Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ০১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
শিরোনাম

অনুমতি ছাড়াই রোগী দেখেন ভারতীয় চিকিৎসকেরা

চট্টগ্রাম ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ২৮ আগস্ট, ২০১৮, ৭:২৩ পিএম

চট্টগ্রামে বেসরকারি চিকিৎসা সেবায় নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার প্রথম দিনে অনুমতি ছাড়াই বিদেশি চিকিৎসক এনে সেবা দেওয়ায় একটি বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র সিলগালা করে দেয়া হয়েছে। সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকী দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, জামালখান সড়কের ইউনিক হেলথ কেয়ার নামের প্যাথলজিক্যাল সেন্টার বিদেশি ডাক্তার দেশে এনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। তারা বিদেশেও রোগী পাঠায়। কিন্তু তাদের এ সংক্রান্ত কোনো অনুমোদন নেই। তারা কোন অনুমতিপত্রও দেখাতে পারেননি। তাই সাময়িকভাবে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের চিকিৎসকদের আটক করা হবে বলেও জানান তিনি।
সকাল ১০টায় জামাল খান সড়ক থেকে শুরু হয় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সাইফুল্লাহ হিল আজম, সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকী এবং জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মোরাদ আলী অভিযানে অংশ নেন। সেখান থেকে নগরীর সুপরিচিত ডায়াগনস্টিক সেন্টার সেনসিভে যান বিশেষ টিম। তারা দেখেন সেখানে চেম্বার খুলে নিয়মিত রোগী দেখছেন তিন ভারতীয় চিকিৎসক। অথচ বাংলাদেশের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী তাদের কোন অনুমতিপত্র নেই। ভ্রাম্যমাণ আদালত তিন চিকিৎসককে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) সনদ নিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিন ভারতীয় চিকিৎসক হলেন- ডা. অরুণাভ রায়, ডা. নেহা চৌধুরী ও ডা. অভি কুমার।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মোরাদ আলী বলেন, অভিযানের সময় সেনসিভে তিন ভারতীয় চিকিৎসককে পাওয়া যায়। তারা দাবি করেছেন- তাদের বিএমডিসি সনদ আছে। কিন্তু সেটা তারা দেখাতে পারেননি। আমরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিএমডিসি সনদ নিয়ে তাদের সশরীরে হাজির হতে বলেছি। অন্যথায় বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নগরীর জামালখান এলাকায় অবস্থিত সেনসিভ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যাবার আগে ভ্রাম্যমাণ আদালত একই এলাকায় বেলভিউ ডায়াগনস্টিক সেন্টারেও অভিযান চালায়। পরে আরও কয়েকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও চিকিৎসা কেন্দ্রে গিয়ে নথিপত্র যাচাই করে দেখেন কর্মকর্তারা। ভ্রাম্যমাণ আদালত সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সেনসিভ, বেলভিউ, ফরটিজসহ পাঁচটি ক্লিনিক ও ডায়গনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালায়। সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান জানান, অভিযানে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে। আগামী রোববার থেকে ফের অভিযান শুরু হবে জানিয়ে তিনি বলেন, চিকিৎসা সেবার নামে কাউকে নৈরাজ্য করতে দেয়া হবে না। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার দৈনিক ইনকিলাবে চট্টগ্রামে বেসরকারি চিকিৎসায় নৈরাজ্য শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ