Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ০৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

বাংলাদেশের জন্য কেন বন্ধ মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার?

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৭ আগস্ট, ২০১৮, ১২:০২ এএম

বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারগুলোর একটি, মালয়েশিয়ার দরজা আর পাঁচদিন পরই আপাতত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ‹জিটুজি-প্লাস› নামে যে এসপিপিএ সিস্টেমের আওতায় মালয়েশিয়া তাদের দেশে বাংলাদেশী শ্রমিকদের নিয়োগ করত, সেই পদ্ধতি আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকেই স্থগিত হয়ে যাবে বলে সে দেশের সরকার বাংলাদেশকে ইতোমধ্যে জানিয়েও দিয়েছে।
কুয়ালালামপুরের সাংবাদিক শেখ কবীর আহমেদ বিবিসিকে জানিয়েছেন, বর্তমান পদ্ধতিতে যে ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সির মারফত বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নিয়োগ করা হত তা বাতিল ঘোষণা করা হলেও মালয়েশিয়ার সরকার নতুন কী পদ্ধতি চালু করতে চাইছে তা আদৌ স্পষ্ট নয়।
মাহাথির মোহাম্মদের নতুন সরকার হয়তো নতুন কোনও পদ্ধতি চালু করবেন। কিন্তু তাতে যে বেশ সময় লাগবে তাতে কোনও সন্দেহ নেই, আর ততদিন পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে এদেশে শ্রমিক আসা বন্ধ থাকবে ধরেই নেওয়া যায়,গ্ধ বলছেন মি. আহমেদ। বাংলাদেশ জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সমিতি বায়রা জানিয়েছে, গত বছরের মার্চ থেকে এ বছরের জুলাই পর্যন্ত প্রায় ১,৯০,০০০ হাজার অভিবাসী শ্রমিক বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়াতে পাড়ি দিয়েছেন।
এই সংখ্যা সউদী আরবে যাওয়া বাংলাদেশী শ্রমিকের সমান- কাজেই বাংলাদেশের জনশক্তি রফতানিতে মালয়েশিয়ার গুরুত্ব কতটা, তা বোঝা কঠিন নয়। বায়রা-র সচিবালয়ে উপদেষ্টা মো. দলিলউদ্দিন মন্ডল অবশ্য বলছেন, হ্যাঁ, সাময়িকভাবে হয়তো বিরূপ প্রভাব কিছুটা পড়বে। তবে মালয়েশিয়া এর আগেও বহুবার বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়া বন্ধ করেছে ও আবার চালু করেছে - আর সেই গত প্রায় পঁচিশ বছর ধরে এ জিনিস চলছে। কাজেই আমরা অতটা ভয় পাচ্ছি না, আশা করছি আবার নতুন কোনও সিস্টেম চালু হবে।
তবে ঢাকা বিশ্বিবদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ এম. এম. আকাশ মনে করছেন, মালয়েশিয়ার এই সিদ্ধান্তে রেমিট্যান্স প্রবাহে যেমন বড় ভাটা পড়ার আশঙ্কা আছে সেটা একটা দিক - কিন্তু তার চেয়েও বড় বিপদ হল বাংলাদেশের ভাবমূর্তির সঙ্কট। অধ্যাপক আকাশের কথায়, যে কারণেই মালয়েশিয়া এটা বন্ধ করুক, আমাদের যে কিছুটা বদনাম হয়ে গেল তা তো অস্বীকার করতে পারি না। আমি যেটুকু সমস্যাটা বুঝতে পারছি, আমাদের দিক থেকেও যে মালয়েশিয়াতে শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়াটা স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত ছিল না - সেটা তো পরিষ্কার। বাংলাদেশকে এখন তারই মাশুল গুনতে হবে। কিন্তু মালয়েশিয়া কেন ১ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশের শ্রমিক নেওয়া বন্ধ করছে, তার কি কোনও নির্দিষ্ট কারণ দেখিয়েছে?
মালয়েশিয়ার সাংবাদিক শেখ কবীর আহমেদ জানাচ্ছেন, গত ২১ আগস্ট এ দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি, জেনারেল দাতো ইন্দেরা খাইরুল দাজমি বিন দাউদের স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে জানানো হয়েছে যে, সে দেশের বিগত সরকার বাংলাদেশের যে ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সির মারফত শ্রমিক নিত, তাদের এসপিএ সিস্টেম সেপ্টেম্বরের গোড়া থেকেই বাতিল হয়ে যাবে।
এখন যদিও ওই চিঠিতে নির্দিষ্ট কোনও কারণ উল্লেখ করা হয়নি, আমরা বিভিন্ন সূত্রে জানতে পারছি ওই ১০টি এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় নিয়োগ পেতে একজন শ্রমিকের যেখানে মাত্র ৪০,০০০ টাকা লাগার কথা, সেই জায়গায় এই এজেন্সিগুলো চার লক্ষ টাকা পর্যন্ত চার্জ করত বলে জানা যাচ্ছেগ্ধ, বলছিলেন মি আহমেদ।
এই দুর্নীতির সঙ্গে মালয়েশিয়ার পূর্বতন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত একজন মালয়েশিয়ার নাগরিকও জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। এই কথিত দুর্নীতির ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করতে চাননি বায়রা কর্তৃপক্ষ। তবে সংস্থার উপদেষ্টা দলিলউদ্দিন মন্ডল জানাচ্ছেন, তারা চেয়েছিলেন এই রিক্রুটমেন্ট পদ্ধতি সব সংস্থার জন্যই উন্মুক্ত করে দেওয়া হোক।
তার কথায়, এর আগে ২০১৬তে দুই দেশের সরকার যখন আলোচনায় বসেছিল, তখন বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৯০০ এজেন্সির নাম জমা দেওয়া হয়েছিল - কিন্তু মালয়েশিয়া মাত্র ১০টি এজেন্সিকে বেছে নেয় এবং বলে যে সংখ্যাটা পারে বাড়ানো হবে। আমরা অনেকবার লিখেছি যে প্রসেসটা ওপেন করে দেওয়া হোক, কিন্তু সেটা শেষ পর্যন্ত আর হয়নি। এখন মালয়েশিয়াতে সরকার পরিবর্তন হয়েছে। নতুন সরকার হয়তো আগের পদ্ধতিটা পছন্দ করছে না, এই জিনিস তো প্রায়ই হয়। ঠিক বলতে পারব না কী হয়েছে, তবে আমাদের বিশ্বাস মালয়েশিয়াতে জনশক্তি রপ্তানি পাকাপাকিভাবে কিছুতেই বন্ধ হবে না।
তাহলে তো দুপক্ষেরই ক্ষতি। ওরা যদি সা-রে-গা-মা সুর ধরে থাকে, তাহলে আমাদের শ্রমিকরা গিয়েই তো পা-ধা-নি গেয়ে সপ্তসুর শেষ করছে - এটা তো বুঝতে হবে। দুজনেরই আসলে পরস্পরকে দরকারগ্ধ, বলছিলেন জনাব মন্ডল।
মালয়েশিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কারণেই আপাতত বাংলাদেশের শ্রমিক নিয়োগ বন্ধ করা হচ্ছে, বায়রা এমন একটা ইঙ্গিত করতে চাইলেও সেই যুক্তি মানতে নারাজ অর্থনীতিবিদ এম এম আকাশ।
তিনি বিবিসিকে বলছিলেন, ্রযদি ধরেওনি মালয়েশিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে পুরনো জমানার মন্ত্রী-নেতাদের দুর্নীতি খুঁড়ে বের করার চেষ্টা হচ্ছে, বাংলাদেশকে তো তার বলির পাঁঠা বানানোর কোনও কারণ নেই। এখানে আমাদেরও কিছু গাফিলতি ছিল, সেটা স্বীকার করে নেওয়াই ভাল।
জনশক্তি রপ্তানির পুরো পদ্ধতিটা যতক্ষণ না পুরোপরি ‹ডিজিটাল› করা হচ্ছে, ততদিন এই জাতীয় সমস্যা থেকেই যাবে বলে ধারণা অধ্যাপক আকাশের।
সরকারের একটা ওয়েবসাইট থাকবে - যেখানে বিদেশ যেতে ইচ্ছুক শ্রমিকরা নিজেদের যোগ্যতা, তথ্য-পরিচয় উত্যাদি আপলোড করবেন। সেখান থেকে বেছে নিয়ে বিদেশে চাহিদা অনুযায়ী ম্যাচ করে তাদের নিয়োগপত্র দেওয়া হবে, এটা করলেই তো সমস্যা মিটে যায়!গ্ধ
তার বদলে এখন যে মিডলম্যান বা মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের স্বার্থান্বেষী চক্র কাজ করছে সরকার তাদের কাছে বারবার নতি স্বীকার করার ফলেই গুরুত্বপূর্ণ এই শ্রমবাজারগুলো বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছেগ্ধ, বলছিলেন অধ্যাপক আকাশ। সূত্র ঃ বিবিসি।



 

Show all comments
  • আলামিন ২৭ আগস্ট, ২০১৮, ৭:২৪ এএম says : 0
    মনে হচ্ছে ডিসেম্বর পযনত বন্ধ থাকবে এবং নতুন সিস্টেম চালু হলে আবার লোক যেতে পারবে মালয়েশিয়ায়.
    Total Reply(0) Reply
  • MD Shariful Islam ২৭ আগস্ট, ২০১৮, ৯:২৬ এএম says : 0
    good
    Total Reply(0) Reply
  • সুমন ২৭ আগস্ট, ২০১৮, ১১:৩১ এএম says : 0
    বাংলাদেশ সরকারের ভুল নীতির কারণে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার আজ আমরা হারাতে বসেছি
    Total Reply(0) Reply
  • করিম ২৭ আগস্ট, ২০১৮, ১১:৩১ এএম says : 0
    bangladeshi আদম ব্যবসায়ীদের দুর্নীতি ও মুনাফাখোরির কারণে মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজারে ধ্বস নেমেছে
    Total Reply(0) Reply
  • তারেক ২৭ আগস্ট, ২০১৮, ১১:৩৩ এএম says : 0
    মালয়েশিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারত অত্যন্ত শক্তিশালী তারা কখনোই চায় না বাংলাদেশ মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ধরে থাক তাই তারা সব সময় নানা ষড়যন্ত্র করে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশের কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে ভারতের দখলে নিতে।
    Total Reply(0) Reply
  • মোঃ এমদাদউল্লাহ ২৭ আগস্ট, ২০১৮, ১১:৩৪ এএম says : 0
    আচ্ছা আমার মাথায় একটা জিনিস কাজ করছেনা সেটা কি জানেন।সেটা হল যেখানে ভারত পাকিস্তান অন্নান্য কান্টির লোকজন যায় মাত্র ৩০-৬০ হাজার টাকার মদ্দে সেখানে আমাদের এ অবস্থা কেন।কেনইবা আমরা প্রতিনিয়ত রিনের ভোজা মাথায় নিয়া টেনশানে চলতে হবে কেন কেন।তাহলে নিশ্চয়ই আমাদের দেশের যারা বিদেশে পাঠায় ওরা গুন্ডার চেয়েও খারাপ।ওরা মাত্র এক থেকে দু মাসের বেতন দিয়েই ভিশা খরচ চলে আসে।আর আমরা কি এমন পাপ করেছি ৩-৫ বছর লেগে যাবে এ টাকা উঠাইতে কারন কি কেউ কি একবার সে কথা নিয়ে ভাবছেন বলুন।যদি এটার কোন সুরাহা না হয় তাহলে ভাবতে হবে নিসচিত চোরের দেশে মগের মুল্লুকের দেশে আমরা বাস করছি।দেখুন সৌদিআরবে পাকিস্তানের বা ইন্ডিয়ার কেও গেলে এদের মাত্র ৮০-দের লক্ষ টাকার মদ্দেই এদের খরচ হয়ে যায়।তাহলে আমরা কি এমন অপরাধ করেছি ৬-৮ লক্ষ দিতে হবে কারন কি।নাকি আমাদের বেসি টাকা হয়ে গেছে বলুন। এ আফসুসের কথা বলেই যাবে মানুষ শোনার মত কি আদো খুজে পাব।আল্লাহ যেন এ ভয়ংকর শয়তানদের হাত থেকে সবাইকে হেফাজত করেন আমিন। পরিসেসে একটা কথা বলি আমি কিন্ত কাউকে উদ্দেশ্যে নিয়ে কথা গুলা বলি নাই।যাস্ট মনের কস্টগুলা বলেছি।আমার কথায় কেও রাগ করবেন না।।।
    Total Reply(0) Reply
  • হানিফ ২৭ আগস্ট, ২০১৮, ৬:৫০ পিএম says : 0
    মালয়েশিয়ার বতমান সরকারের গতিবিধি দেখে বুঝা যাছেচ যে তাদের বিগত সরকারের শাসন আমলে মোট দশটি এজেন্সির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক এনে বিভিন্ন প্রতিষঠানে নিয়োগ প্রদান করা হতো এতে সাবেক সরকারের বেশ কিছু মনএৗ জড়িত ছিল তাই জনপ্রতি চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে শ্রমিকদের কে মালয়েশিয়া যেতে হয়েছে. বতমান মালয়েশিয়ার সরকার এসে সেটি পরিবর্তন করে নতুন সিস্টেম চালু করার চিনতা ভাবনা করছে এবং ঐ নতুন সিস্টেম চালু হতে নতুন বছরের জানুয়ারি পযনত সময় লাগবে সেই হিসাবে ডিসেম্বর পযনত সব দেশ থেকেই কমি নেওয়া বন্ধ থাকবে. জানুয়ারি থেকে আবার নতুন করে শ্রমিক যেতে পারবে আমাদের দেশ থেকে. মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশৗ শ্রমিকদের যথেষ্ট চাহিদা আছে তাই মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশ থেকে অবশ্যই কমি নিবে নিশ্চিত.
    Total Reply(0) Reply
  • হানিফ ২৭ আগস্ট, ২০১৮, ৬:৫১ পিএম says : 0
    মালয়েশিয়ার বতমান সরকারের গতিবিধি দেখে বুঝা যাছেচ যে তাদের বিগত সরকারের শাসন আমলে মোট দশটি এজেন্সির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক এনে বিভিন্ন প্রতিষঠানে নিয়োগ প্রদান করা হতো এতে সাবেক সরকারের বেশ কিছু মনএৗ জড়িত ছিল তাই জনপ্রতি চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে শ্রমিকদের কে মালয়েশিয়া যেতে হয়েছে. বতমান মালয়েশিয়ার সরকার এসে সেটি পরিবর্তন করে নতুন সিস্টেম চালু করার চিনতা ভাবনা করছে এবং ঐ নতুন সিস্টেম চালু হতে নতুন বছরের জানুয়ারি পযনত সময় লাগবে সেই হিসাবে ডিসেম্বর পযনত সব দেশ থেকেই কমি নেওয়া বন্ধ থাকবে. জানুয়ারি থেকে আবার নতুন করে শ্রমিক যেতে পারবে আমাদের দেশ থেকে. মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশৗ শ্রমিকদের যথেষ্ট চাহিদা আছে তাই মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশ থেকে অবশ্যই কমি নিবে নিশ্চিত.
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ