Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ০৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

কৃষককে মাদক ব্যবসায়ী বানানোর অপচেষ্টা

নাটোর জেলা সংবাদদাতা : | প্রকাশের সময় : ২৭ আগস্ট, ২০১৮, ১২:০২ এএম

নাটোর সদর উপজেলার ছাতনী ইউনিয়নে ইউপি সদস্যের ইন্ধনে এক কৃষককে মাদক ব্যবসায়ী বানানোর অপচেষ্টায় পিটুনির শিকার হয়েছে পুলিশের তিন সদস্য ও এক সোর্স। গত শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটায় ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড শিবপুর গ্রামের কৃষক আইয়ুব আলীর বাড়িতে মাদক তল্লাশীর নামে তান্ডব চালায় সদর থানার এএসআই আবুল কালামসহ পুলিশের ৩ সদস্য। ভুক্তভোগী আইয়ুবের চিৎকারে পুলিশের সাথে থাকা ৪ সোর্স পালাতে সক্ষম হলেও এলাকাবাসী জড়ো হয়ে ৩ পুলিশ সদস্যকে ঘিরে ধরে।
ভুক্তভোগী আইয়ুবের অভিযোগ, ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এমরান আলীর ইন্ধনে পুলিশ তার বাড়িতে ঢুকে এ তান্ডব চালায়। ঘটনার সময় পুলিশের সাথে ৪ সোর্স গরু বিক্রির ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। তবে ওই ৪ ব্যক্তিকে চেনে না পুলিশ। ইউপি সদস্যের কথা শুনে কৃষককে নাজেহাল করার ঘটনায় ইতোমধ্যে এএসআই কালামকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চত করেছেন নাটোরের পুলিশ সুপার বিপ্লব বিজয় তালুকদার। এ ঘটনায় ইউপি সদস্য এমরান আলীকে থানায় নেয়ার কয়েক ঘন্টার পরেই স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ও ইউপি চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন সরকারের চাপের মুখে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। পুলিশ পিটুনির শিকার হয়েছে জেনে ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করেন সদর থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী জালাল উদ্দিন আহমেদ।
ভুক্তভোগী কৃষক আইয়ুব আলী জানান, তিনি ঢাকায় কোরবানীর হাটে ৩টি গরু বিক্রির ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা এনে রেখেছিলেন বাড়িতে। গতকাল শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটায় তার বাড়ির গেট ধাক্কাতে থাকে কয়েকজন ব্যক্তি। ভেতর থেকে পরিচয় জানতে চাইলে জানায় তারা পুলিশ। এই কথোপকথনের মধ্যেই বাড়ির দেয়াল টপকে ঢুকে পড়ে ৪ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি। দরজা খুলতেই দেখা যায় নাটোর সদর থানা পুলিশের এএসআই আবুল কালাম ও তার সঙ্গীয় ফোর্স। তারা দাবী করে বাড়িতে ইয়াবা রাখা আছে । এসময় কৃষক আইয়ুব, তার স্ত্রী, ছোটমেয়ে ও ছেলে ছিলেন বাড়িতে। স্ত্রী ও মেয়েসহ আইয়ুবকে একটি ঘরে রেখে আইয়ুবের ছেলে মাসুদ রানাকে পেটাতে শুরু করে এএসআই কালাম। ‘বাবা (ইয়াবা) কই’ বলে মারতে মারতে মাসুদকে বাড়ির দরজার সামনে আনে কালাম। এরই ফাঁকে আইয়ুব আলীর ঘরে ঢুকে আলমারীর ভেতরে থাকা ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় পুলিশের ৩ সোর্স। এসময় মাসুদকে মারতে মারতে বাড়ির বাইরে আনার সময় তার চিৎকারে জড়ো হয় এলাকাবাসী। তাদের প্রতিবাদের মুখে মাসুদকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। এরই মধ্যে পুরো ঘটনা জানাজানি হলে উত্তেজিত জনতা জড়ো হয়ে পুলিশ ও অজ্ঞাত ১ জনকে ধরে পিটুনি দেয়।
এ প্রসঙ্গে ওসি কাজী জালাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় বিব্রত পুলিশ। তবে টাকা নেয়ার বিষয়টি সত্য নয়। টাকা খোয়া যাওয়ার বিষয়ে ভুক্তভোগী থানায় কোন অভিযোগ করেননি। ইউপি সদস্য এমরান আলীকে থানায় এনে ছেড়ে দেয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে ওসি বলেন, বিষয়টি মিউচুয়াল হয়েছে।
নাটোরের পুলিশ সুপার বিপ্লব বিজয় তালুকদার বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। ইতোমধ্যে এএসআই কালামকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে। পুরো ঘটনা জানার চেষ্টা চলছে। কার কতুটুকু অপরাধ, সে আনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর