Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ০৫ ভাদ্র ১৪২৬, ১৮ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

সাইবার সিকিউরিটির বিষয়ে জানতে চান অর্থমন্ত্রী

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৯ আগস্ট, ২০১৮, ১২:০৩ এএম

সাইবার আক্রমণের ঝুঁকি মোকাবেলার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কী ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে তা জানতে চেয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সাইবার সিকিউরিটি মোকাবেলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের একটা টিম গঠনে বিলম্ব হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার গত ৯ আগস্ট অর্থমন্ত্রীর কাছে একটি চিঠি দেন। ওই চিঠির উপর নোট লিখে গত ১৭ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের কাছে অর্থমন্ত্রী জানতে চান, এ বিষয়ে কী কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সার্বিক বিষয়টিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিক্রিয়া কী সেটিও জানতে চান তিনি। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কম্পিউটার হ্যাক করে রিজার্ভ চুরির রেশ কাটতে না কাটতেই ভয়ঙ্কর এক তথ্য দিয়ে সতর্কবার্তা দেয় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। গত ৯ আগস্ট মুহিতের কাছে মোস্তাফা জব্বারের লিখা ওই চিঠিতে এ বার্তা দেয়া হয়।
ওই চিঠিতে বলা হয়, চীন, জাপান, কাজাখস্তান ও রোমানিয়া এই চার দেশের হ্যাকাররা বাংলাদেশ ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ কম্পিউটারগুলোতে ম্যালওয়্যার স্থাপন করে অনবরত তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে।
চিঠিতে সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কম্পিউটারে ম্যালওয়্যার বসিয়ে এভাবে তথ্য চুরির বিষয়টি তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের স্থাপন করা সাইবার সেন্সরে ধরা পড়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে সতর্ক করা হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রয়োজনীয় সাইবার সিকিউরিটি টিম না থাকার কারণে তথ্য চুরির ঘটনা বন্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।
চিঠিতে মোস্তাফা জব্বার বলেন, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) কর্তৃক সাইবার নিরাপত্তা টিম গঠন করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাইবার নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাইবার সেন্সর স্থাপন করা হয়েছে। এই সেন্সর হতে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী পরিলক্ষিত হয় যে, ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ কম্পিউটারসমূহে সাইবার অপরাধীরা ম্যালওয়্যার স্থাপন করেছে, যা ব্যবহারকারীর অগোচরে ব্যবহারকারীর পরিচয় ও পাসওয়ার্ড কাজাখস্তান, রোমানিয়া, জাপান ও চীনে চিহ্নিত সাইবার অপরাধীদের কাছে সংবেদনশীল তথ্য অনবরত প্রদান করছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ হতে এ বিষয়ে নিয়োমিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রয়োজনীয় সাইবার সিকিউরিটি টিম না থাকায় এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে বিলম্বিত হচ্ছে বলে প্রতীয়মান হয়। এ কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংকের মত রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য সাইবার নিরাপত্তা টিম গঠনসহ সার্বক্ষনিক মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের জন্য অনুরোধ করছি।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ আগস্ট দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংককে সতর্ক থাকতে নির্দেশ জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট এ সংক্রান্ত একটি সতর্কবার্তা জারি করে দেশের সব বাণিজিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠিয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, স¤প্রতি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা এবং গণমাধ্যমে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের খবর প্রকাশিত হয়। সাইবার অপরাধীরা পেমেন্ট সিস্টেমস হ্যাক করে দেশের ভেতরে এবং দেশের বাইরে থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়। উদীয়মান অর্থনীতির দেশ হিসেবে বাংলাদেশও এ ধরনের সাইবার সিকিউরিটি এবং হ্যাকিং সংক্রান্ত নিরাপত্তা হুমকিতে রয়েছে। এমতাবস্থায়, সম্ভাব্য সাইবার আক্রমণের ঝুঁকি মোকাবেলায় ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থার নিরাপত্তা বাড়াতে হবে।
নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়, সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে নিবিড় তদারকি নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করতে বিশেষভাবে অনুরোধ করা যাচ্ছে। বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করতে হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: অর্থমন্ত্রী


আরও
আরও পড়ুন