Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৭ জামাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী।

যুগ ধরে ঝুলছে ৬ দফা

ফুলবাড়ি ট্র্যাজেডি দিবস পালিত

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৭ আগস্ট, ২০১৮, ১২:০২ এএম

নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে গতকাল দিনাজপুরের ‘ফুলবাড়ী ট্রাজেডি দিবস’ পালিত হয়েছে। ফুলবাড়ীবাসী এবং তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ বিদ্যুৎ-বন্দর জাতীয় রক্ষা কমিটির আয়োজনে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশেই দিবসটি পালিত হয়। জাতীয় সম্পদ রক্ষার দাবি এবং উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের প্রতিবাদে ১২ বছর আগে ২০০৬ সালের ২৬ আগষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারান ৩ জন। আহত হন আড়াইশ মানুষ। আহতরা অনেকেই পঙ্গুত্ব বরণ করে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। কিন্তু ১২ বছর কেটে গেলেও বাস্তবায়িত হয়নি সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত সেই ৬ দফা চুক্তি।
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে এখনও বইছে স্বজন হারানোর বেদনা। এশিয়া এনার্জির পরিকল্পনা ছিলো ফুলবাড়ী কয়লা খনি প্রকল্প থেকে ৩০ বছরে ৫’শ ৭২ মিলিয়ন টন কয়লা উত্তোলনের। কিন্তু উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের ঝুঁকি থাকায় প্রতিবাদ করে জনতা। লাগাতার প্রতিবাদের অংশ হিসেবে ২০০৬-এর ২৬ আগস্ট কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারান আমীন, সালেকিন এবং তরিকুল।
পরিবেশের ক্ষতি এবং জমি নষ্ট করে কয়লা উত্তোলনের বিরোধিতা এখনও করছে ফুলবাড়ীবাসী। তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব আনু মুহাম্মদ। ফুলবাড়ী দিবস উপলক্ষে গতকাল তেজ-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির উদ্যেগে ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সকাল ফুলবাড়ীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্কসবাদী)র কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সদস্য আলমগীর হোসেন দুলাল, গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ফিরোজ আলম, গণ মুক্তি ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাসির উদ্দীন নাসু, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক, জাতীয় কমিটির ঢাকা নগর সমন্বয়ক জুলফিকার আলী, আকবর খান, বাসদ (মাহবুব)-এর কেন্দ্রীয় নেতা মঈন উদ্দীন চৌধুরী লিটন প্রমুখ। নেতৃবৃন্দ বলেন, ফুলবাড়ী আন্দোলনের এক যুগ পার হলেও সরকারের সাথে সম্পাদিত চুক্তি বাস্তবায়ন হয়নি। জ্বালানি নিয়ে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চলছে। বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি, মধ্যপাড়া গ্রানাইট থেকে কয়লা-পাথর চুরি, লুটপাট ও দুর্নীতির নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু লুটপাটকারীদের গ্রেফতার ও বিচার করা হয়নি। ফুলবাড়ী, বিরামপুর, নবাবগঞ্জ, পার্বতীপুর-বড়পুকুরিয়াসহ উত্তরবঙ্গ ধ্বংস করে উন্মুক্ত খনির চক্রান্ত চলছে। ফুলবাড়ি আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের নামে দায়ের করা মিথা মামলা প্রত্যাহার করা হয়নি; আন্দোলনকারীদের হয়রানী করা হচ্ছে। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, মন্ত্রী ও জ্বালানির উপদেষ্টাদের ভ‚মিকা নিয়ে জনগণের মনে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে; । তাদের দুর্নীতি দায়মুক্তি আইন দিয়ে সুরক্ষা করা হয়েছে। অবিলম্বে দায়মুক্তি আইন ও সুন্দরবনবিনাশী রামপাল প্রকল্প বাতিল করে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ থাতের সকল প্রকল্প নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে হবে। জাতীয় সংস্থার মাধ্যমে উত্তোলন করে শতভাগ গ্যাস দেশের কাজে লাগাতে হবে। ##



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: কয়লা

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ