Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৬, ১৭ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

মুদ্রাস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে ডলার বর্জনে ভূমিকা রাখতে হবে

বিবৃতিতে তাহরিকে খাতমে নুবুওয়্যাত

স্টাফ রিপোর্টার: | প্রকাশের সময় : ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:০২ এএম

তুরস্ক, রাশিয়া, চীন ও জার্মানির ডলার বর্জন কর্মসূচিকে স্বাগত জানিয়ে তা অনুসরণ করা উচিত ডলার সন্ত্রাসবিরোধী দেশসমূহকে। আর তুরস্কের ডলার বর্জন কর্মসূচিকে স্বাগত জানিয়ে মুসলিম বিশে^র দেশসমূহকে তুরস্কের পাশে দাঁড়ানো ঈমানী দায়িত্ব। গতকাল তাহরিকে খাতমে নুবুওয়্যাতের আমীর আল্লামা মুফতী ড. যাইয়্যেদ মুহাম্মদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী এক বিবৃতিতে একথা বলেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ডলারের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে মুদ্রাস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিকে প্রতিরোধ করার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত সকল দেশকে কার্যকর অবস্থান নিতে হবে।
ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী বলেন, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির তাঁর পূর্বের টার্মের ক্ষমতায় থাকাবস্থায় ঘোষণা দিয়েছিলেন ডলারের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি আমরা মেনে নিবো না। পরবর্তীতে মালয়েশিয়া ডলারের বিপরীতে অতিরিক্ত মূল্য পরিশোধ করেনি। যে কারণে মালয়েশিয়ার জনগণকে আর মুদ্রাস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির দুর্ভোগ পোহাতে হয়নি। মালয়েশিয়ানরা তাদের স্ব-স্ব উপার্জনের অর্থ দিয়েই স্বচ্ছল জীবন যাপন করছেন। সম্প্রতি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেপ এরদোগান তাঁর দেশের ব্যবসায়ীদেরকে ডলারের পরিবর্তে তুর্কি মুদ্রা ক্রয়ের আহ্বান জানালে তুরস্কের ব্যবসায়ীগণ এ আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন। ডলারের বিরুদ্ধে ড. মাহাথির এবং এরদোগানের মতো পদক্ষেপ নিলে প্রতিটি দেশের মানুষ মুদ্রাস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কষাঘাত থেকে মুক্ত থেকে স্বচ্ছল জীবনযাপন করতে পারবে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে কথায় কথায় অবরোধ আরোপের সন্ত্রাস থেকে রক্ষা পাবে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের বিপরীতে প্রয়োজনীয় স্বর্ণ গচ্ছিত নেই। কিন্তু আমেরিকা ভুয়া গোল্ড রিজার্ভ দেখিয়ে ডলার মুদ্রণ করেই চলছে। ফলে দেশে দেশে মুদ্রাস্ফীতি হচ্ছে। ডলার মুদ্রণের জন্য ১৯৭১ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নিক্সন ঘোষণা দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্র গোল্ড রিজার্ভের বিপরীতে ডলার মুদ্রণ না করে তেলের রিজার্ভের বিপরীতে ডলার মুদ্রণ করবে। সেই অবস্থা এখানো যুক্তরাষ্ট্রে চলছে। ২০০০ সালে প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম ডলার বর্জনের ঘোষণা দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র তাকে হত্যা করে ইরাককে তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডলার প্রচলন অব্যাহত রেখেছেন।
মার্কিন সা¤্রাজ্যবাদের মূল শক্তি হলো ডলার আর এ ডলারের পতনের অর্থ হলো আমেরিকার সা¤্রাজ্যবাদের পতন। তাই মার্কিন ডলার বর্জন করে মার্কিন মুদ্রাসন্ত্রাস ও দেশে দেশে মুদ্রাস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি প্রতিরোধ করতে হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ