Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫, ১৪ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

রংপুরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১৩ : আহত ৭০

প্রকাশের সময় : ২১ এপ্রিল, ২০১৬, ১২:০০ এএম | আপডেট : ১১:৩৫ পিএম, ২০ এপ্রিল, ২০১৬

রংপুর জেলা সংবাদদাতা : রংপুরের তারাগঞ্জে দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৩ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৭০ জন। গতকাল বেলা ১১টার দিকে তারাগঞ্জ উপজেলার রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের ইকরচালী বরাতির ব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এছাড়া নীলফামারীর ডিমলা এবং ফেনীর ছাগলনাইয়ায় পৃথক দুর্ঘটনায় এক শিশুসহ ৩ জন নিহত এবং আহত হয়েছেন আরো ৩ জন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সায়মুন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ওই এলাকায় পৌঁছলে সামনের ডান দিকের চাকা পাংচার হয়। এ সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলায় বিপরীত দিক থেকে আসা দিনাজপুর থেকে রংপুরগামী তৃপ্তি পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ১০ জন নিহত হন। আহত হন অর্ধশতাধিক যাত্রী। এ সময় দুর্ঘটনাস্থলে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আহতদের আর্তনাদে বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। স্থানীয় লোকজন দ্রুত আহতদের উদ্ধারকাজ শুরু করে। তাদের মধ্যে ৬৫-৭০ জনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এসময় আরো দু’জনের মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে রংপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুমড়েমুচড়ে যাওয়া বাস দু’টি উদ্ধারের পর আহতদের রংপুর মেডিকেলসহ
বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রে ভর্তি করান। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন রংপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মহিদুল ইসলাম।
এদিকে, দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে রংপুর পুলিশ সুপার আব্দুর রাজ্জাক ১২ জন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক করতে পুলিশ কাজ করছে।
নিহত ৯ জনের পরিচয় মিলেছে
তারাগঞ্জে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১২ জনের মধ্যে ৯ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। নিহতরা হলেনÑ সৈয়দপুর উপজেলার ইউনুস আলীর ছেলে মোহাম্মদ আলী (৪৫), একই এলাকার সাবেদ আলীর ছেলে আবদুল মতিন (৩২), ইকরচালী ফারুকিয়া মাদরাসার সহকারী শিক্ষিকা জিন্নাত আরা (৩৫), সায়মন পরিবহনের চালক সৈয়দ আলী (৪৮), দিনাজপুরের চিরিরবন্দর এলাকার অতুলচন্দ্র রায়ের ছেলে চন্দন রায় (৩০), তৃপ্তি পরিবহনের চালক তৈয়ব আলী (৪৫), গঙ্গাচড়ার চেংমারি এলাকার বকরউদ্দিনের ছেলে অকুল মিয়া (৩০), নীলফামারীর কুঠিমারি কাচারীপাড়া এলাকার বছিরউদ্দিনের ছেলে আতোয়ার রহমান (৪৩), একই এলাকার ছকমল আলীর ছেলে লিটন মিয়া (২২)। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অন্য তিনজনের পরিচয় জানা যায়নি। তাদের সকলেরই লাশ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পরপরই রংপুরের জেলা প্রশাসক রাহাত আনোয়ার প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা রংপুর ও সৈয়দপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তা প্রদান করেন। আহত ও নিহতদের খোঁজ খবর নেন। পরে হাসপাতালে এসে জেলা প্রশাসক রাহাত আনোয়ার নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ৫ হাজার এবং তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ৪ হাজার টাকা করে সহায়তা দেন।
ডিমলায় ট্রলির হেলপার ও শিশু নিহত
নীলফামারী জেলা সংবাদদাতা নীলফামারীর ডিমলায় ট্রলির চাকায় পিষ্ট হয়ে হেলপার ও ইউপি নির্বাচনের এক চেয়ারম্যান প্রার্থীর প্রচারণার গাড়ির চাকায় চাপা পড়ে এক শিশু নিহত হয়েছে। দুর্ঘটনা দু’টি ঘটে উপজেলার খালিশাচাঁপানী ইউনিয়নের বাইশপুকুর ও তালতলা নামক স্থানে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার দুপুরের উপজেলার বাইশপুকুর এলাকায় ট্রলির চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান ট্রলির হেলপার বেলাল হোসেন (৩৫)। তিনি ওই গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে। অপরদিকে মঙ্গলবার বিকালে ডিমলা উপজেলার নিজপাড়া এলাকায় এক ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীর প্রচারণার গাড়িতে চাপা পড়ে ওই গ্রামের ধরেয়া মাহমুদের ৪ বছরের শিশু ঝর্ণা আহত হয়। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার তার মৃত্যু হয়।
ছাগলনাইয়ায় ব্যবসায়ী নিহত আহত ৩
ছাগলনাইয়া (ফেনী) উপজেলা সংবাদদাতা : ছাগলনাইয়ায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় এক ব্যবসায়ী নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও ফেনী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল (বুধবার) সকাল পৌনে ১০টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম পুরাতন মহাসড়কের ছাগলনাইয়ার বাংলাবাজার সংলগ্ন মজুমামার মাজারের সামনে।
জানা গেছে, ফেনী থেকে ছাগলনাইয়াগামী একটি সিএনজি অটোরিকশার (ফেনী থ-১১-১০৯০) সাথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত ব্যবসায়ী মহিউদ্দিন মামুন (২৮) উপজেলার উত্তর হরিপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের পুত্র এবং ছাগলনাইয়া বাজারের আফিয়া ওয়াহিদ কমপ্লেক্সের মামুন ইলেকট্রনিক্সের মালিক। এ ছাড়া দুর্ঘটনায় আহতরা হলেন উপজেলার মধ্যম শিলুয়া গ্রামের ইন্দ্র কুমার বৈদ্যের পুত্র মানিক চন্দ্র বৈদ্য (৩০), পশ্চিম পাঠানগড় গ্রামের সিরাজের পুত্র ফয়সাল (২০) ও বাঁশপাড়া গ্রামের তাজুল ইসলামের পুত্র একরামুল হক (৫০) ।



 

Show all comments
  • MD Shafiul Islam Safi ২১ এপ্রিল, ২০১৬, ১২:৫৬ পিএম says : 0
    সকল নিহতদের আত্তার ময়গফিরত কামনা করছি।আল্লাহ যেন তাদের জান্নাত বাসি করেন।আমিন
    Total Reply(0) Reply
  • Abul Hossain ২১ এপ্রিল, ২০১৬, ১২:৫৭ পিএম says : 0
    খুব ই দুঃখজনক ।
    Total Reply(0) Reply
  • মোঃ সাইফুল আলম ২১ এপ্রিল, ২০১৬, ২:১৯ পিএম says : 0
    নিহতদের আললাহ জান্নাত নসিব করুণ। সনতপত পরিবারকে ধর্য্যধারন করার তৌফিক দিন। আমিন।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ