Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ২৯ কার্তিক ১৪২৫, ০৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
শিরোনাম

এসআইয়ের বিরুদ্ধে কৃষককে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার, বান্দরবান থেকে : | প্রকাশের সময় : ৩১ আগস্ট, ২০১৮, ১২:৩৫ এএম

 কোনো অভিযোগ কিংবা মামলা ছাড়াই অসুস্থ এক দরিদ্র কৃষককে বেধড়ক পিটিয়েছে পুলিশ। পরে ৫ হাজার টাকা ঘুষ টাকা দিয়ে ছাড়া পান তিনি। গত মঙ্গলবার সকালে বান্দরবান জেলার লামা থানার এসআই কৃষ্ণ কুমার দাশ এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। ভিকটিম কৃষক সরই ইউনিয়নের ভুরুমইন্যা ঝিরি এলাকার কৃষক গিয়াস উদ্দীনের পুত্র। জহির জন্ডিস, হাপানীসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত বলে জানিয়েছেন তার বাবা। যাবার সময় জহিরের পুরো পরিবারকে দেখে নেবার হুমকিও দিয়ে যান সেই এসআই।
এদিকে বিনা কারণে স্বামীকে মারধর করা, হুমকি দেওয়া ও পরে দেখে নেয়ার হুমকির বিচার চেয়ে ২৯ আগস্ট চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি বরাবরে লিখিত আবেদন করেন জহিরের স্ত্রী ফাতেমা বেগম। দিনে-দুপুরে কেয়াজুপাড়া বাজার এলাকায় শত শত মানুষের সামনে একজন নিরীহ লোককে দাগী আসামীর মত মেরে গুরুতর আহত করার ঘটনায় এলাকাবাসীর মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় মোহাম্মদ জহির বাড়ী থেকে বের হয়ে রাস্তায় পৌছামাত্র লামা থানা পুলিশের এসআই কৃষ্ণ কুমার দাশ তাকে ধরে কোন কথা ছাড়াই এলোপাতাড়ি কিলঘুষি মারতে থাকে। একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পুলিশের মারের চোটে একপর্যায়ে জহির মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এবং কাপড় চোপড়ে মলত্যাগ করে দেয়। পুলিশের মারধরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে তার পরিবার। জহিরের স্ত্রীকে পুলিশ নতুন লুঙ্গি এনে দিতে বলে। পরে পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। জহিরের পরিবার সেখানে ছুটে যায়। অসুস্থ জহিরের বড় ভাই আলী আকবর জহিরের নাজুক অবস্থা দেখে জিজ্ঞেস করেন, ‘ভাই তোমাকে কি মেরেছে ? তোমার এই অবস্থা কেন? ঔষধ এনে দেব?’ এ কথা শুনামাত্র পুলিশ অফিসার কৃষ্ণ কুমার দাশ তাকেও মারতে তেড়ে আসেন। জহিরের বৃদ্ধ মা বাবা এ সময় পুলিশের পায়ের উপর পড়ে ক্ষমা চেয়ে রক্ষা পায়। তবে হুশিয়ার করে দিয়ে বলেন, ‘বেশী বাড়াবাড়ি করলে সবাইকে দেখে নেব।’
এক পর্যায়ে আলী আকবর ও পুলিশ অফিসারে পায়ে ধরে ক্ষমা চাইতে থাকে এবং ভাইকে ছেড়ে দেবার অনুরোধ করে। কিন্তু পুলিশ অফিসার কৃষ্ণ কুমার দাশ মোহাম্মদ জহিরকে থানায় ধরে নিয়ে যান। পরে স্থানীয় ইউপি মেম্বার বাবুল জহিরের স্ত্রীকে মোবাইল করে বলে তোমরা ৫ হাজার টাকা নিয়ে থানায় গিয়ে জহিরকে ছাড়িয়ে নিয়ে আস। উপায় না দেখে জহিরের স্ত্রী ফাতেমা বেগম স্থানীয় এক মহাজন থেকে দিন সুদে ৫ হাজার টাকা নিয়ে তার ভাসুর সুলতান আলীকে মেম্বার বাবুলের সাথে লামা থানায় পাঠায়। ওইদিন রাত ৯ টায় গুরুতর অসুস্থ জহির সরই বাজারে এসে ডাক্তারের চিকিৎসা নিয়ে বাড়ীতে পৌছে। জহিরের বৃদ্ধ বাবা দিনমজুর গিয়াস উদ্দীন ক্ষোভে অপমানে চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে বলেন, ‘আমার অসুস্থ ছেলে মাসে ১৫ দিনও কাজ করতে পারে না। তার বউও মানুষের বাগানে কাজ করে। সে স্ত্রী সন্তান নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিনযাপন করছে। এ অবস্থায় ৫ হাজার টাকা তার জন্য ৫ কোটি টাকার সমান। তিনি বলেন, আমরা বৃদ্ধ বাবা-মা ওই পুলিশের পায়ে ধরেও রক্ষা পাইনি। আল্লাহকে এর বিচার দিলাম।’
এ বাপারে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত এস আই কৃষ্ণ জানান, তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সঠিক নয়। একটা অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে ধরে নিয়ে আসা হয়েছিলো। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্যের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর