Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৫ আশ্বিন ১৪২৫, ৯ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

শিক্ষার মানোন্নয়ন : জাপানের অভিজ্ঞতা ও আমাদের করণীয়

মো. জাকির হোসেন বাচ্চু | প্রকাশের সময় : ২৬ আগস্ট, ২০১৮, ১২:০২ এএম

জাপানিজ গ্রান্ট এইড ফর হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট স্কলারশীপ (JDS) এ ২০১৪ সালের আগস্টে আমি উচ্চশিক্ষার জন্য জাপান যাই। আমার বিশ্ববিদ্যালয়টির (Meiji University) অবস্থান ছিল টোকিওতে। আমি থাকতাম প্রায় ১৮ কি.মি. দূরত্বে গিওতোকুতে যেটা চিবা প্রিফেকচার-এর অন্তর্গত। উল্লেখ্য যে, জাপানে ৪৭টি প্রিফেকচার রয়েছে যেগুলো লোকাল গভর্নমেন্টের এক একটা শক্তিশালী ইউনিট হিসেবে কাজ করে। আমার ফ্যামিলি আমার সাথেই থাকত। ২০১৫ এর জানুয়ারিতে সিটি অফিস থেকে জাপানিজ ভাষায় একটি পত্র পেলাম। দোভাষী দিয়ে পত্রের পাঠোদ্ধার করে জানতে পারলাম যে, আমার ছেলের বয়স ৬ বছর পূর্ণ হয়েছে এবং তাকে স্কুলে ভর্তি করানোর জন্য সিটি অফিসের এডুকেশন ডিপার্টমেন্টে যোগাযোগ করতে হবে। অবাক হলাম যে, আমার ছেলের বয়স এবং তার স্কুলে ভর্তির বিষয়টি আমার ভাবার আগেই জাপানের লোকাল গভর্নমেন্ট আমাকে জানালো। যদিও আমি বিদেশি তাতে কিছু যায় আসে না। দেশি-বিদেশি সকল শিশুর সমান অধিকার। জাপানকে বলা হয়, শিশুদের জন্য স্বর্গরাষ্ট্র। শিশুদের অধিকার রক্ষা এবং যত্মে দেশটি অতুলনীয়। নির্দিষ্ট দিনে সিটি অফিসের নির্দিষ্ট ডেস্কে হাজির হয়ে মনে হলো তারা আমাদের জন্যই অপেক্ষা করছিল। যাওয়া মাত্র কুশল বিনিময় করে একটি ফরম এগিয়ে দিল পূরণ করার জন্য। ফরম পূরণ করে জমা দিয়েই কাজ শেষ হলো। বললো, আর আসতে হবে না এবং আগামী ৮ এপ্রিল স্কুল এনট্রান্স সিরিমনি (সমগ্র জাপানে একই দিনে)। কোন স্কুলে ভর্তি অথবা এ সংক্রান্ত যাবতীয় সবকিছু পূর্বেই পত্রযোগে জানিয়ে দেয়া হবে বলে আমাকে জানানো হলো। কিছুদিন পরই পত্রযোগে জানতে পারলাম আমার ছেলের জন্য আমার বাসার সবচেয়ে কাছের ‘নিহামা ইলেমেন্টারি স্কুল’টি নির্বাচন করা হয়েছে, যেটা আমরা মনে মনে খুব আশা করেছিলাম। কারণ, এ স্কুলটির লোকেশন আমার বাসা হতে ২ মিনিটের পায়ে হাঁটা দূরত্বে। জাপানের প্রত্যেকটি ইলেমেন্টারি স্কুলই প্রত্যেক শিক্ষার্থীর পায়ে হাঁটা দূরত্বে অবস্থিত। স্কুলে আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার জাপানে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। জাপানে ৯৯% স্কুলই সরকারি, যেগুলোর সরাসরি তদারকী করে থাকে সিটি শিক্ষা বোর্ড, যেটি আবার প্রিফেকচারাল শিক্ষা বোর্ড দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রয়োজনে বোর্ডকে সহায়তা দিয়ে থাকে। সমগ্র জাপানে বাচ্চারা একই সিলেবাস ও পাঠ্যবই পড়ে থাকে এবং শিক্ষাবর্ষের মাঝখানে কখনোই কোন শিক্ষককে বদলি করা হয় না। কোন শিক্ষক আগামী বর্ষে কোন স্কুলে বদলি হবে বা আদৌ হবে কিনা তা পূর্ব থেকেই জানতে পারে এবং এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নিতে পারে। যা-ই হোক এনট্রান্স সিরিমনির পূর্বেই স্কুলে ডাক পড়লো প্রয়েজনীয় মেডিকেল টেস্ট ও দিক নির্দেশনার জন্য। বলে রাখা ভালো যে, স্কুলে নতুন ভর্তি বা প্রয়োজনে নতুন ক্লাসের শুরুতেই সকল বাচ্চার মেডিকেল টেস্ট করানো হয়, যাতে ক্লাস টিচার বা স্কুল কর্তৃপক্ষ স্কুলিং সময়ে শিক্ষার্থীর বিশেষ চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় যত্ম নিতে পারে। ৮ তারিখ খুব জাঁকজমকপূর্ণভাবে এনট্রান্স সিরিমনি শেষ হলো এবং পরের দিন থেকেই যথারীতি ক্লাস শুরু হলো। একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক হিসেবে প্রায়শই স্কুলে যেতাম বা যাওয়া লাগত। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত স্কুল। সকাল ৭.৩০ থেকে ৭.৫৫ পর্যন্ত স্কুলে ঢোকার সময়। ঠিক ৮.০০ টায় স্কুল গেইট বন্ধ হয়ে যায় এবং এর পরে ঢোকার কোনো সুযোগ থাকে না। সকাল ৭.৩০ থেকে ৭.৫৫ পর্যন্তই প্রতিদিন পালাক্রমে এক একজন টিচার স্কুল গেইটে দাঁড়ানো থাকেন শুধু বাচ্চাদের রিসিভ (অভ্যর্থনা) করার জন্য, যা দেখে সত্যিই অবিভূত হতাম। ক্লাসরুমগুলো এত সুন্দরভাবে সাজানো থাকে যে বাচ্চারা দেয়াল থেকেই তাদের জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক দিক-নির্দেশনা পেয়ে যায়। ক্লাসে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন গ্রুপে বিভিন্ন নামে ভাগ করা থাকে এবং এটা বছরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গ্রুপে বিভিন্ন কাজ বা এসাইনমেন্টের জন্য কার্যকর থাকে। গ্রুপের কেউ একজন কোন ভুল করলে (যেমন- কেউ দেয়ালে লিখলে সবাই মিলে তা পরিষ্কার করবে) সবাই মিলে তা শুধরাবে। অর্থাৎ কীভাবে পড়তে হয় ও কীভাবে লিখতে হয় তা শিখার পূর্বেই জাপানিজ বাচ্চারা শেখে কীভাবে গ্রুপে কাজ করতে হয়, কীভাবে গ্রুপের লিড দিতে হয়, কীভাবে টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হয় এবং কীভাবে গ্রুপের অন্য সদস্যদের সহযোগিতা করতে হয়। টিচারগণ স্কুলিং সময়ের ৭৮% বাচ্চাদের লিড দেন এবং শিক্ষার্থীদের একা ফেলে কখনো কোথাও যান না। তারা পদ্ধতিগতভাবে শিখান যে, কীভাবে কনটেন্ট আন্ডারলাইন, আউটলাইন ও সামারাইজ ইত্যাদি করতে হয়। নিম্ম মাধ্যমিক পর্যন্ত ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ শিখানো হয় না যদিও ইদানীং কিছু স্কুলে পরীক্ষামূলকভাবে ইংলিশ ভাষা শিক্ষা শুরু করেছে। স্কুলে বাচ্চাদের শিখানো হয় কীভাবে ভলেনটিয়ার গ্রুপ তৈরি করে সমাজের সিনিয়র সিটিজেন, ডিজেবল ব্যক্তি এবং বয়স্ক লোকদের সেবা, সহযোগিতা বা যত্ম নিতে হয় এবং এ বিষয়ে এসাইসমেন্ট হিসেবে তারা বিভিন্ন বয়স্ক লোকের বাড়ি ভিজিট করে তাদের সেবা-শুশ্রুষা করে থাকে। ক্লাসের পাঠ্যবইগুলো খুব স্লিম (পাতলা) করা হয়, যাতে বাচ্চারা খুব সহজে এটা বহন করতে পারে। স্কুলের পরিবেশটা (ক্লাসের ভিতর এবং বাহির) এতটাই আকর্ষণীয় যে, বাচ্চারা স্কুলে যেতে খুব আগ্রহী হয়। ফলে তারা স্কুল ত্যাগও করে না এবং স্কুলে দেরীতেও আসে না। জাপানে স্কুল এনরোলমেনন্ট ১০০%। নিহামা স্কুল ক্যাম্পাসের ভিতরেই ছিল একটি মিনি পার্ক, একটি মিনি চিড়িয়াখানা (খরগোশ, কচ্ছপ, বিড়াল, কিছু পাখিসহ হাতেগোনা কয়েকটি প্রাণিসমেত), একটি জিমনেসিয়াম, মিনি সুইমিং পুল, হেল্প ডেস্ক, একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি ইত্যাদি যা বাচ্চাদের ভালোলাগার বা আকর্ষণের অন্যতম কিছু উপকরণ। স্কুলে প্রতিদিন ‘প্যারেন্ট ডে’ হয়। অর্থাৎ ট্রেডিনশনাল প্যারেন্টস ডে’র (ঘটা করে একদিন আয়োজন করা) পরিবর্তে প্রতিদিন প্রতি ক্লাসের কোন না কোন শিক্ষার্থীর গার্ডিয়ানকে কল করা হয় এবং তাদের সাথে ক্লাসটিচার বা প্রয়োজনে প্রধান শিক্ষক ঐ নির্দিষ্ট শিক্ষার্থীর ভালো-মন্দ, সবলতা- দুর্বলতা যাবতীয় বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং পরামর্শ দেন। এটাকে আমি বলছি প্রতিদিন প্যারেন্ট ডে যা আমার কাছে অত্যন্ত কার্যকর এবং ব্যতিক্রমধর্মী একটি উদ্যোগ মনে হয়েছে। একটি চমৎকার জিনিস হলো বাচ্চাদের ব্যবহৃত ঐতিহ্যবাহী স্কুল ব্যাগ। ঐতিহ্যবাহী বললাম এ কারণে যে, সারা জাপানে সবাই একই ধরনের ব্যাগ ব্যবহার করে এবং এ ব্যাগগুলো অনেক দামী, যা বাচ্চাদেরকে তাদের দাদা-দাদী বা নানা-নানীরা স্কুল জীবনের শুরুতেই বিশেষ উপহার হিসেবে দেন বলে শুনেছি। তবে ব্যাগ অনেক দামী হলেও এত কোয়ালিটি সম্পন্ন যে, এক ব্যাগেই তাদের স্কুল জীবন কেটে যায়। উল্লেখ্য যে, আমার ছেলেকে এক বাঙ্গালি সেম্পাই (সিনিয়র) এমন একটি ব্যাগ উপহার দিয়েছিল যেটা আজও আমার ছেলের সংগ্রহে আছে। এতদিন শুধু কাইজানের কথা শুনেছি আর জাপান গিয়ে দেখলাম কাইজান পদ্ধতির কী চমৎকার প্রয়োগ! জাপানিজ ‘কাইজান’ শব্দটির সাথে আমরা সবাই কমবেশি পরিচিত, যার অর্থ Continuous improvement of working process. অর্থাৎ- কর্মপদ্ধতির ধারাবাহিক উন্নয়ন। ছোট ছোট সিম্পল পজিটিভ চিন্তা (ইনোভেশন) এবং তার ধারাবাহিক বাস্তবায়নই কাইজান। আমাদের শিক্ষার মানোন্নয়নে কাইজান পদ্ধতির সফল প্রয়োগ একটি কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে বলে আমি বিশ্বাস করি। আমাদের দেশে শিক্ষার মানোন্নয়নে ব্যাপক কাজ করার চাহিদা অনস্বীকার্য। চাহিদা ভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনার পরিবর্তে এখন সম্পদভিত্তিক উন্নয়ন পারকল্পনা গ্রহণ করতে হবে (Asset Based Development instead of Need Based Development)। আমরা শুরু করতে চাই। আমরা পিছিয়ে পড়ার নই। আমরা গর্বিত জাতি। সকল সমস্যা সামর্থানুযায়ী মোকাবেলা করে আমরা দৃঢ়তার সাথে এগিয়ে যেতে চাই। আমরা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমাদের সোনালি স্বপ্নের বাস্তবায়ন চাই।
শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড কথাটি অতি পুরাতন, তবে চরম সত্যি কথা। আমরা যদি বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্রগুলোর দিকে তাকাই তবে দেখি শিক্ষা ও উন্নয়ন সমান্তরালে চলছে। আমরা জানি, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ ছাড়া কোন জাতির প্রকৃত ভাগ্যোন্নয়ন সম্ভব নয়। নিয়ত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় যুক্তি-প্রযুক্তি, বুদ্ধি ও মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনের যে কোন বিকল্প নেই তা আজ সর্বজনস্বীকৃত। আর এ ধরনের একটি সমাজ বিনির্মাণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত কোয়ালিটি এডুকেশন বা মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা। একথা দৃঢ়ভাবে বলা যায় যে, সদ্য উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের স্ট্যাটাস পাওয়া বাংলাদেশের বর্তমান সরকার শিক্ষাবান্ধব সরকার এবং সকল উন্নয়ন পরিকল্পনা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG)-কে সামনে রেখেই গ্রহণ করছে। শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য বর্তমান সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। আগের যেকোন সময়ের তুলনায় বর্তমানে দেশের সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য কিছু অগ্রগতি হয়েছে। যেমন, ভর্তিহার বৃদ্ধি পেয়েছে (যেটা MDG-র অন্যতম লক্ষ্যমাত্রা ছিল), অবকাঠামো উন্নয়ন হয়েছে, পহেলা জানুয়ারিতে সব শ্রেণির পাঠ্যবই বিতরণ নিশ্চিত করা হচ্ছে; বৃত্তি-মেধাবৃত্তি-উপবৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে, কম্পিউটার শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে, মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ চালু করা হয়েছে, এটুআই ও ব্রিটিশ কাউন্সিলের উদ্যেগে শিক্ষক বাতায়ন তৈরি করা হয়েছে; মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন ও মর্যাদা স্কুল-কলেজের সাথে সমান করা হয়েছে, মাদরাসা শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউশন স্থাপনসহ আলাদা মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর করা হয়েছে, উপজেলায় ইউআইটিআরসি হয়েছে। সরকার নিরলস চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু ১৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের আমাদের ছোট্ট দেশটির শিক্ষার মান একুশ শতকের কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এখন পর্যন্ত কাঙ্খিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন নিয়মিত ক্লাস কার্যক্রম না হওয়া, শিক্ষক সংকট, বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের সময়মতো উপস্থিত না হওয়া, পাঠদানে অনীহা, দক্ষ ও উপযুক্ত শিক্ষকের অভাব, যারা আছেন তাদের আন্তরিকতা ও প্রশিক্ষণের অভাব, নোট ও গাইড বইনির্ভর লেখাপড়া, নামমাত্র পরীক্ষা, শিক্ষকদের টিউশন, কোচিং ব্যবসা ও রাজনৈতিক কর্মকান্ডে সংশ্লিষ্টতা, ম্যানেজিং কমিটি/ গভর্নিং বডির কার্যকর ভূমিকার অভাব, অভিভাবকের অসচেতনতা ইত্যাদি কারণে বাংলাদেশে চরম ক্ষুধা-দারিদ্র নিরসন এবং স্বাস্থ্য-পুষ্টি নিশ্চিত করণার্থে ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজির ৪ নম্বর লক্ষ্যমাত্রা ‘সবার জন্য শিক্ষার সুযোগ ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা’ দুরূহ হয়ে পড়বে।
সক্রেটিস বলেছেন, Education is the kindling of a flame, not the filling of an empty vesse. এ প্রসঙ্গে নেলসন ম্যান্ডেলার একটি উক্তি প্রণিধানযোগ্য, Education is the most powerful weapon which you can use to change the world. বিশ্বের পরিবর্তনের কথা বাদই দিলাম, আমরা কি আমাদের নিজেদের ভাগ্যন্নোয়ন কাঙ্খিত মাত্রায় করতে পারছি? তাই সার্বিক শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা না গেলে শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়বে জ্ঞানে, শিক্ষায়, চাকরিতে, নিজেদের প্রতিভা বিকাশে। কোমলমতি এসব শিক্ষার্থী আমার-আপনার সন্তান, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী বা পরিচিতজন সর্বোপরি এরা এদেশের উদীয়মান সম্পদ। মানসম্মত শিক্ষার অভাবে এ প্রতিভাবান শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়ছে, হচ্ছে বিপদগ্রস্থ, জড়িয়ে পড়ছে সন্ত্রাস-মাদকসহ নানাবিধ সামাজিক অপরাধে, ভেঙ্গে পড়ছে পারিবারিক-সামাজিক শৃঙ্খল। আমরা আমাদের সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষৎ চাই। আমাদের সকলের সন্তানদের রক্ষা করতে, তাদের সঠিক শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে মেগা পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে। জাতিগত সামষ্টিক উন্নয়নে এছাড়া আমাদের কোন বিকল্প নেই। এ দায়িত্ব আমাদের সকলের। আমরা কেউ এ দায়িত্ব এড়াতে পারি না। কোমলমতি শিশুদের যেভাবে গড়া হবে সেভাবেই তারা গড়ে উঠবে। (চলবে)



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ