Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৪ পৌষ ১৪২৫, ১০ রবিউস সানী ১৪৪০ হিজরী
শিরোনাম

নির্ধারিত সময়েই বর্জ্য অপসারণ

সায়ীদ আবদুল মালিক : | প্রকাশের সময় : ২৫ আগস্ট, ২০১৮, ১২:৩৫ এএম

নির্ধারিত সময়ের আগেই কোরবানির বর্জ্য অপসারণের দাবি করেছে ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। দুই কর্পোরেশন থেকে জানানো হয়েছে, মেয়র, কাউন্সিল, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবার কোরবানির বর্জ্য নির্ধারিত সময় ২৪ ঘণ্টার আগেই অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে। ঈদের দিন দুপুর ২টা থেকে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু করে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন। শুধু উদ্বোধন করেই ক্ষান্ত ছিলেন না সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন ঈদের দিন রাত থেকে নিজ কার্যালয়ে বসে পুরো কার্যক্রম মনিটরিং করেছেন। অন্যদিকে উত্তরের প্যানেল মেয়র জামাল মোস্তফার নেতৃত্বে কর্পোরেশনের কাউন্সিলর, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ছিল সদায় তৎপর। যার ফলে এবার নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পুরো মহানগরী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়েছে। 

ঈদের পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুরে বর্জ্য অপসারণ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ডিএসসিসি’র মেয়র বলেন, আমরা ঘোষণা দিয়েছিলাম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণ করবো। সেই কাজ অনেকটাই সম্পন্ন হয়েছে। ঈদের পর দু’দিন কোরবানি হবে। তাই যতক্ষণ পর্যন্ত বর্জ্য থাকবে ততক্ষণ পরিচ্ছন্নকর্মী মাঠে থাকবেন। আমরা শতভাগ বর্জ্য অপসারণ করে নগরবাসীকে সুন্দর নগরী উপহার দেবো। সাঈদ খোকন বলেন, আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ২০ হাজার মেট্রিকটন কোরবানির বর্জ্য হবে। এরই মধ্যে ১৫ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। এই কাজে ডিএসসিসি’র ৪০৫টি যানবাহন ও ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কম বেশি ৩ হাজার ২০০ ট্রিপের মাধ্যমে মাতুয়াইল বর্জ্য স্টেশনে বর্জ্য ফেলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ডিএনসিসি’র নগরভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্যানেল মেয়র জামাল মোস্তফা বলেন, আমরা এবার ২৪ ঘণ্টার কম সময়ে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করতে পেরেছি। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এটা সম্ভব হয়েছে বলেও তিনি জানান।
তিনি বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ পূর্বঘোষিত ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সাফল্যের সঙ্গে শেষ করতে পেরেছি। এ পর্যন্ত এক হাজার ৫৪৫টি ট্রিপে আট হাজার ৫০০ টন বর্জ্য ল্যান্ডফিলে পরিবহন করা হয়েছে। এই স্বল্পসময়ে বর্জ্য অপসারণে নিজস্ব দুই হাজার ৭০০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ মোট সাড়ে নয় হাজার পরিচ্ছন্নকর্মী নিরলস পরিশ্রম করে শহরকে আবর্জনামুক্ত করেছেন।
লালবাগের বাসিন্দা শামসুদ্দিন বলেন, টিভিতে দেখেছি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণ করা হবে। প্রথমে বিশ্বাসই হয়নি। এখন চোখে দেখে মনে হয়েছে কথা নয়, কাজই প্রমাণ। এমন ঝকঝকে শহর আগে কখনও দেখিনি। রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে শুরু করে ধানমন্ডি, কলাবাগান, সাইন্সল্যাব, শুক্রাবাদ, নিউমার্কেট, আজিমপুর, লালবাগ, ঢাকেশ্বরীসহ পুরো এলাকা চকচক করছে। কোথাও বর্জ্যরে স্তূপ চোখে পড়েনি, এমনকি রক্তের দাগও নেই। বর্জ্য অপসারণ করে পানি দিয়ে ধুয়ে দিয়েছে সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য বিভাগের কর্মীরা। লালবাগের পোস্তায় অন্য বছর ঈদের তিনদিন যাওয়া যেত না। সেখানে এখন মানুষ নির্বিঘেœ চলাফেরা করছে। কোথাও ময়লা নেই।
লালবাগ এলাকার পরিচ্ছন্ন কার্যক্রমের তদারকি করছেন (ডিএসসিসি) জোন-৩ এর সহকারী প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজগর। তিনি বলেন, আমাদের কাজ শতভাগ শেষ। এখন যেখান থেকে যতটুকু বর্জ্য বের হচ্ছে আমরা সঙ্গে সঙ্গে নিয়ে নিচ্ছি। আমাদের ভারী যন্ত্রপাতিসহ সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রয়েছে। লোকেরও ঘাটতি নেই। এবার কোথাও ময়লা দেখতে পাবেন না। পুরান ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দির রোডের চিত্রও একই। এখানকার প্রতিটি গলিতে ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও ময়লা নেই। অন্য দিনের চেয়ে ঈদের সময় বেশি পরিষ্কার। ধানমন্ডির বাসিন্দা তানবীর হোসেন বলেন, এবার সিটি কর্পোরেশন ব্যাপক কাজ করেছে। আমার চোখে কোথাও ময়লা পড়েনি। ঢাকার সমস্ত এলাকা ঝকঝক করছে।
পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম প্রসঙ্গে ডিএসসিসি›র অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক খন্দকার মিল্লাতুল ইসলাম বলেন, আমাদের কাজ শতভাগ শেষ করেছি। তারপরেও কোথাও কোনো বর্জ্য থাকলে হটলাইনে জানালে আমরা পরিষ্কার করে দেব।
ডিএনসিসি’র মহিলা ওয়ার্ড কাউন্সিলর রাজিয়া সুলতানা ইতি বলেন, ঈদের পর দিন বিকেল ৩টার মধ্যে সমস্ত এলাকা পরিচ্ছন্ন হয়ে গেছে। আমার ধারণা শতভাগ কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছি।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ