Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ০১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
শিরোনাম

শিক্ষার মানোন্নয়ন : জাপানের অভিজ্ঞতা ও আমাদের করণীয়

মো. জাকির হোসেন বাচ্চু | প্রকাশের সময় : ২৭ আগস্ট, ২০১৮, ১২:০৩ এএম

(পূর্বে প্রকাশিতের পর)


শারীরিক ও মানসিকভাবে এদের নির্বিঘ্ন বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করতে পারলে এরা শ্রেষ্ঠ সন্তানে পরিণত হতে পারে। এ বছরের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৫৫টি কলেজের একজন পরীক্ষার্থীও পাশ করেনি, প্রায় ৩৭% শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে সারা দেশে, ইংরেজি এবং আইসিটি বিষয়ে অধিক সংখ্যক ফেল ইত্যাদি। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রশ্নপত্রের তুলনামূলক মানোন্নয়ন, উত্তরপত্র মূল্যায়নে অধিকতর স্বচ্ছতা-আন্তরিকতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি, পরীক্ষার হলে কড়াকড়ি আরোপ, প্রশ্নফাঁস বন্ধে সরকারের নতুন কার্যকর কৌশল ইত্যদি সব কারণে এ বছরের ফলাফলে এমন বিপর্যয় ঘটেছে। কথা হচ্ছে, প্রশ্নপত্রের ধারাবাহিক মানোন্নয়ন, পরীক্ষার হলে কড়াকড়ি আরোপ বা নকলমুক্ত পরীক্ষা, প্রশ্নফাঁস বন্ধে সরকারের কার্যকর কৌশল ইত্যাদি সবইতো স্বাভাবিক ঘটনা। সরকার তো সবসময়ই এগুলো নিশ্চিত করবে। তবে এ স্বাভাবিক ঘটনায় কেন আমাদের ৩৭% শিক্ষার্থীর অস্বাভাবিক (অকৃতকার্য) ফলাফল হলো? নাকি আমাদের এ অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীগণ শিক্ষাপদ্ধতির সাথে নিজেদের খাপ খাওয়াতে পারেনি বা তাদের কাছে সিলেবাস দূর্বোধ্য মনে হয়েছে, নাকি Quality content এর অভাব ছিল বা শিক্ষকরা তাদের চাহিদানুযায়ী প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে পারেনি নাকি তারা নিজেরা বা গার্ডিয়ানরা অসচেতন ছিল, নাকি তারা ঐ ক্লাসের অনুপযোগী ছিল। আরো সমস্যা আছে, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে আইসিটি পড়ানোর মতো কোনো দক্ষ-প্রশিক্ষিত শিক্ষক স্কুল কলেজে নেই বললেই চলে আর এজন্য প্রায়শই বিদ্যালয় প্রধানদের অভিযোগ শোনা যায়। শিক্ষক-শিক্ষার্থী কেউই মূল বই পড়তে চায় না। এমনকি গাইডবই নিষিদ্ধ হওয়া সত্তে¡ও শ্রেণিকক্ষেই অনেক শিক্ষক নির্দিষ্ট গাইড বই পড়ান মর্মে প্রচুর অভিযোগ রয়েছে। যদি এমনটিই হয় তবে আমরা মানসম্মত শিক্ষা কাকে বলছি? মানসম্মত শিক্ষা কি এমন যে, সেখানে একটি নির্দিষ্ট অনুপাতে শিক্ষার্থীগণ অকৃতকার্য হবে? আমরা কি এই ৩৭% শিক্ষার্থীকে রেখেই এগিয়ে যেতে চাই? নাকি এদের সবাইকে নিয়েই আমরা মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে চাই? সুতরাং আমার মনে হয়, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে, আমাদের শিক্ষক-শিক্ষার্থী নিয়ে সর্বোপরি সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণে সামগ্রিকভাবে ভাবতে হবে। মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা অবশ্যই এমনভাবে পরিকল্পিত হতে হবে যে, যা সকল শিক্ষার্থীর জন্য সহায়ক-সর্বব্যাপী, বোধগম্য-অভিগম্য, নিরাপদ-নির্বিঘ্ন, ন্যায়সঙ্গত-গণমুখী এবং সুরক্ষিত হবে। এ জন্য দরকার মানসম্মত শিক্ষার্থী (সুস্থ-সবল-পুষ্টি সমৃদ্ধ), মানসম্মত শিক্ষক (দক্ষ, প্রশিক্ষিত ও আন্তরিক), মানসম্মত পরিবেশ, সচেতন অভিভাবক, সহায়ক সুধীসমাজ এবং মানসম্মত কনটেন্ট।
আমরা আগামী দিনের কোন স্তরের বাংলাদেশ দেখতে চাই তা অনেকাংশেই নির্ভর করবে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নের উপর। একটা জাতি ভবিষ্যতে কোন স্তরে পৌঁছতে চায় তা শিক্ষাব্যবস্থার উপরই নির্ভর করে। আর তাই আমাদের শিক্ষার একটি সুনির্দিষ্ট এবং সর্বজনগ্রাহ্য মূল লক্ষ্য ঠিক করতে হবে, যা আমাদের নুতন প্রজন্মকে দেশপ্রেম ও গণতান্ত্রিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ আধুনিক, উন্নত বাংলাদেশের নির্মাতা ও সংরক্ষক এবং একজন যোগ্য বিশ্ব নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে। লক্ষ্য সুনির্দিষ্ট এবং যথার্থ হলেই কেবল তা দ্রুত অর্জন সম্ভব হবে। প্রশ্ন হচ্ছে, কীভাবে লক্ষ্য অর্জনে আমরা শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলার এ কঠিন কাজটি করতে পারি? কীভাবে আমরা আমাদের জাতির এ ভবিষ্য কর্ণধারদের সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত করব? গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখতে হবে, আমাদের এ উদীয়মান প্রজন্মকে গুধু অগণিত পাঠ্যবই এবং তা মুখস্থ করবার জন্য বিষয়ভিত্তিক কোচিং/শিক্ষক চাপিয়ে দিলেই হবে না, শুধু মুখস্থ বিদ্যা দিয়ে মাথা ভর্তি করে দিলেই হবে না, শুধু ক্লাসে প্রথম বা এ+ পাওয়ার জন্য অসুস্থ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হলেই হবে না, তাদের অবশ্যই ভালো মানুষ হতে হবে, সুনাগরিক হতে হবে। জ্ঞান-বিজ্ঞান-তথ্য-প্রযুক্তির সাথে সাথে সততা-নিষ্ঠা-দেশপ্রেম, সমাজ-পরিবার ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং নৈতিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত পরিপূর্ণ মানুষ হতে হবে। জাপানের শিক্ষা ব্যবস্থার একটি বিশ্বাস হচ্ছে ‘আগে নীতি পরে শিক্ষা’। ১০ বছর বয়স পর্যন্ত অর্থাৎ চতুর্থ গ্রেড পর্যন্ত কোন পরীক্ষা সেখানে নেই। বিশ্বাসটা এমন যে, স্কুল জীবনের প্রথম ৩ বছর মেধা যাচাইয়ের জন্য নয়, বরং ভদ্রতা-নম্রতা-শিষ্ঠাচার, দেশপ্রেম ও ন্যায়পরতা শেখার জন্য। আমরা জানি, জাপানের বাচ্চারা এমনকি সকল মানুষই ভদ্রতায় পৃথিবী খ্যাত। সম্প্রতি রাশিয়া বিশ্বকাপ ফুটবল খেলায় জাপানিজ খেলোয়াড়রা খেলা শেষে তাদের ড্রেসিং রুমের সকল ময়লা-আবর্জনা এবং জাপানিজ দর্শকরা গ্যালারির সকল ময়লা-আবর্জনা নিজ দায়িত্বে পরিষ্কার করে এবং নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলে ফিফা কর্তৃপক্ষের ভ‚য়সী প্রশংসা কুড়িয়েছেন, যা আমরা পত্রিকা মারফত জেনেছি। এটা জাপানিজদের স্কুল জীবনের শিক্ষা। স্কুলে কোন ঝাড়–দার থাকে না। শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কোন কোন সময় অভিভাবকরা মিলে সমগ্র স্কুল ক্যাম্পাস সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখে। এছাড়াও বছরের নির্দিষ্ট একটি দিনকে স্কুল ক্লিনিং দিবস হিসেবে ঘোষণা করা আছে। ঐদিন সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক মিলে সমগ্র স্কুল ক্যাম্পাস পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করার বিশেষ অভিযানে অংশগ্রহণ করে। অভিভাবক হিসেবে দু’বার আমিও এ কাজে অংশগ্রহণ করেছিলাম। প্রত্যেক শিক্ষার্থী মাসে অন্তত একবার বাধ্যতামূলকভাবে বেসিন এবং টয়লেট পরিষ্কার করে থাকে। শুধু শিক্ষার্থী নয় শিক্ষকরাও একই কাজ করে থাকে, ফলে শিক্ষার্থীরা আরো বেশি উদ্বুদ্ধ হয়। জাপানিজ বাচ্চারা স্কুলেই শিখে থাকে যে, কীভাবে নিজেকে পরিষ্কার রাখতে হয় এবং কীভাবে নিজের চারিপাশ পরিষ্কার করতে হয়। Reading for pleasure কী জিনিস সেটা জাপানিজ স্কুলে দেখেছি। আমার ছেলেটির স্কুলে যাওয়ার যে কী ব্যাকুলতা তা দেখেছি জাপানে, যেটা এখন বাংলাদেশে অতটা দেখছি না। ও সকাল ৮টার স্কুলে যাওয়ার জন্য ভোর ৫টায় উঠে বসে থাকত। স্কুলের প্রতিটি ক্লাসের শেষ সারিতে অভিভাবক/ভিজিটরদের বসার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা আছে। যেকোন অভিভাবক যে কোন সময় স্কুলে গিয়ে ক্লাসের কার্যক্রম অবজার্ভ করতে পারবে এবং নির্দিষ্ট স্থানে রক্ষিত মন্তব্য রেজিস্টারে মন্তব্য লিখতে পারবে। বাচ্চাদের দেখেছি, ওরা প্রতি দুই পিরিয়ড পরে ক্লাস থেকে বের হয় এবং মাঠে বা জিমে বা পার্কে গিয়ে নানান কার্যক্রম করে। যেমন মাঠে গিয়ে পিঁপড়া, ফড়িং, শামুক ইত্যাদি ধরে ক্লাসে নিয়ে আসে এবং শিক্ষক ঐ পোকামাড়ের জীবনচক্র সম্পর্কে ওদের ধারণা দেয়। বাচ্চারা এতে আগ্রহী হয় এবং অত্যধিক আনন্দ পায়। আবার কখনো পার্কে বা রাস্তায় গিয়ে ট্রাফিক সিগন্যাল সম্পর্কে ধারণা নেয়। স্কুলে সকল শিক্ষার্থীর একটি করে টবে রোপিত গাছ থাকে যেটা ওরা নিজেরা রোপণ করে এবং নিজেরাই যত্ম নেয়। টিচার গাছের জীবনচক্র সম্পর্কে তাদের ধারণা দেয় এবং শিখিয়ে দেয় কীভাবে একটি গাছের যত্ম নিতে হয়। গ্রীষ্ম ও শীতকালীন দীর্ঘ বন্ধের সময় সকল শিক্ষার্থী যার যার গাছ বাসায় নিয়ে যায় এবং ভ্যাকেশন শেষে আবার স্কুলে নিয়ে আসে। আমার ছেলেকে দেখেছি ঐ বন্ধের সময়ে গাছটিকে জীবিত রাখার জন্য তার সে কি যত্ম এবং গাছের প্রতি ভালোবাসা। কারণ ভ্যকেশনের পর যদি সে গাছটিকে জীবিত এবং সুস্থ ফেরৎ নিতে না পারে তাহলে তার প্রেস্টিজ ক্ষুন্ন হবে এবং সে লজ্জা পাবে। স্কুলের শিক্ষা পদ্ধতিই গাছের প্রতি তার এ ভালোবাসা তৈরি করেছে বলে আমি মনে করি। কোয়ালিটি এডুকেশনকে গ্রহণ করার জন্য একজন শিক্ষার্থীর পারিপাশির্^ক এবং আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটও অনেকাংশে দায়ী। শিশুটি কেমন লার্নার হবে তা তার ফরমাল স্কুলে যাওয়ার পূর্বে শিশুটির জীবনযত্রার মান কেমন ছিল তার উপর অনেকাংশে নির্ভর করে। যেমন শিশুর স্বাস্থ্য ও পুষ্টি, শারীরিক গঠন, ফ্যামিলি সার্পোট ও লানির্ং বিশেষ করে শিশুর জীবনের প্রথম ৩ বছর যে পরিবেশে সে বেড়ে উঠে এবং খাওয়া-দাওয়াসহ অন্যান্য বিষয় তার পরবর্তী জীবন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে থাকে।
আমরা জানি দুর্বল ভিত্তির উপর সুউচ্চ ইমারত হয় না। আর তাই এ-প্লাস বা জিপিএ-৫ এর পিছনে না ছুটে ভিত্তি মজবুতের পেছনে ছুটতে হবে। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী জিপিএ মানে বুঝবে না, বিজয় দিবস বা স্বাধীনতা দিবস কবে বলতে পারবে না, দেশের প্রধানমন্ত্রীর নাম জানবে না, জাতীয় সংগীত, দেশের জনসংখ্যা ও আয়তন সম্পর্কে ধারণা রাখবে না এমন শিক্ষা বা পরীক্ষা বা এমন জিপিএ-৫ বা এমন শিক্ষার্থী আমরা চাই না, আমরা চাই শিশুদের দক্ষতা ও যোগ্যতাভিত্তিক পরিপূর্ণ বিকাশ। জাপানে দেখেছি, মূল্যায়নের তিনটি মানদন্ড; Excellent, Good and Need more improvement. ইলেমেন্টারি স্কুলে প্রত্যেক ক্লাসে একজন শিক্ষকই সকল বিষয়ে পাঠদান করে (মিউজিক এবং শরীরচর্চা ইত্যাদি ব্যতিরেখে)। এতে সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে ঐ শিক্ষক তার ক্লাসের সকল শিক্ষার্থীর নাড়ী-নক্ষত্র সব জানে বা জানার সুযোগ পায় অথবা বলতে পারি জানতে হয়। কোন ছেলেটি বা কোন মেয়েটি কোন বিষয়ে সবল বা কিসে দুর্বল বা কিসে বেশি আগ্রহী/অনাগ্রহী, তার শখ, আচরণ সবকিছু জেনে সে মোতাবেক কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়। আমার ছেলের ক্লাসে শিক্ষার্থী ছিল মোট ৩৩ জন। ৪০ জনের উপরে কোন ক্লাসে/সেকশনে শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ নাই। শিক্ষককে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর প্রতি সমান মনোযোগী হতে হয়। কোথাও বাড়তি টিচার প্রয়োজন হলে ভলেনটিয়ার কল করা হয়। প্রচুর সাড়া পাওয়া যায়। ভলেনটিয়াররা এটাকে সম্মানের মনে করে এজন্য যে, রাষ্ট্র এখনো তাদের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। উল্লেখ্য যে, জাপানে সমাজের বিভিন্ন স্তরের জনসেবায় ভলেনটিয়ার সার্ভিস একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা অনুসরণীয়।
তবে হ্যাঁ, আমাদের অনেক অর্জনও একেবারে কম না। বিশেষ করে সকল শিক্ষার বুনিয়াদ প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৭৮০০০ প্রাথমিক বিদ্যলয়ে ১৭.৬ মিলিয়ন শিক্ষার্থী পড়াশুনা করছে। প্রচুর সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে এবং হচ্ছে। ভর্তির হার এখন প্রায় ৯৮%। PEDP-3 প্রকল্পের আওতায় প্রত্যেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সুপেয় পানি, টয়লেট ও ওয়াসব্লক নির্মাণ করা হয়েছে এবং এ কাজ চলমান রয়েছে। প্রতি বছর স্কুল মেরামত ও উন্নয়নের জন্য SLIP (বিদ্যালয় ভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা) এর টাকা দেয়া হচ্ছে। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আগের চেয়ে প্রসার লাভ করেছে। আইসিটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও স্কুল হেল্প কার্যক্রম বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। প্রায় ৯০০০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ স্থাপন করা হয়েছে এবং সকল স্কুলে ধারাবাহিকভাবে এটা নিশ্চিত করা হবে। একইভাবে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক এবং উচ্চ শিক্ষার মানোন্নয়নেও সরকার আন্তরিকভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু আমাদের সকল প্রচেষ্টার মধ্যে এ সত্যটি মনে রাখতে হবে যে, আমাদের প্রায় ১৬ কোটির বেশি মানুষ, সম্পদ সীমিত, দক্ষ জনবলের অভাব এবং সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবকগণ বসবাস করছেন। আমাদের চ্যালেঞ্জ অনেক। রাতারাতি অনেক জটিল সমস্যার সমাধান হয়ত আমরা করতে পারব না কিন্তু আমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে সমস্যার বিকল্প সমাধান ভাবতে তো পারি। ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়নে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার কোন বিকল্প নেই। সরকারের নেয়া নানামুখী পদক্ষেপের যথার্থ বাস্তবায়নে আমাদের সকলের আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসতে হবে। শিক্ষা নিয়ে দলাদলি-রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। আমাদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সুদূরপ্রসারী চিন্তা করতে হবে।
(চলবে)



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর