Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮, ০৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

দক্ষিণাঞ্চল থেকে কর্মস্থলমুখী জনস্রোত অব্যাহত

ফেরি রুটে অপেক্ষমাণ থাকছে সহস্রাধিক যানবাহন

নাছিম উল আলম : | প্রকাশের সময় : ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:০২ এএম

ঈদ পরবর্তী কর্মস্থলমুখী জন স্রোত অব্যাহত থাকার মধ্যে মাওয়া ফেরিতে যানবাহন পারাপার পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি ঘটেছে। তবে এরপরেও প্রতিদিনই সহস্রাধিক যানবাহন আটকে থাকছে পারাপারের অপেক্ষায়। ঈদের সপ্তাহধিককাল পরেও দক্ষিণাঞ্চল থেকে ঢাকা ছাড়াও চাঁদপুর হয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলের যাত্রীদের ভিড়ে ঠাঁই নেই দক্ষিণাঞ্চলের নদী বন্দর ও লঞ্চঘাটগুলোতে। আজ শনিবার পর্যন্ত এ জন স্রোত অব্যাহত থাকবে। সরকারি নৌযানে তিল ধরার ঠাঁই না থাকায় গত কয়েকদিন ধরে বরিশাল নদী বন্দরে ভিড়তে পারেনি বিআইডব্লিউটিসি’র চাঁদপুর হয়ে ঢাকামুখী রকেট স্টিমার। ঈদ পরবর্তী কর্মস্থলমুখী যাত্রীদের কথা বিবেচনায় না নিয়েই গত শনিবার হতে দক্ষিণাঞ্চল থেকে বিশেষ স্টিমার সার্ভিস বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে কর্মস্থলমুখী যাত্রীদের দূর্ভোগ আর জীবনের ঝুঁকি এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে।
বরিশাল নদী বন্দর থেকে গতকালও ডবল ট্রিপে ১৫টি বেসরকারি নৌযান ধারন ক্ষমতার দুই থেকে তিনগুন যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্যেশ্যে ছেড়ে গেছে। তবে বিআইডব্লিউটিসি’র নিয়মিত রকেট স্টিমার বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ থেকে ছেড়ে সন্যাসী ও বড় মাছুয়াতেই ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুন যাত্রী বোঝাই করায় পিরোজপুর, ঝালকাঠী সহ বরিশাল বন্দরে ভিড়তেই পারছে না। ফলে গত কয়েক দিন ধরে বরিশাল থেকে চাঁদপুরের যাত্রীরা নৌযানের অভাবে চরম বিপাকে পড়ছেন।
এদিকে একনাগাড়ে ৭টি ড্রেজার দিয়ে পলি অপসারন করে লৌহজং চ্যানেলের গভিরতা প্রায় ৯ ফুটে উন্নীত করা সম্ভব হয়েছে। ফলে চ্যানেলটি সব ধরনের ফেরি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়। পদ্মায় যানবাহন পারাপার সংকটের কারনে আরিচায় যানবাহনের বাড়তি চাপ মোকাবেলায় ৪টি রো-রো ফেরি পাটুরিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে ইতোমধ্যে। সেসব ফেরি মাওয়ায় ফিরিয়ে আনার পরে পরিস্থিতির আরো উন্নতি আশা করছেন কর্তৃপক্ষ।
তবে মাওয়ার পদ্মায় ন্যাচারাল চ্যানেল থেকে পলি অপসারন করে গভীরতা ও প্রশস্ততা বৃদ্ধির পরে আগামী সপ্তাহের মধ্যে সব প্রতিবন্ধকতা দূর করার আশা করছেন বিআইডব্লিউটিএ’র দায়িত্বশীল মহল।
তবে মাওয়া’র শিমুলিয়া-কাঠালবাড়ী রুটে পারাপার পরিস্থিতির উন্নতি ঘটলেও এখনো দেশের সবগুলো গুরুত্বপূর্ণ ফেরি রুটে যানজট লেগে আছে। মাওয়া থেকে অতিরিক্ত ৪টি রো-রো ফেরি মোতায়েনের পরেও আরিচায় গতকাল সকালের পূর্ববর্তী ২৪ ঘন্টায় যানবাহন পারাপার খুব উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে বাড়েনি। ফেরির অভাবে ভোলা-লক্ষীপুর এবং ভোলা-বরিশালের মধ্যবর্তী ফেরি রুটগুলোতে পারাপারকৃত যানবাহনের চেয়ে বেশী অপেক্ষমান ছিল।
গতকাল সকাল ৬টার পূর্ববর্তী ২৪ ঘন্টায় দেশের প্রধান ফেরি রুটে বিআইডব্লিউটিসি প্রায় ৯ হাজার ১৩৮টি যানবাহন পারাপর করলেও অপেক্ষমান ছিল আরো সহস্রাধিক। এর মধ্যে আরিচা পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে ছয় হাজারেরও বেশী যানবাহন পারপারের পরেও গতকাল সকালে অপেক্ষমান ছিল আরো সোয়া ৩শ’ র মত। তবে সকাল থেকে গতকাল দুপুর ৩টা পর্যন্ত আরো প্রায় ২ হাজার ৩ শ’র মত যানবাহন পারাপারের ফলে অপেক্ষমানের সংখ্যা দেড়শতে হ্রাস পায়।
অপরদিকে মাওয়ায় গতকাল সকালের পূর্ববর্তী ২৪ ঘন্টায় প্রায় ২ হাজার ৪শ’ যানবাহন পারপারের পরেও প্রায় সোয়া ২শ’ অপক্ষেমান ছিল। দুপুর ৩টা পর্যন্ত আরো প্রায় ৮শ’ যানবাহন পারাপার করেছে বিআইডব্লিউটসি। তবে এর পরেও অপেক্ষমান ছিল আরো প্রায় ১শ’। গতকাল ৭টি করে কে-টাইপ ও ডাম্ব ফেরি ছাড়াও ২টি মিডিয়াম ও ১টি স্মল ফেরি চলাচল করছিল। অবিলম্বে ৪টি রো-রো ফেরি এখানে ফিরিয়ে আনলে পরিস্থিতির আরো উন্নতি ঘটবে।
তবে গতকাল সবচেয়ে খারাপ অবস্থা ছিল ভোলা-লক্ষীপুরে ইলিশা-মজু চৌধুরীর হাট রুটে। গতকাল সকালের পূর্ববর্তী ২৪ ঘন্টায় দুটি কে-টাইপ ফেরির সাহায্যে মাত্র ১১৪টি যানবাহন পারাপার সম্ভব হলেও অপেক্ষমান ছিল দ্বিগুনেরও বেশী, ২৩০টি। ৩টি কে-টাইপ ফেরির মধ্যে ‘কলমিলতা’ বিকল হয়ে পড়ায় সংকট ভয়াবহ আকার ধারন করেছে। প্রায় একই পরিস্থিতি ভেদুরিয়া-লাহারহাট রুটেও। প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ ফেরি রুটে ৩টি ইউটিলিটি ফেরির ১টি বিকল। ফলে গত ২৪ ঘন্টায় ২২৮টি যানবাহন পারাপার হলেও অপেক্ষমান ছিল আরো প্রায় সোয়াশ’। অথচ এ দুটি ফেরি রুটের ওপরই দেশের ৩টি বিভাগ, চট্টগ্রাম-বরিশাল ও খুলনা ছাড়াও ৩টি সমুদ্র বন্দরের সরাসরি সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা নির্ভরশীল। কিন্তু প্রয়োজনীয় ফেরির অভাবে দেশের অতি জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক পথে যানবাহন চলাচল নির্বিঘ্ন হচ্ছেনা। অথচ এ সড়ক পথে চট্টগ্রাম থেকে বরিশাল ও খুলনার দুরত্ব অর্ধেকেরও কম।
এদিকে চাঁদপুর-শরিয়তপুর রুটেও গতকাল ২১৫টির মত যানবাহন পারপার সম্ভব হলেও অপেক্ষমান ছিল আরো প্রায় ৭৫টি। গত কয়েক বছর ধরে বিআইডব্লিটিসি ঈদের আগে-পরের দশদিনে দেশের ফেরিগুলোতে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজারের মত যানবাহন পারাপার করে বিপুল রাজস্ব আয় করলেও এবার তা সম্ভব হয়নি মাওয়া পদ্মায় গভীরতা সংকটে। পাশাপাশি আকষ্মিক প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় স্রোতের তীব্রতায় আরিচায়ও ফেরি চলাচল যথেষ্ঠ বিঘ্নিত হয়। ভোলা-লক্ষীপুর ও ভোলা-বরিশাল ফেরি সংকট পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর