Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫, ১৪ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

ইভিএম দিয়ে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করতে সিইসি সংকল্পবদ্ধ----রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:০২ এএম

ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনের ( ইভিএম) মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করতে চায় বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, নিজের নেতৃত্বাধীন কমিশনেও ভিন্নমত থাকার পরও ইভিএম ব্যবহারে মরিয়া সিইসি। এটি বাস্তবায়নে চ‚ড়ান্ত উদ্যোগ গ্রহণ সুস্পষ্ট হলো প্রধান নির্বাচন কমিশনার আগামী ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করতে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার স্বাধীন বিবেক দ্বারা স্বায়ত্বশাসিত নন। ভোটারবিহীন অবৈধ সরকারের বাকশালী বিবেকই তিনি নিজের মধ্যে প্রথিত করেছেন। এটা দিবালোকের মতো সত্য প্রমাণিত হলো যে, সবদিক থেকে ইভিএমের ব্যাপারে বিরোধীতা থাকার পরও সিইসিসহ কয়েকজন কমিশনারের একতরফা ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত আগামী নির্বাচন জালিয়াতি করারই চুড়ান্ত মাস্টার প্লান। তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞরা মনে করেন একটি গোপন কোড জানা থাকলেই ইভিএম ভোটিং মেশিনের গণনাপদ্ধতি সম্প‚র্ণ পাল্টিয়ে ফেলা যায়। ভোটার বিহীন আওয়ামী জোটের সরকার জনগণের টাকায় জালিয়াতি করার মেশিন কিনে জালিয়াতির নির্বাচন করতে চায়।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ দল, পেশাজীবী সংগঠন, সুশীল সমাজের বিরোধীতা ও সারা বিশ্ব থেকে প্রত্যাখ্যাত ও নিষিদ্ধ হওয়া এই (ইভিএম) ডিজিটাল মেশিনটি বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনে ১০০ আসনে ব্যবহার করার অনুমোদন করলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ কয়েকজন কমিশনার।
প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগের কল্যাণে কাজ করছে মন্তব্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তিনি ভোটের জন্য রাজনীতি করেন না, জনকল্যাণের জন্যই নাকি তিনি রাজনীতি করেন। আসলে তিনি ঠিকই বলেছেন, শুধু এখানে একটু সংশোধনী হবে, জনকল্যাণের স্থলে হবে আওয়ামী কল্যাণের জন্য তিনি রাজনীতি করেন। আত্মীয়-স্বজনদের অর্থবিত্তে ফুলে ফেঁপে তোলার জন্য রাজনীতি করেন। আর ভোটের জন্য যে তিনি রাজনীতি করেন না সেটির উৎকৃষ্ট প্রমাণ তিনি প্রতিদিনই রাখছেন। জাতীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকারের প্রতিটি নির্বাচিনে তাঁর ভোটারদের প্রয়োজন হয়নি। ভোটারা দ‚র থেকে দেখেছে ভোট ডাকাতির দৃশ্য। সত্যিকারের গণতন্ত্রে সরকার পরিচালনায় যে জনগণের ম্যান্ডেট প্রয়োজন হয় সেটা প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন না। সেজন্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বিনা ভোটের প্রধানমন্ত্রী থাকতেই ভালবাসেন। তাই অনুগত প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ইভিএম নামক ‘যাদুর বাক্স’ আমদানী করে আগামী জাতীয় নির্বাচনে ধাপ্পাবাজীর ভোটের বন্দোবস্ত করছেন। তবে এবার জনগণ সরকারের সকল মাস্টার প্লান ডাস্টবিনে ফেলে দিবে। ভোট নিয়ে অনাচারের পুনরাবৃত্তি জনগণ রুখে দেবে। এবারে জনগণের শিলা-কঠিন ঐক্যে সরকারের সকল পরিকল্পনা ধুলিস্যাৎ হয়ে যাবে।
এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আব্দুস সালাম, আতাউর রহমান ঢালী, কেন্দ্রীয় নেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, শরাফত আলী সপু, আব্দুস সালাম আজাদ, মুনির হোসেন, আমিরুল ইসলাম আলিম, আমিরুজ্জামান খান শিমুল প্রমুখ। ###



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ