ বলে ইরনার বরাত দিয়ে ১৭ মার্চ এক দৈনিকে খবর প্রকাশিত হয়। আরও জানা গেছে, চীন আগামীতে সম্ভাব্য সাইবার যুদ্ধে বিশ্বে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তার সামরিক বাহিনীকে প্রস্তুত করছে। উল্লেখ্য যে, আধুনিক যুগের সব কিছুই ডিজিটালভিত্তিক। এমনকি স্যাটেলাইট পরিচালনা, যুদ্ধ, ব্যবসা-বাণিজ্য, ইত্যাদিও। এই অবস্থায় কোন দেশকে ধ্বংস করতে চাইলে তার ডিজিটাল পদ্ধতিকে অকেজো করতে পারলেই সে দেশের সব কিছু বন্ধ হয়ে যাবে। তাই আগামীতে সাইবার যুদ্ধই হবে সর্বাধিক ক্ষতিকারক। এই অবস্থায় মহাকাশের সব স্যাটেলাইটকে ধ্বংস করার জন্য রাশিয়া নতুন এক অস্ত্র আবিষ্কার করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র তাতে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বলে বিবিসি বাংলার এক খবরে প্রকাশ।
সদ্য পরলোকগত বিজ্ঞানী হকিং বলেছেন, বিশ্বের সব কিছু ধ্বংস করে ফেলবে ভিনগ্রহের বুদ্ধিমান প্রাণী বা এলিয়েনরা, যাদেরকে প্রতিহত করার ক্ষমতা কারও নেই। তবুও যুক্তরাষ্ট্র এই এলিয়েনদের সাথে যোগাযোগ করার কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ ব্যাপারে ২০১৬ সারের ২৭ ডিসেম্বর ‘দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ভিনগ্রহের বুদ্ধিমান প্রাণী বা এলিয়েনদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করতে বড় ধরনের একটি কর্মসূচি চালু হতে যাচ্ছে। এ প্রচেষ্টা মানবজাতির জন্য ধ্বংসাত্মক হতে পারেÑ বিজ্ঞানীদের এমন সতর্কবার্তার পরও যুক্তরাষ্ট্রে চালু হতে যাওয়া এই কর্মসূচির নাম ‘মেসেজিং এক্সট্রাটেরেসট্রিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা এমইটিআই। নতুন এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো, মহাকাশে এমন বার্তা পাঠানো যাতে ভিনগ্রহের বুদ্ধিমান প্রাণীরা সেই বার্তা বুঝতে পারে। এমইটিআই ২০১৮ সাল থেকে বার্তা পাঠানোর কাজ শুরু করবে। ভিনগ্রহের প্রাণীরা মানুষের সঙ্গে কবে নাগাদ যোগাযোগ করবে, তার অপেক্ষা না করে এই কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষই আগ বাড়িয়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করবে। ফলে ভিনগ্রহের প্রাণীদের মানুষের সংস্পর্শে আসার সুযোগ তৈরি হবে। তবে বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন যে, এ ধরনের বার্তা পাঠানো মানবজাতির জন্য ভয়ংকর হতে পারে। এ ধরনের বার্তা দেওয়া হলে আমাদের অস্তিত্ব সম্পর্কে সতর্ক হবে এলিয়েনরা। এটা আমাদের পুরোপুরি ধ্বংসের কারণ হতে পারে। এই সতর্কবার্তা দেওয়া বিজ্ঞানীদের মধ্যে রয়েছেন হকিংও। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ‘এ ধরনের বার্তা পাঠানো হলে তা আমাদের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে।’ চলতি বছরের শুরুর দিকে স্টিফেন হকিং বলেছিলেন, এলিয়েনদের পাঠানো যেকোনো ধরনের বার্তায় সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের ‘সতর্ক’ হওয়া উচিত। যদি এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে, তবে তা হবে ক্রিস্টোফার কলম্বাসের সঙ্গে আদিবাসী আমেরিকানদের প্রথম সাক্ষাতের মতো; যা মোটেই প্রীতিকর ছিল না। মহাকাশে এ ধরনের বার্তা পাঠানো যাবে কি যাবে না বা বার্তা পাঠালেও কী ধরনের বার্তা পাঠানো যাবে, সে ব্যাপারে কোনো বিধিবিধান নেই। এর অর্থ এমইটিআই বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান চাইলেই কোনো আপত্তি ছাড়াই এ কাজ করতে পারে। তবে এমইটিআইয়ের পেছনে যারা রয়েছেন, তাঁরা বলছেন, তাঁদের এ প্রচেষ্টা যদি সফল হয়, তবে এলিয়েনদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে ‘জানা ও তথ্য ভাগাভাগি’ করার পথ হিসেবে এটি ব্যবহার করা হবে। কীভাবে মহাবিশ্বের দূরবর্তী স্থানে বাস করা বুদ্ধিমান প্রাণীদের জন্য বোধগম্য বার্তা তৈরি করা যায়, এমইটিআইয়ের দলটি এখন সে ব্যাপারে কর্মপরিকল্পনা ঠিক করবে। মৌলিক গাণিতিক ও বৈজ্ঞানিক ধারণার ভিত্তিতে সম্ভবত তৈরি করা হবে প্রাথমিক বার্তা। এর আগেও বিজ্ঞানীরা মহাকাশে বার্তা পাঠানোর চেষ্টা করেছেন। তবে সেসব বার্তা ভিনগ্রহের প্রাণীদের কাছে পৌঁছেছে কি না, সেটি নিশ্চিত নয়। বেশির ভাগ বিজ্ঞানীরই ধারণা, এ বিষয়ে আমরা এখন পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছি।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, চাঁদের যে পাশে সূর্যের আলো পৌঁছে না- ভীষণ অন্ধকার, যেখানে এখন পর্যন্ত কোনো-মহাকাশ গবেষণা সংস্থা পৌঁছতে পারেনি, সেখানে চীনের চেচিয়াও রিলে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হয়েছে চলতি বছরের মে মাসে। চেচিয়াও স্যাটেলাইট সাথে নিয়ে গেছে একটি রেডিও অ্যান্টেনা, যেটা মহাবিশ্বের সূচনা পর্বের রহস্য জানার চেষ্টায় সহায়ক হবে। পৃথিবী থেকে ৪.৫৫ লাখ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে কিছুদিনের মধ্যে সেটি প্রবেশ করবে চাঁদের কক্ষপথে। উপরন্তু চীন এ বছরের শেষ দিকে পৃথিবী থেকে চাঁদে চাং’ই ৪ চন্দ্রযান পাঠাবে। এটি আলু ও ফুলের বীজ বহন করবে। চাঁদে কৃত্রিম পরিবেশে ওই বীজ থেকে চারা গজানোর পরীক্ষা করা হবে। নার প্যালেস’ তৈরির পর সেই ‘চাঁদের প্রাসাদে’ বসে গবেষণা করতে পারবেন বিজ্ঞানীরা। অপরদিকে, মার্কিন বেসরকারি মহাকাশ গবেষণা সংস্থা-স্পেসএক্স’র স্বপ্নদ্রষ্টা এলন মাস্ক মঙ্গল জয়ের লক্ষ্যে প্রিয় রেড চেরি টেসলা গাড়িটিকে পাঠিয়েছেন লালগ্রহ মঙ্গলের উদ্দেশ্যে। এই গাড়িটি পাঠাতে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট ফ্যালকন হেভি ব্যবহার করেছেন। নাসা’র কোন সাহায্য ছাড়াই কাজটি সম্পন্ন করেছে স্পেসএক্স। এই মিশনের উদ্দেশ্য হচ্ছে, মঙ্গলগ্রহের কক্ষপথে যন্ত্রপাতি পাঠানো। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক। নাসার মহাকাশ বিষয়ক কার্যালয় ইউনুসা’র (ইউনাইটেড ন্যাশনস অফিস ফর আউটার স্পেস অ্যাফেয়ার্স) তথ্যমতে, চলতি বছরের ১৩ মে পর্যন্ত মহাশূন্যে ৮,১৩০টি ছোট-বড় অবজেক্ট (রকেট, স্যাটেলাইট, নভোচারীদের ব্যবহার্য) পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে জাতিসংঘে নিবন্ধিত ৭,৩২৮টি। এসব অবজেক্টের মধ্যে কক্ষপথে কৃত্রিম উপগ্রহের সংখ্যা ৪,৮১১। এর পর আরও কিছু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ হয়েছে। এসবের ভবিষ্যৎ কি তা এখনই বলা দূরহ।
লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ